মহানবী (সা.)-এর হুঁসিয়ারি, এই দশটি কাজ করলে দশটি বিপদ অবধারিত

কিয়ামত পর্যন্ত তার উম্মতরা যাতে ন্যায়ের পথে থেকে চলতে পারে সেজন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। এ সম্পর্কিত একটি হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো। হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ- রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যখন আমার উম্মত ১০টা কাজ করবে, তখন তাদের উপর বিপদ নেমে আসবে। রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ হে রাসূল, কি সেই দশটি কাজ? যা করলে বিপদ হবে? তিনি বললেনঃ

১। যখন রাস্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করা হবে।
২। যখন আমানত হিসেবে রক্ষিত সম্পদকে লুটের মাল হিসাবে গ্রহণ করা হবে (অর্থাৎ আত্মসাৎ করা হবে)।
৩। যাকাতকে জরিমানার মত মনে করা হবে।
৪। স্বামী যখন স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং মায়ের অবাধ্য হবে।
৫। বন্ধুর প্রতি সদাচারী ও পিতার সাথে দুর্ব্যবহারকারী হবে।
৬। মসজিদে হৈ চৈ হবে।
৭। জনগণের নেতা হবে সেই ব্যক্তি যে তাদের মধ্যেকার সবচেয়ে নিকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী।
৮। মানুষকে তার ক্ষতির আশংকায় সম্মান করা হবে।
৯। গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের হিড়িক পড়ে যাবে।
১০। উম্মতের পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদেরকে অভিশাপ দেবে। তখন আগুনের বাতাস আসবে, মাটির ধস ও দেহের বিকৃতি ঘটবে।” সহীহ তিরমিযী; আততারগীব ওয়াত তারহীবঃ ৩য় খন্ডঃ ১৫৪১।

চাশতের নামাজ মানুষের যে উপকারে আসে

সংক্ষিপ্ত সময়ে অল্প নামাজে অনেক উপকার লাভ করা যায়। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরজ নামাজের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সময় অনেক নামাজ আদায়কে সুন্নাত বলেছেন এবং তা আদায়ে পরামর্শ দিয়েছেন। এমনই একটি নামাজ হলো ‘সালতুস চাশত বা চাশতের নামাজ’। এ নামাজকে সালাতুজ জোহাও বলা হয়।

মানুষের শরীরে ৪ হাজারের ওপরে জোড়া রয়েছে। এ সব জোড়ার হক আদায় করা বা সাদকা আবশ্যক। যেমন প্রতিটি তাসবিহ-তাহলিল বা সৎকাজের আদেশ-নিষেধ বা পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ইত্যাদি কাজে এক-একটি জোড়ার হক আদায় হয়।

এভাবে সারা দিনে শরীরের প্রতিটি জোড়ার হক আদায় করা বা ৪ হাজার ভালো কাজ করা মানুষের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। তবে প্রিয়নবির ঘোষণায় এমনই একটি ইবাদত হলো ‘চাশতের নামাজ’। যা আদায় করলে এ সব হক আদায় হয়ে যায়।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে চাশতের নামাজের এ প্রয়োজনীয়তা ও উপকার তুলে ধরেছেন-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমার আন্তরিক বন্ধু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে তিনটি অসিয়ত করেছেন।

চাশতের নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব বর্ণনায় অন্য হাদিসে এসেছে-
হজরত আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, প্রিয়নবি বলেছেন, ‘সকালে তোমাদের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাদকা করা আবশ্যক। প্রতিটি তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) সাদকা; প্রতি তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) সাদকা। প্রতিটি তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) সাদকা; প্রতিটি তাকবির (আল্লাহু আকবার) সাদকা। সৎ কাজের আদেশ দেয়া সাদকা। অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা সাদকা। আর এগুলোর পরিবর্তে যথেষ্ট হবে চাশতের ২ রাকাআত নামাজ আদায় করা। (মুসলিম)

চাশতের নামাজের রাকাআত ও পড়ার সময়
সূর্য একটি বল্লমের সমান তথা ১ মিটার পরিমাণ ওপরে উঠার পর এ নামাজ পড়তে হয়। অর্থাৎ সুর্যোদয়ের পর ইশরাক নামাজ আদায়ের সময় থেকে শুরু করে দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত এ নামাজ পড়া যায়।

আরববরা বলত, ‘চাশতের নামাজের সর্বোত্তম সময় হলো- সূর্যোদয়ের পর উটের বাচ্চা যখন গরম অনুভব করে; সে সময়টি হলো চাশতের নামাজের সময়।

চাশতের নামাজ কমপক্ষে ২ রাকাআত পড়তে হয়। বেশির কোনো সীমা নেই। তবে কেউ কেউ ১২ রাকাআতের কথা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং প্রতিদিন সাধ্যমত ২, ৪ বা সময় সাপেক্ষে আরো বেশি পড়া যেতে পারে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর দেয়া সেরাদান শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাদকা আদায়ের তাওফিক দান করুন।

জেনে নিন কেন খাবেন ইসবগুলের ভুসি

ইসবগুলের অনেক উপকারিতা রয়েছে।
কোষ্ঠকঠিন্যতায় : এ সমস্যা হলে ৫-১০ গ্রাম ইসবগুল নিয়ে ১ কাপ ঠাণ্ডা বা গরম পানিতে আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে তাতে ২-৩ চামচ চিনি মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে বা রাতে শোয়ার আগে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক উপাদান যা আমাদের পেটের পীড়া, কোষ্ঠকঠিন্যতায় উপকারী। যারা দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকঠিন্যতায় ভুগছেন তারা ২ মাস নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকঠিন্য দূর হবে। পেট স্বাভাবিক হলে সপ্তাহে ১-২ দিনের বেশি না খাওয়াই ভালো। বেশি মাত্রায় খেলে ডায়রিয়ার সমস্যা হতে পারে।

পেট পরিষ্কারে ওষুধের চেয়ে ইসবগুল অনেকগুণে উপকারী। সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে অর্শ্বরোগের সৃষ্টি হয়। অর্শ্বরোগ অনেক সময় ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতেও রূপান্তরিত হতে পারে। এসব সমস্যার শুরু থেকে সমাধান করতে ইসবগুলের ভুসি উপকারী। ওষুধ পেটকে কেমিক্যালাইস করে; ইসবগুলের ভুসি প্রাকৃতিকভাবে আমাদের সুস্থ রাখে। প্রতি রাতে ভুসি খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করলে আমাশয় থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

ইসবগুল আমাশয়ের জীবাণু ধ্বংস করতে পারে না, তবে বের করে দিতে পারবে। তাই আমাশয়ের রোগীরা সকালে ও রাতে একগ্লাস ইসবগুলের শরবত খেলে উপকার পাবে। ওষুধ খেয়ে আমাশায় ঠিক করলে জীবাণুগুলো পেটের ভেতরে মরে গেলেও শরীর থেকে বের হয় না; যার কারণে আবারও আমাশায় রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে।

যাদের ইউরিনে জ্বালাপোড়া আছে তারা সকালে-বিকালে শরবতের সঙ্গে ইসবগুলের ভুসি খেলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমবে এবং ইউরিনের রং স্বাভাবিক হয়ে যাবে। হাতে, পায়ে জ্বালাপোড়া ও মাথা ঘোরানো রোগে আখের গুড়ের সঙ্গে ইসবগুলের ভুসি মিলিয়ে সকাল-বিকাল এক সপ্তাহ খেলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে।

জেনে নিন, যে ৫ সময়ের প্রার্থনা মহান আল্লাহ কবুল করেন

দোয়া মানে প্রার্থনা। আল্লাহ মহানের কাছে কিছু চাওয়া। আবদার করা বা কোনো সমস্যা-বিপদ থেকে উত্তরণের জন্য আকুতি জানানো। আল্লাহ মহানের শান হচ্ছে- বান্দা তার কাছে চাইলে (প্রার্থনা বা দোয়া) খুশি, আর না চাইলে তিনি অ-খুশি হন।

যে কোনো কাজেরই সুনির্দিষ্ট একটি সময় রয়েছে। কখন দোয়া করলে তা অবশ্যই কবুল কবে বা কখন দোয়া করা একেবারই উচিত না- ইসলামে এমন বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা রয়েছে। কারণ ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।

বিভিন্ন হাদিস এমন কিছু সময়ের কথা আলোচিত হয়েছে যখন কোনো দোয়া বা প্রার্থনা করলে অবশ্যই তা আল্লাহ মহানের দরবারে কবুল হয়। চলুন তাহলে আর দেরি না করে জেনে নেই কখন বা কোন সময় দোয়া করলে অবশ্যই তা কবুল হয়।

এবার জেনে নিন, যে ৫ সময়ের প্রার্থনা মহান আল্লাহ কবুল করেন :-

১. রাতের শেষ তৃতীয়াংশের যদি দোয়া করা হয়, তাহলে তা কবুল হয়- রাতের শেষ তৃতীয়াংশের দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ মহান সবচেয়ে কাছের আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকছো? আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে চাইছো? আমি তাকে তা দেব। কে আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী’ আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। (মুসলিম)

২. জুমার দিনের দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়- হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) আমাদের একদিন শুক্রবারে ফজিলত নিয়ে আলোচনা করছিলেন । আলোচনায় সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যে সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় পায় এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ মহান অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসূল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টা সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন।’ (বুখারি)

৩. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কবুল হয়- হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া করা হলে তা ফিরিয়ে দেয়া হয় না।’ (তিরমিজি)

৪. সেজদারত অবস্থায় দোয়া করা হলে তা কবুল হয়- রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে সময়টাতে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটতম অবস্থায় থাকে তা হলো সেজদারত অবস্থা। সুতরাং তোমরা সে সময় আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাও বা প্রার্থনা করো।’ (মুসলিম)

৫. জমজমের পানি পান করার সময়ের দোয়া করা হলে তা কবুল হয়- রাসূল (সা.) বলেন, ‘জমজম পানি যে নিয়তে পান করা হবে, তা কবুল হবে।’ অর্থাৎ এই পানি পান করার সময় যে দোয়া করা হবে, ইনশাআল্লাহ তা অবশ্যই কবুল হবে। (ইবনে মাজাহ)

গাছের সঙ্গে বিয়ে

মেক্সিকোর ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বনাঞ্চল। এই বনাঞ্চলের প্রায় অর্ধেকই প্রাকৃতিক। গাছের এই প্রাচুর্যের দিকে চোখ পড়েছে নানা অপরাধী চক্রের। চলছে রমরমা অবৈধ গাছ-বাণিজ্য। গাছ কেটে উজাড় করে ফেলা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সোচ্চার সাধারণ মানুষও। গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে গতকাল রোববার মেক্সিকোর ওহাকা প্রদেশে এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল দেশটির কিছু পরিবেশবাদী সংগঠন। অবৈধভাবে গাছ কাটার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে তারা গাছের সঙ্গে মানুষের প্রতীকী বিয়ের আয়োজন করেছিল। শত বছরের প্রাচীন রীতি-নীতি অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তির বিয়ে হয়েছে গাছের সঙ্গে।

বিয়ে বলে কথা, হোক তা মানুষের সঙ্গে গাছের—খাওয়াদাওয়ার আয়োজনও আছে। অতিথিদের মধ্যে খাবার বিতরণ করছেন একজন। ছবি: রয়টার্সবিয়ে বলে কথা, হোক তা মানুষের সঙ্গে গাছের—খাওয়াদাওয়ার আয়োজনও আছে। অতিথিদের মধ্যে খাবার বিতরণ করছেন একজন। 

গাছ হলো স্বামী! বিয়ের পোশাক পরে গাছের সঙ্গে আলিঙ্গন করছেন নববধূ। ছবি: রয়টার্সগাছ হলো স্বামী! বিয়ের পোশাক পরে গাছের সঙ্গে আলিঙ্গন করছেন নববধূ।

ধর্মীয় ও স্থানীয় রীতি অনুসারে বিয়ে হচ্ছে গাছের সঙ্গে মানুষের। ছবি: রয়টার্সধর্মীয় ও স্থানীয় রীতি অনুসারে বিয়ে হচ্ছে গাছের সঙ্গে মানুষের। 

এ গাছটিকেই বিয়ে করেছেন এই ব্যক্তি। বিয়ের পর গাছের সঙ্গে আলিঙ্গন করছেন তিনি।এ গাছটিকেই বিয়ে করেছেন এই ব্যক্তি। বিয়ের পর গাছের সঙ্গে আলিঙ্গন করছেন তিনি।

বিয়ের পর গাছ চুমু খাচ্ছেন এই কনে। ছবি: রয়টার্সবিয়ের পর গাছ চুমু খাচ্ছেন এই কনে। 

বিয়ের পর আলিঙ্গনবদ্ধ নবদম্পতি! ছবি: রয়টার্সবিয়ের পর আলিঙ্গনবদ্ধ নবদম্পতি! 

বিয়ে শেষে হাতের ফুলের তোড়া আকাশের দিকে ছুড়ে দিয়েছেন কনেরা। ছবি: রয়টার্সবিয়ে শেষে হাতের ফুলের তোড়া আকাশের দিকে ছুড়ে দিয়েছেন কনেরা।

জানেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কেন দাড়ি রাখা যায় না

দাড়ি রাখার অপরাধে এক জওয়ানকে বসিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা সত্যি। কারণ, সেনাবাহিনীতে দাড়ি রাখার নিয়ম নেই। কেবলমাত্র ধর্মীয় কারণে দাড়ি রাখতে দেওয়া হয়। আর এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে পেতে হয় শাস্তি।

ওই জওয়ান সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও তার আর্জি খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু কেন এমন অদ্ভুত নিয়ম? কেন সেনাবাহিনীতে ক্লিন সেভ করাটা বাধ্যতামূলক?

সেনাবাহিনী কখনই দাড়ি বা চুল বড় করতে দেয় না। কান ঢেকে যায়, এমন চুল রাখা যায় না। শৃঙ্খলা ও সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য এমন নিয়ম। আবার ডোগরা রেজিমেন্টে সবাই গোঁফ রাখেন। সেটাও একই শেপের হতে হবে। কারণ, সেনাবাহিনীতে কেউ আলাদা নয়। সবাই একটা সিস্টেমের অংশ মাত্র। তাই নিজেকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন ভাবাটা সেনাবাহিনীর নিয়ম নয়।

শিখ সৈনিকরা কেন দাড়ি রাখেন?

শিখদের ক্ষেত্রে অন্য নিয়ম। তাদের মাথায় পাগড়িতে ঢাকা বড় চুল ও দাড়ি থাকে। কারণ শিখধর্মে পাঁচটি ‘ক’ মেনে চলা বাধ্যতামূলক- কেশ, কাংঘা, কারা, কাচ্চা, কৃপাণ। কেশ অর্থাত্‍ চুল কাটা যাবে না। তাই, শিখদের ক্ষেত্রে চুল রাখতে দেওয়া হয়। আর তারা চুল ছোট রাখুন বা বড়, চুল রাখাটা তাদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। যতদিন চাকরি করবে, ততদিন চুল রাখতেই হবে শিখ সৈনিকদের।

মুসলিমদের ক্ষেত্রে নয় কেন?

অনেকেই হয়ত ভাবেন যে ইসলাম ধর্মে দাড়ি রাখাটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তা নয়, ইসলামে এটা একজন পুরুষের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে যে তারা দাড়ি রাখবে কিনা। দাড়ি কাটার জন্য তাদের কোনও ধর্মীয় বিধান নেই। তাই তাদের ক্ষেত্রে দাড়ি রাখার বিষয়টি অনুমোদন করা হয় না।

তবে, ভারতের বাইরে অনেক দেশেই সেনাবাহিনীতে দাড়ি রাখতে দেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যারা দাড়ি রাখে আর যারা ক্লিন সেভ তাদের জন্য আলাদা আলাদা রেজিমেন্ট আছে।

কারিনার এই হ্যান্ড ব্যাগের দাম জানলে আপনার চোখও কপালে ওঠবে

একটা চারচাকা গাড়ির চেয়ে কারিনা কাপুরের ব্যাগের দাম বেশি! কথাটা শুনেই চোখ কপালে উঠেছে তো? কিন্তু এত অল্পেতে এরকম উত্তেজনা হলে চলবে কেন? আগে পুরো ঘটনাটা শুনে নিন, তারপর তো প্রতিক্রিয়া দেবেন। আসলে কারিনা কাপুরের আইকনিক বারকিন ব্যাগের দাম আট লক্ষ।

অথচ দেশের বাজারে দুই লক্ষ টাকায় দিব্যি গাড়ি পাওয়া যায়। যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে তিনি নিজের স্টাইল এবং ফ্যাশনের জন্য সবসময় এগিয়ে থাকতেই পছন্দ করেন। কারণ তিনি যে সে নয় একেবারে কাপুর খানদানের কন্যা। তায় আবার নবাব ঘরণীও। এহেন কারিনা কাপুরের ব্যাগের দাম যে আকাশছোঁয়া হবে এটাই স্বাভাবিক।

তবে সম্প্রতি বিমানবন্দরে সাইফ পত্নীর হাতে থাকা একটি কালো রঙের ব্যাগ এই আলোচনায় আবার ধোঁয়া দিয়েছে। এদিন বন্দর থেকে বেরোনোর সময় পাপারাৎজির হাতে ক্যামেরাবন্দি হন তিনি। পরনে গোলাপি কামিজ। আর হাতে ফ্রান্সের বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ‘হার্মিস’-এর তৈরি করিনার এই আইকনিক বারকিন ব্যাগ। যার দাম প্রায় আট লক্ষ রুপি।

এই ব্যাগটি নিয়ে কারিনা শুধু বিমানবন্দরেই যান তা নয়। টুকিটাকি কাজেও এই ব্র‌্যান্ডের ব্যাগ নিয়েই বেরিয়ে পড়েন রণধীর কন্যা। ভারতে টাটা সংস্থার ব্যক্তিগত গাড়ি কিনতে পাওয়া যায় দুই লক্ষ টাকায়। সেই তুলনায় কারিনার ব্যাগের দাম অনেক বেশি। হার্মিসের তৈরি বিলাসবহুল সব ব্যাগের প্রতি কারিনার ভাললাগা একটু বেশিই। তাই বেড়াতে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন সব নিয়মিত কাজে, তার হাতে থাকে এই নামী ব্র্যান্ডের ব্যাগ।

তাকে এই ব্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘এই কোম্পানির ব্যাগ ছাড়া অন্য কোনও ব্যাগ আমি খুব কমই ব্যবহার করি। তবে আমি কিন্তু একটা ব্যাগ একবার ব্যবহার করেই সরিয়ে রাখি না। অনেক সময় এমনও হয়, একবারে ৫-৬টা ব্যাগ কিনে ফেলার পর প্রায় ২ বছর পর্যন্ত আমি আর কোনও ব্যাগই কিনি না। তাই আমি অকারণ টাকার অপচয় করি এটা ভেবে ফেলার কোনও কারণ আমি দেখছি না।’

তবে শুধু তিনিই নন, বি-টাউনে সোনম কাপুর বা দীপিকা পাড়ুকোনের মতো অভিনেত্রীরাও কিন্তু এই ব্যাগের বিরাট বড় ফ্যান।

কে সেই ভয়ঙ্কর সম্রাট যার আট স্ত্র্রীর করুন পরিণতি হয়েছিল

‘‘কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট। রক্তজমাট শিকল পুজোর পাষাণবেদী…..” কাজী নজরুলের মত এরকম হাজার লেখক যুগে যুগে অত্যচারী শাসকের বিরুদ্ধে রচনা করেছে বহু কবিতা, গান,উপন্যাস।কেউ লেখনির মাধ্যমে,আবার কেউ দলবদ্ধ হয়ে অত্যচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছে।

তবুও যুগে যুগে অত্যচারী শাসকের দেখা মিলেছে।তেমনি একজন অত্যাচারী শাসক চর্তুথ আইভান ভেসিলিভিখ।তিনি ‘আইভান দ্য টেরিবল’ বা ভয়ঙ্কর আইভান! নামে পরিচিত। তিনি রাশিয়ান গ্র্যান্ড প্রিন্স তৃতীয় আইভান ভেসিলিভিখ এর নাতি।১৫৩০ সালের ২৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করে চর্তুথ আইভান ভেসিলিভিখ।

১৫৪৭ থেকে ১৫৮৪ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত রাশিয়ার জার তথা সম্রাট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি। তার শাসনামলেই কাজান, আস্ত্রাখান ও সিবির খানাত জয়ে সক্ষম হয় রাশিয়া। ফলে সেটি প্রায় ৪০,৫০,০০০ বর্গ কিলোমিটারের বিশাল এক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। মধ্যযুগীয় কেবল একটি প্রদেশ থেকে রাশিয়াকে বিশাল সাম্রাজ্যে রুপান্তরের কারিগর ছিলেন আইভান।

এত অর্জনের থাকলেও ব্যাক্তি জীবনে মোটই সুখী ছিলেননা তিনি।তিনি ভয়ঙ্কর রাগী ছিলেন। ‘রাগ’ নামক পশুটা মাঝে মাঝে এতটাই লাগামছাড়া হয়ে যেত যে, তখন সেটাকে সামাল দেয়াই হয়ে উঠতো কষ্টকর। এইরকম ভয়ঙ্কর সম্রাটের জীবনে একে একে আসল আটটি স্ত্রী।প্রথম স্ত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও বাকিদের র্নিমম পরিনতি হয়েছিল।

১ম স্ত্রী: ১৫৪৭ সালে মাত্র ষোল বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন আইভান। অল্প কয়েকদিনের মাঝেই সম্রাট একাকীত্ব অনুভব করতে শুরু করলেন। রাজ্য আছে, চাকর-বাকর আছে, আছে বিশাল এক সেনাবাহিনী; তবু মনের কথা একান্তে বলবার জন্য মনের মানুষই যে নেই! এজন্য সিংহাসন প্রাপ্তির দু’সপ্তাহের মাঝেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন রাজা।

রাজার বিয়ে বলে কথা। সারা রাশিয়া থেকে প্রায় ১,৫০০ অভিজাত পরিবারের বাবারা সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন তাদের মেয়েদের, উদ্দেশ্য আদরের মেয়েটিকে সম্রাজ্ঞী বানাবেন। ক্রেমলিনে জড়ো হওয়া এতসব পাত্রীর মাঝে সেদিন আনাস্তাশিয়া রোমানোভ্‌না নামের এক তরুণীও ছিলো। শত শত তরুণীকে বাদ দিয়ে আইভানের ভালো লেগে যায় তাকেই। ব্যাস, এবার তাহলে বিয়ে হয়ে যাক!

১৫৪৭ সালে শুরু হয় আইভান-রোমানোভ্‌নার সুখের সংসার। তাদের ভালোবাসার ফসল হিসেবে সংসারে এসেছিলো ছয়টি সন্তান। কিন্তু সুখের এ সংসার খুব বেশিদিন টিকে রইলো না। ১৫৬০ সালের দিকে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন সম্রাজ্ঞী। রাজ্যের সেরা চিকিৎসকদের চিকিৎসাতেও কোনো লাভই হচ্ছিলো না, দিন দিন স্বাস্থ্যের কেবল অবনতিই ঘটছিলো। অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে সেই বছরই পরপারে পাড়ি জমান তিনি।

এ ঘটনার পর ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে পড়েন সম্রাট আইভান। তিনি ভাবতে শুরু করেন তাকে হত্যা করতে গিয়েই হয়তো তার স্ত্রীকে বিষ মেশানো কিছু খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাশিয়ান বয়ারদের উপর আগে থেকেই ক্ষোভ ছিলো আইভানের। এ দুর্ঘটনা যেন সেই আগুনে ঘি ঢেলে দিলো। এরপর বিনা বিচারে অগণিত মানুষকে নির্মম নির্যাতন সইতে হয়েছে, মারাও গিয়েছে অনেকে।

ঐতিহাসিকগণ বলে থাকেন, রোমানোভ্‌নার মাঝে এক বিশেষ কোমলতা ছিলো যা আইভানের উন্মত্ততাকে বশীভূত করতে পারতো সহজেই। তার মৃত্যুই যেন শেকলে বাঁধা হিংস্র হায়েনাকে আরো উন্মত্ত করে ছেড়ে দেয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা থেকে ধারণা করা হয় যে, সম্রাজ্ঞীকে খুন করতে সম্ভবত পারদই ব্যবহার করা হয়েছিলো বিষ হিসেবে। তবে সেটাও পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ তৎকালে ওষুধ হিসেবেও এর প্রচলন ছিলো।

২য় স্ত্রী: রোমানোভ্‌নার মৃত্যুর এক বছর পরেই মারিয়া তেম্রিয়ুকোভ্‌না কে সম্রাজ্ঞী করে ঘরে তোলেন আইভান। কিন্তু নতুন সম্রাজ্ঞীকে মন থেকে কেউই মেনে নিতে পারছিলো না, সবাই তাকে ভয় পেতো। এমনকি অনেকে বলতো তাকে নাকি দেখতে ডাইনীদের মতো লাগে! অনেকেই ভাবতো নতুন সম্রাজ্ঞী হয়তো তাদের সম্রাটকে দিয়ে নিজের কার্যসিদ্ধি করিয়ে নিচ্ছেন।

আইভানের প্রথম সংসারে ছয় সন্তানের জন্ম হলেও এদের চারজনই শৈশবে মারা যায়, বেঁচে থাকে শুধু দুজন- আইভান ও ফিওদর। এ দুজনকে সহ্যই করতে পারতেন না মারিয়া। মারিয়ার গর্ভে আইভানের এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়, নাম ছিলো তার ভাসিলি। কিন্তু দুর্ভাগা ভাসিলি জন্মের মাসখানেক পরই মারা যায়।

এভাবে আট বছর মারিয়ার সাথে সংসার টিকে ছিলো আইভানের। অবশেষে ১৫৬৯ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান আইভানের এ জীবনসঙ্গিনীও। গুজব আছে যে, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নাকি সম্রাট নিজেই বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছিলেন। তবে রাজা কখনো এর সত্যতা নিশ্চিত করেন নি। বরঞ্চ মারিয়াকে খুনের অভিযোগ এনে আবারো অনেক লোককে নির্যাতন আর হত্যার মাধ্যমে মনের জ্বালা মেটান তিনি।

৩য় স্ত্রী: তৃতীয় এ বিয়ের সময় আবারো প্রথম বিয়ের মতো পাত্রীর সন্ধান করেন তিনি।অবশেষে সকল পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে রাশিয়ার নতুন সম্রাজ্ঞী হবার যোগ্যতা অর্জন করেন মার্ফা সোবাকিনা। ১৫৭১ সালের ২৬ জুন আইভানের সাথে সোবাকিনার বাগদান সম্পন্ন হয়। এতকিছু করেও শেষ রক্ষা হলো না।

বিয়ের অল্প কয়েকদিনের মাথায় মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন নতুন সম্রাজ্ঞী। অবশেষে বিয়ের সাজসজ্জা রাজপ্রাসাদ থেকে ঠিকমতো মুছে যাবার আগেই মাত্র দু’সপ্তাহের মাথায় মারা যান সোবাকিনা। তখন তার বয়স হয়েছিলো মাত্র ১৯ বছর। সোবাকিনার মৃত্যুর কারণ হিসেবেও বিষপ্রয়োগকেই মূল কারণ হিসেবে দেখেন অধিকাংশ ইতিহাসবেত্তা।

৪র্থ স্ত্রী: আগের তিন স্ত্রীর মৃত্যুর পেছনের কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছিলো বিষ প্রয়োগকে। তাই এবার রানী নির্বাচনের ব্যাপারে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করলেন আইভান। অনেক ভেবে-চিন্তে তিনি ঘরে তুললেন অ্যানা কল্‌তোভ্‌স্কায়া কে।

ওদিকে সম্রাটের সাথে এ বিয়ে নিয়ে ঝামেলা বেধে যায় রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের। কারণ চতুর্থ বিয়ে তারা কখনোই স্বীকৃতি দেয় না। তাদের দৃষ্টিতে এটি ধর্মবিরোধী এক কাজ।  তাই চার্চের আশীর্বাদ ছাড়াই বিয়ে করে এক ছাদের নিচে বসবাস শুরু করেন আইভান-অ্যানা দম্পতি।

বিয়ের দু’বছর পরও অ্যানার গর্ভে কোনো সন্তান না আসায় ধৈর্যের বাধ ভেঙে যায় আইভানের। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন অ্যানাকে একটি আশ্রমে পাঠিয়ে দেবার। সেখানে মাটির নিচের এক অন্ধকার কুঠুরিতেই বন্দী করে রাখা হয় তাকে। আইভানের মৃত্যুর পরও জীবিত ছিলেন অ্যানা। আশ্রমের কর্তৃপক্ষ তখন তাকে মুক্তি দিতে চাইলেও তিনি আর সেই কুঠুরি ছেড়ে যেতে চান নি। অবশেষে ১৬২৬ সালে আশ্রমের সেই অন্ধকার ঘরেই মারা যান তিনি।

৫ম স্ত্রী. অর্থোডক্স চার্চের নিয়মানুযায়ী আর কোনো বিয়ে করারই অধিকার ছিলো না আইভানের। ওদিকে ১৫৭৩ সালের নভেম্বর মাসে মারিয়া দোল্গরুকায়ার প্রেমে পড়ে যান আইভান। তার শয়নে-স্বপনে-জাগরণে তখন কেবলই মারিয়ার ছবি ভাসতো। তাই প্রেমের ডাকে সাড়া দিতে গোপনে মারিয়ার সাথে বিয়ের কাজটা সেরে ফেলেন তিনি।

গোলমাল বেধে যায় বাসর ঘরে। সেই রাতে স্ত্রীর সতীত্ব নিয়ে আইভানের মনে সন্দেহ দেখা দেয়। ব্যাস, আর যায় কোথায়! সম্রাটের সন্দেহ বলে কথা। রাগে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যান তিনি, আদেশ দেন সম্রাজ্ঞীকে ঘোড়ার লেজের সাথে বাঁধার জন্য। এরপর ঘোড়াগুলোকে আঘাত করলে সেগুলো ছুটতে শুরু করে। মারিয়ার শেষ পরিণতি যে কী হয়েছিলো তা বোধহয় না বললেও চলে।

৬ষ্ট স্ত্রী: একবার আইভান গিয়েছিলেন প্রিন্স পিটার ভাসিলচিকভের সাথে দেখা করতে। সেখানে গিয়েই তার নজর পড়ে পিটারের সপ্তদশী কন্যা অ্যানার দিকে। অ্যানার রুপ-লাবণ্যে আইভানের পাগল হবার দশা হয়। আবারো বিয়ের রঙ উঁকি দিয়ে যায় তার মনে। পরদিন তাই ঘটকের মাধ্যমে সম্বন্ধ চলে যায় অ্যানার বাবার কাছে।

মেয়েকে আইভানের হাতে তুলে দিতে তার মন সায় দিচ্ছিলো না। ওদিকে সম্রাটের পক্ষ থেকে পাঠানো ঘটকদের “না” বলার সাহসটুকুও তার ছিলো না। তাই অ্যানা ভাসিল্‌চিকোভাহন আইভানের নতুন সম্রাজ্ঞী।কিন্তু দু’বছর পর অ্যানাকেও পাঠিয়ে দেয়া হয় এক আশ্রমে। সেখানে বন্দী অবস্থাতেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ধারণা করা হয়, এর পেছনে আইভানের নির্দেশ ছিলো।

৭ম স্ত্রী: ভাসিলিসা মেলেন্তিয়েভা ছিলেন আইভানেরই পরিচিত এক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তির স্ত্রী। লোকটির অসুস্থতার খবর শুনতে পেরে তিনি তাকে দেখতে আসেন। তখনই ভাসিলিসার দিকে নজর পড়ে যায় আইভানের, আবারো জেগে ওঠে তার প্রেমিক সত্ত্বা। স্বামীর মৃত্যুর অল্প কিছুদিন পরই তাই ভাসিলিসাকে দেখা যায় আইভানের প্রাসাদে চলে আসতে।

দুই বছর ধরে সুখেই সংসার করেন তারা। কিন্তু একটি বড় সত্যের কথা জানতেন না আইভান। ভাসিলিসা বিয়ের পর লুকিয়ে লুকিয়ে চুটিয়ে আরেকটি প্রেমও করছিলেন। একদিন শোবার ঘরে এসে স্ত্রীকে তার প্রেমিকার সাথে আবিষ্কার করেন আইভান!

যাহ্‌ বাবা! সব তো শেষ এখানেই। কীসের প্রেম, কীসের স্ত্রী! আবারো পাগলা কুকুরের মতোই ক্ষেপে উঠলেন সম্রাট আইভান। তার সাথে প্রতারণা! তার ভালোবাসা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা! এমনটা কিছুতেই বরদাশত করতে পারলেন না তিনি। সম্রাটের নির্দেশে দুজনকেই বন্দী করা হয়। এরপর একটি গর্ত করে দুজনকেই সেখানে পুঁতে ফেলা হয়। কথিত আছে, ভাসিলিসাকে জীবন্তই মাটি চাপা দেয়া হয়েছিলো।

৮ম স্ত্রী: মারিয়া ফিওদোরভনা নাগোয়া ছিলেন অাইভানের সর্বশেষ সহধর্মিনী  শুরুর দিকে সুন্দরী মারিয়াকে নিয়ে সুখেই দিন কাটছিলো বুড়ো আইভানের। কিন্তু সবসময় স্ত্রীকে মনমরা থাকতে দেখে একসময় তার মনও বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠে নতুন স্ত্রীর প্রতি।

তাই এই স্ত্রীকে শেষ করে কীভাবে আরেকজন সম্রাজ্ঞী ঘরে আনা যায়, সেই ছকও কষতে শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আফসোস, নতুন স্ত্রী ঘরে আনার আগেই আইভানের পরপারের ডাক এসে গিয়েছিলো। ১৫৮৪ সালের ২৮ মার্চ দাবা খেলতে থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। শুধু তাই নয় তার নিষ্টুরতায় র্নিমমভাবে বলি হয়েছে তার নিজের পুত্র আইভান আইভানোভিচ।

এই দরজার কাছে গেলেই মিনিটের মধ্যে মৃত্যু অবধারিত

গ্রিসের এক প্রাচীন নিদর্শন। দর্শনী তো বটেই। তবে তার বেশি কাছে গেলেই বিপদ। মৃত্যুর অন্ধকার টেনে নিয়ে যায় মানুষকে। বহু বছর ধরে তাই এই জায়গার ধারে-কাছে যায় না কেউ। এই দরজার কাছে গেলেই মিনিটের মধ্যে মৃত্যু অবধারিত। অবশেষে সেই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

‘Hades’ Gate’ নামে পরিচিত এই জায়গা। বর্তমানে এটি তুরস্কের ওয়েস্টার্ন ডেনিজিল প্রদেশে অবস্থিত। জানা যায়, এটির ধারে-কাছে যে কোনও মানুষ বা পশু গেলেই তার মৃত্যু হয়। গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এটা নেহাত গল্পকথা নয়। এটাই সত্যি।

সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্বের উপর লেখা একটি জার্নালে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই অঞ্চলে সমানে বিপুল পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে। আজও পর্যন্ত একইভাবেই বেরিয়ে আসছে বিষাক্ত গ্যাস। আর তাই সেখানে গেলেই মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। তবে সূর্য কোনদিকে উঠছে আর হাওয়া কোনদিকে বইছে, সেটার উপর নির্ভর করে কোনদিক থেকে বেরোবে কার্বন-ডাই-অক্সাইড।

রাতে এত বেশি পরিমাণ গ্যাস বেরোয় যে, এক মিনিটের মধ্যে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। প্রাচীন গল্পে শোনা যায়, এখানে অনেক মানুষ, ভেড়া, পাখির মৃত্যু হয়েছে।

ঘুষের টাকার চাকরি, আয় হালাল নাকি হারাম

আমরা অনেকেই চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘুষ ব্যবহার করে থাকি। তবে ঘুষের টাকায় হওয়া চাকরির প্রাপ্ত বেতন আমাদের জন্য আদৌও হালাল না হারাম তা নিয়ে কনেকেই সংশয়ে থাকি। আসুন জেনে নেই ঘুষের টাকায় চাকরির বেতন আপনার জন্য কতটুকু কার্যকরী। ঘুষের টাকার চাকরি, আয় হালাল নাকি হারাম?

প্রথমত ঘুষ দেওয়াটাই হারাম। ঘুষ দেওয়ার পর আপনি যে চাকরিটা নিয়েছেন সেখানে দুইটি বিষয় হতে পারে। একটা হচ্ছে চাকরিটা পাওয়ার জন্য আপনি যোগ্য ছিলেন, কিন্তু ঘুষ না দেওয়ার জন্য চাকরিটা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে ঘুষ দিয়ে চাকরি পেলে আপনার চাকরিটা জায়েজ হবে। কিন্তু ঘুষ দেওয়াটা নাজায়েজ হবে। আবার চাকরির জন্য যোগ্য না হওয়ার পরও যদি ঘুষ দিয়ে চাকরি নেন, তাহলে পুরো জীবনে যা উপার্জন করেছেন তার সবটাই হারাম হবে।