বিতেরের নামায পড়ার নিয়ম কি ? দলিল সহ জানতে চাই

বিতির নামায কত রাকাত- ১,৩ কিংবা ৫

বাংলাদেশে দেশে দীর্ঘদিন থেকে বিতিরের নামাজ ৩ রাকাত পড়ানো হয়। এই থেকে বেশীর ভাগ মানুষের ধারনা, বিতরের নামাজ শুধুমাত্র ৩ রাকাত। তবে কুরআন-হাদিসের আলোকে আমাদের ধর্মের সমস্ত জিনিস চিন্তা করা উচিৎ।

এক রাকাত বিতর নামায

১) নবী(স:) রাতের তাহাজ্জুদের নামায দুই দুই রাকাত করে আদায় করতেন এবং ১ রাকাত বিতর পড়তেন। বুখারী -৯৩৬

২) আবদুল্লাহ ইবনে উমর(রা:) থেকে বর্নিত, রাতের নামায দু’ দু’ রাকাত করে।ার যখন তুমি নামায শেষ করতে চাইবে, তখন ১ রাকাত বিতর পড়বে। এতে তোমার আদায়কৃত নামাযে বিতরের নামাযও হয়ে যাবে। বুখারী- ৯৩৪

৩) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাবা ইবনে সু’আইর(রা) থেকে বর্নিত (নবী উনার মাথায় হাত বুলায়ে দিয়েছিলেন), ‘তিনি সাদ বিন আবিওয়াক্কাসকে বিতরের নামায ১ রাকাত পড়তে দেখেছেন’। বুখারী-৬৯১০,৯৩২,৯৩৫

৪) হযরত আয়েশা থেকে বর্নিত, ‘রাসুলুল্লাহ রাতে ১১ রাকাত নামায পড়তেন।তার মধ্যে ১ রাকাত বিতর পড়তেন। নামায শেষ করে তিনি ডান পাশে ফিরে শুতেন।অত:পর

ভোরে আজান হলে, তিনি উঠে, সংক্ষিপ্ত ২ রাকাত(ফজরের সুন্নাত) নামায পড়তেন’।

মুসলিম – ১৫৯৪,১৫৯৫,১৬০৪,১৬২৫,১৬২৬,১৬২৭,১৬২৮,১৬৩৪-১৬৪০

৫) হযরত ইবনে উমর বলেন, ‘নবী বলেছেন, রাতের নামায(নফল) পড়বে ২ রাকাত করে। আর বিতরের নামায হলো ১ রাকাত। নাসা্য়ী- ১৬৯৪

১৬৬৮-১৬৭৫,১৬৯০-৯৩,১৬৯৫-৯৭

৬) হযরত আয়েশা থেকে বর্নিত, রসুলুল্লাহ(স:) (রাতে নামাযে) প্রতি ২ রাকাতে সালাম ফিরাতেন এবং বিতর নামায ১ রাকাত পড়তেন। ইবনে মাজাহ-১১৭৪- ১১৭৭

৭) ‘রসুল(স:) ১ রাকাত বিতর নামায পড়তেন’।

তিরমিজীতে- ৪৩৩ (বুখারী ও মুসলিমের উদ্ধৃতি)

৮) ‘বিতরের নামা ১ রাকাত’। আবু দাউদ – ১৪২১(মুসলিম ও নাসায়ীর উদ্ধৃতি)

তিন কিংবা ৩-এর অধিক বে-জোড় সংখ্যক বেতরের নামায

৯) হযরত ইবনে আব্বাস(রা:) বলেছেন, ‘রসুলুল্লাহ রাতের বেলায় ৮ রাকাত(তাহাজ্জুদ) নামায পড়তেন। ৩ রাকাত বিতরের নামায পড়তেন ও ফজর নামাযের আগে ২ রাকাত(সুন্নাত) নামায পড়তেন। নাসায়ী -১৬৯৮,১৭০০-১৭০৬,১৭০৮

১০) হযরত আবু আইয়ুব থেকে বর্নিত, ‘নবী বলেছেন, বিতরের নামায আবশ্যকীয়।যে ব্যাক্তি ৫ রাকাত পড়তে চায় সে ৫ রাকাত পড়বে, যে ৩ রাকাত পড়তে চায় ৩ রাকাত পড়বে এবং যে ১ রাকাত পড়তে চায় ১ রাকাত পড়বে।

ইবনে মাজাহ-১১৯০,নাসায়ী-১৭১২, আবু দাউদ-১৪১২

১১) আবু আইয়ুব(রা:) থেকে বর্নিত, ‘নবী(স:) বলেছেন, কিতরের নামায আবশ্যকীয়। অতএব যা ইচ্ছা সে ৭ রাকাত, ৫ রাকাত, ৩ রাকাত কিংবা ১ রাকাত পড়ুক’। নাসায়ী- ১৭১১

বিতরের নামায পড়ার নিয়ম দুটি

১২) তিনি বিতরের নামায যখন ৩ রাকাত পড়তেন, তখন প্রথমে ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে নিতেন।তারপর ১ রাকাত পড়ে ,সালাম ফিরিয়ে নামায সমাপ্ত করতেন।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্নিত, তিনি বিতরের ২ রাকাত এবং ১ রাকাতের মধ্যে (সালাম ফিরিয়ে) পৃথক করে নিতেন এবং তিনি বলেছেন, নবী(স:) এরুপই করতেন। ইবনে হিব্বান-২৪৩০

১৩) তিনি বিতরের নামাজ যখন ৩ রাকাত পড়তেন, তখন দুই রাকাত পড়ে বসতেন না কিংবা তাশাহহুদও পড়তেন না। বরং একসাথে ৩ রাকাত শেষেই বসতেন।হযরত আয়েশা(রা:) থেকে বর্নিত, ‘নবী(স:) ৩ রাকাত বিতর পড়তেন, যার শেষ রাকাত ছাড়া তিনি কোথাও বসতেন না’। বায়হাকী,হাকেম

১৪) হযরত আয়েশা(রা:) থেকে বর্নিত,’রাসুলুল্লাহ(স:) রাতের বেলা তের রাকাত নামায পড়তেন। এর মধ্যে ৫ রাকাত পড়তেন বিতর এবং তাতে একবারে শেষে ছাড়া আর কোন বৈঠক করতেন না’। মুসলিম- ১৫৯৭, নাসায়ী-১৭১৮

১৫) উম্মে সালমা(রা:) থেকে বর্নিত,’ রাসুলুল্লাহ(স:) ৭ কিংবা ৫ রাকাত বিতরের নামায পড়তেন এবং মাঝখানে সালামও ফিরাতেন না এবং কোন কথাও বলতেন না’।

ইবনে মাজাহ- ১১৯২

১৬) রাসুলুল্লাহ(স:) বলতেন,’তোমরা বিতরের ৩ রাকাত নামাজকে, মাগরিবের নামাযের সদৃশ করো না’।

হযরত আবু হুরায়রা(রা:) থেকে বর্নিত,’ রাসুলুল্লাহ(স:) বলতেন,’তোমরা মাগরিবের মত করে ৩ রাকাত বিতরের নামায পড়ো না। বরং ৫ রাকাত, ৭ রাকাত, ৯ রাকাত কিংবা ১১ রাকাত দ্বারা বিতর পড়ো’।

ত্বাহাবী,দারু কুত্বনী,ইবনে হিব্বান,হাকেম

১৭) নবী রাসুলুল্লাহ (স:) বিতরের নামায ৯,১১ কিংবা ১৩ রাকাত পড়তেন।তবে এ সব বর্ননায় সাধারনত: রাতের নফল নামায পড়ার সময় ৮ রাকাতের শেষে ১ রাকাত বিতর, ১০ রাকাতের শেষে ১ রাকাত বিতর কিংবা ১২ রাকাতের শেষে ১ রাকাত বিতর পড়তেন।

১৮) ‘রাসুলুল্লাহ(স:) রাতে ৮ রাকাত নামায পড়তেন।তারপর ১ রাকাত বিতির পড়তেন। এরপর বসে বসে ২ রাকাত (শাফিউল বিতরের) নামায পড়তেন’।

আহমদ,মুসলিম-১৬০১

১৯) হযরত কায়েস ইবনে তুলক(রা:) বলেন, ‘রমযান মাসে আমার পিতা তুলক ইবনে আলী(রা:) আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে। তিনি আমাদের সাথে রাতে থাকেন। তিনি ঐ রাতে আমাদের নিয়ে তারাবীর নামায ও বিতরের নামায পড়েন’।

তারপর তিনি এক মসজিদে যেয়ে তার সাথীদের সাথে নামায পড়েন। শেষে বিতরের নামায বাকী থাকলো। তিনি এক ব্যাক্তিকে সামনে ঠেলে দিয়ে বলেন,তুমি তাদেরকে নিয়ে বিতিরের নামায পড়ো।নিশ্চয় আমি রাসুল্লাহকে(রা:) বলতে শুনেছি, এক রাতে ২ বার বিতিরের নামায পড়তে নাই’। নাসায়ী-১৬৮০

২০) হাদিসে রাসুল(স:) –এ বিতরের নামাযের চিত্র দেখলে বুঝা যায়, বিতরের নামায ১ রাকাতই ভাল। তবে একাধিক রাকাত পড়লে বে-জোড় ভাবে পড়তে হবে।হাদিসে বর্নিত উপায়ে বিতর পড়তে হবে। নাহলে, বিতর নামায শুদ্ধ হবে না।

নবীজির রওজা মোবারক এর উপর জানালা কেন ?? নিজে জানুন এবং অন্যদের জানিয়ে দিন !

হযরত ওমর বিন মালেক (র) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, নবীজির ইন্তেকালেরপর একবার মদীনা শরীফে দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারনে অসহনীয় গরম আর দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

তাই মদীনাবাসীরা একদিন মুমিনদের মা হযরত মা আয়েশা সিদ্দীকা (র) এর কাছে গিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বৃষ্টির জন্য দোয়া কামনা করেন।তখন হযরত মা আয়েশা (র) বলেন, হে মদীনাবাসী তোমরা নবীজর রওজা মোবারকের উপর যে খেজুর গাছের ডাল আছে তা সরিয়ে দাও।এবং অপেক্ষা কর। মদীনাবাসীরা তখন হযরত মা আয়েশা সিদ্দীকা (র) এর পরামর্শ মোতাবেক কাজ করলেন।

নবীজির রওজা মোবারকের উপর থাকে ডাল সরানোর সাথে সাথে হঠাৎ আমরা দেখলাম আকাশ ধীরে ধীরে কালো মেঘে ডাকা শুরু করছে,অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই আকাশ থেকে এমন ভাবে ভারী বর্ষন হতে শুরু করল যে

,আমাদের পথ চলা কষ্ট দায়ক হয়ে পডলো।

দীর্ঘ এক সপ্তাহ অনবরত আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ হতে থাকে যা কিছুক্ষনের জন্যেও বন্ধ হয়নি।যা আমাদের ফসল ফলাদির জন্য পর্যাপ্ত ছিল।এক সপ্তাহ পর,মদীনাবাসীরা আবার মা হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (র) এর কাছে গিয়ে বৃষ্টি বন্ধের জন্য দোয়া চায়। তখন হযরত মা আয়েশা সিদ্দীকা (র) বলেন,নবীজির রওজা মোবারকের উপর খেজুর গাছে ডাল পূর্বের মত দিয়ে দাও,বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে।

মদীনাবাসীরা তাই করলো,সাথে সাথে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেলো।( সুত্র:- আবু দাউদ শরীফ:-১২৫৮..ইবনে মাজা:-৬০২…দারেমী:- ৯২৭)

অজু করার সময় যে দোয়াটি পাঠ করলে অজুর পানির সাথে গোনাহসমূহ ধুয়ে যায়

নামাজ বেহেশতের চাবি আর এই নামাজের চাবি হলো ওযু। সুতরাং নামাজ সহিহ হওয়ার প্রধান শর্ত ওযু। তবে শুধু ওযু বললে ভুল হবে। সঠিক ভাবে সঠিক নিয়মে ওযু করে নামাজ আদায় করলে মহান আল্লাহ তায়ালা সেই বান্দার নামাজ কবুল করে নেন।

এ প্রসঙ্গে আমাদের প্রিয় নবী রাসূলে পাক (সা.) বলেছেন, ওযু করা অবস্থায় এমন কিছু দোয়া রয়েছে যা পাঠ করতে করতে কোন বান্দা যখন অজু করে এবং মুখ ধৌত করে, তখন মুখের যাবতীয় গোনাহ অজুর পানির সঙ্গে ধুয়ে যায়। ডান হাত, বাঁ হাত, এভাবে যে অঙ্গই ধৌত করবে, সেই অঙ্গের সগিরা গোনাহ ধুয়ে যায়। [মুসলিম : ৩৬০]।

 

অজুতে মুখ ধোয়ার সময় এ খেয়াল করতে হবে, রাসুলুল্লাহ [সা.] এর সুসংবাদ অনুযায়ী আমার মুখের যত গোনাহ আছে, সব ধুয়ে যাচ্ছে। হাত ধোয়া, মাথা মাসাহ করা এবং পা ধোয়ার সময়ও এমনটি খেয়াল করবে। এমনটি খেয়াল করে অজু করে দেখুন, ভালো লাগবে। খেয়ালহীন অজুর চেয়ে অবশ্যই হাজারগুণে ভালো লাগবে।

অজুর মাঝে দোয়াগুলো পাঠ করুন। একটু খেয়ালের সঙ্গে সব আদব ও সুন্নতের প্রতি খেয়াল রেখে অজু করুন। কেবলা দিকে বসুন। প্রত্যেক অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করুন। সুন্দর করে ধৌত করুন। অজুর মাঝে যেসব মাসনুন দোয়া আছে, সেগুলো পড়ুন। যেমন-

‘আল্লাহুম্মাগফিরলি জাম্বি, ওয়া ওয়াচ্ছি-লি ফি দারি, ওয়া বা-রিক-লি ফি-মা রজাক-তানি।’ [তিরমিজি : ৩৪২২]।

এর সঙ্গে কালেমায়ে শাহাদাতও মাঝেমধ্যে পড়বেন। আর অজু শেষ করে নিম্নের দোয়াটি পড়ুন, ‘আল্লাহুম্মাজ-আলনি মিনাত-তাওয়া-বিন, ওয়াজ-আলনি মিনাল-মুতা-তহ-হিরিন।’ [তিরমিজি : ৫০]

এক নজরে যেনে নিন, হযরত শাহজালাল (র:) এর বাস্তবে ঘটে যাওয়া অলৌকিক কিছু ঘটনা

নবী-রাসূল কিংবা অলী-আউলিয়াগণ প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে মাঝে মাঝে এমন কিছু ঘটনার অবতারণা করেছেন, স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যেসব ঘটনা একদমই অলৌকিক।

নবী-রাসূলগণ যখন এ ধরনের ঘটনার অবতারণা করেন, তখন তাকে বলে মুজিযা। একইরকম ঘটনার অবতারণা যখন কোনো অলী-আউলিয়া করেন, তখন তাকে বলে কারামত। সিলেটের হযরত শাহজালাল (র:) সম্পর্কেও বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনা প্রচলিত আছে। সেসব ঘটনা মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এগুলোর মাঝে কিছু কিছু গ্রন্থিত হয়ে বই আকারে প্রকাশও হয়েছে।
লোকমুখে প্রচলিত ঘটনাগুলো মানুষভেদে অল্পস্বল্প এদিক সেদিক হয়ে যায়। সেজন্য লোকমুখে প্রচলিত কারামতগুলোকে পাশ কাটিয়ে বইয়ে গ্রন্থিত কিছু ঘটনার আলোকপাত করা হবে এ লেখায়। অনেকগুলো ঘটনার মাঝে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো, ধীরে ধীরে বাকিগুলোও উল্লেখ করা হবে।
বিষ যেভাবে শরবত হয়ে গেলো…

হযরত শাহজালাল (র:)-এর জন্মস্থান ইয়েমেন। জন্মস্থান ছেড়ে ভারতবর্ষ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করছেন এমন সময়ে জন্মভূমির কাছে যাবার খুব ইচ্ছে হলো। সেখানে গেলে বাবা-মায়ের কবরও জিয়ারত করতে পারবেন। উল্লেখ্য, হযরত শাহজালালের (র:) জন্মের আগেই তার পিতা মারা যান এবং জন্মের কয়েক মাসের মাথায় তার মাতাও মারা যান। জন্মভূমিতে যাবার লক্ষ্যে ১২ জন সাথী নিয়ে ইয়েমেনের দিকে রওনা হন তিনি। সে সময় ইয়েমেনের বাদশাহ ছিলেন সুলতান ওমর আশরাফ। ততদিনে হযরত শাহজালাল (র:)-এর জ্ঞান-গরিমা, আধ্যাত্মিকতা ও অলৌকিকতার খবর সারা বিশ্ব বিদিত।

ইয়েমেনের বাদশাহও তার ব্যাপারে শুনেছিলেন।
যখন শুনলেন হযরত শাহজালাল (র:) ইয়েমেনে আসছেন তখন তার ইচ্ছে হলো হযরত শাহজালাল (র:)-এর আধ্যাত্মিকতার গভীরতা কতটুকু তা একটু পরীক্ষা করে দেখবেন। সে উদ্দেশ্যে তিনি হযরত শাহজালাল (র:) এবং তার সাথীদেরকে রাজদরবারের মেহমান হিসেবে আমন্ত্রণ করেন। তারা উপস্থিত হলে তাদেরকে শরবত পরিবেশন করা হয়। হযরত শাহজালাল (র:)-কে পরীক্ষা করার জন্য তিনি শরবতের মাঝে বিষ মিশিয়ে রেখেছিলেন।

কিন্তু দেখা গেলো, তার দেয়া শরবত পান করেছেন হযরত শাহজালাল (র:) এবং তার সাথীরা। কিন্তু বিষ পান করার পরেও তাদের কিছু হয়নি, সকলেই সুস্থ। কিন্তু অন্যদিকে স্বয়ং বাদশাহ সাধারণ শরবত খেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন! প্রচলিত তথ্য অনুসারে, হযরত শাহজালাল (র:) তার আধ্যাত্মিকতার বলে শরবতের বিষের ব্যাপারে জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু তারপরেও তিনি শরবত খেয়েছিলেন। তার ভরসা ছিল আল্লাহর উপর। তিনি ভাবলেন, আল্লাহ সবকিছুই পারেন, আমাদের হায়াত থাকলে আল্লাহ চাইলে এই বিষকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারেন। অন্যদিকে তিনি চাইলে সাধারণ পানীয়কেও বিষ করে দিতে পারেন।

ইসলামের নিয়ম অনুসারে, খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে হয় এবং এই বাক্যের অনেক অলৌকিক গুণ আছে। তারা সকলে বিসমিল্লাহ বলে সেই শরবত পান করলেন এবং সকলেই নিরাপদ রইলেন। উপরন্তু বিষহীন সাধারণ শরবত পান করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাদশাহ। খোদার লীলাখেলা বোঝা বড়ই কঠিন। বিষ হয়ে যায় শরবত আর শরবত হয়ে যায় বিষ। এ ঘটনা দেখে ভীত হয়ে বাদশাহর পুত্র সিংহাসন ছেড়ে দিয়ে হযরত শাহজালাল (র:)-এর সাথে সাথী হয়ে চলে আসেন।
দরগাহের পুকুরের সাথে যমযম কূপের সংযোগ…

সিলেট নগরটি গড়ে উঠেছে সুরমা নদীকে কেন্দ্র করে। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে এ নদীর পানি বেশিরভাগ সময়ই ঘোলা থাকে। যারা সিলেটের সুরমা নদীর কাছে গিয়েছেন, তারা দেখে থাকবেন এর পানি কেমন হলদেটে। পাহাড়ি হলদেটে মাটির কণা এর মাঝে ভাসমান থাকে বলে এটি ঘোলা থাকে। নদীর ধারায় যখন স্রোত থাকে তখন পানির কণা তার সাথে করে কিছু মাটির কণাকেও নিয়ে যেতে পারে। পানি যখন স্থির হয়ে যায় তখন পানির কণার পক্ষে পলির কণা বহন করা সম্ভব হয় না, ফলে পলির কণা নীচের পড়ে যায়। সুরমা নদীতে বেশিরভাগ সময়ই স্রোত বিদ্যমান থাকে।

তখনকার সময় খাবার পানি এখনকার মতো সহজলভ্য ছিল না। এখন নলকূপ আছে, ফিল্টারকরণ পদ্ধতি আছে, তখন এসবের কিছুই ছিল না। সরাসরি নদী থেকেই পানি পান করতে হতো মানুষদেরকে। সিলেট অঞ্চলে পানির অন্যতম উৎস এই সুরমা নদী। কিন্তু এর পানি ঘোলা। পানি ঘোলা মানে এটি দূষিত, এখানের পানি পান করলে মানুষ অসুস্থ হয়ে যাবে। তাই অফুরন্ত একটি উৎস থাকা সত্ত্বেও মানুষ এর পানি পান করতে পারছে না। পানযোগ্য পানির পিপাসায় দিন পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী সকলে গেলো সে অঞ্চলের সেরা বুজুর্গ ব্যক্তি হযরত শাহজালাল (র:)-এর কাছে। তিনি সব শুনে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করলেন যেন সিলেটবাসীর পানির কষ্ট দূর হয়ে যায়। শুধু দূরই নয়, সবচেয়ে সেরা মানের পানি যেন তারা পায় এ দোয়াও করলেন। তিনি আল্লাহর কাছে চাইলেন মক্কার যমযম কূপের সাথে যেন সিলেটের পানির সংযোগ হয়ে যায়। ফলে সিলেটের মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানীয় পান করার সুযোগ পাবে।

আল্লাহ তার দোয়া কবুল করে নিলেন। যখন তার মোনাজাত শেষ হলো তখন একটি গায়েবী আওয়াজ (অদৃশ্য শব্দ) ভেসে এলো। কেউ একজন হযরত শাহজালাল (র:)-কে বলছে, এ স্থানে যেন একটি কূপ খনন করে। সবাই মিলে তার দরবারের পাশে একটি কূপ খনন করলো। এরপর একদিন শুক্রবার এলো। বেশ কয়েকজন ভক্ত-অনুসারী নিয়ে তিনি কূপের কাছে গেলেন। তার হাতে ছিল একটি লাঠি। কূপে আঘাত করার জন্য সেই লাঠি তিনি উঁচিয়ে ধরলেন। আঘাত করা মাত্র গায়েবীভাবে নীচ থেকে পানি আসতে শুরু করলো। শুধু পানিই নয়, পানির সাথে করে রং-বেরংয়ের মাগুর, কৈ প্রভৃতি মাছও আসতে শুরু করলো। সে মাছের বংশধরদের এখনো দেখতে পাওয়া যায়। দর্শনার্থীরা আদর করে অনেক কিছু খেতে দেয় তাদের।

হযরত শাহজালাল (র:) আল্লাহর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন এর সাথে যেন মক্কার যমযম কূপের সংযোগ স্থাপিত হয়, হলোও তা। এর পানি যমযমের মতোই স্বচ্ছ এবং সুস্বাদু। লাঠির আঘাতে সিলেটের কূপের সাথে মিলন ঘটে সুদূর মক্কার যমযম কূপের।

পরবর্তীতে একসময় ঐ কূপটির চারপাশ পাকা করে দেয়া হয়। একদিকে দুটি পাথর বসিয়ে দেয়া হয় যা থেকে সবসময় পানি প্রবাহিত হয়। পানীয় হিসেবে পান করার গণ্ডি ছাড়িয়ে এটি এখন অনেক কাজে ব্যবহার করা হয়। হযরত শাহজালাল (র:)-এর ভক্তদের বিশ্বাস, এই কূপের পানি পান করলে অনেক রোগ ভালো হয়ে যায়। এমনও প্রচলিত আছে, অনেক ডাক্তার-কবিরাজ দেখিয়েও ভালো হয়নি এমন দুরারোগ্য ব্যাধীও সেরেছে এখানের অলৌকিক পানি পান করার পর। দরগাহে অনেকে নিয়মিত থাকেন, তাদের অনেকে রোজা রাখেন। সেসব রোজাদারেরা এখানের পানি পান করে ইফতার করেন।

রোগ ভালো হওয়া সহ প্রভূত উপকার পাওয়া যায় বলে অনেকে এখানের পানি বোতলে ভরে নিয়ে আসেন। কেউ কেউ এ পানি বিক্রিও করেন। হযরত শাহজালাল (র:)-এর ভক্তরা বোতল ভর্তি সেসব পানি টাকা দিয়ে কিনেনও। শোনা যায়, ওষুধ হিসেবে পানি পান করে অনেকেই আরোগ্য লাভ করেন এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পান করলেও সে উদ্দেশ্য পূরণ হয়।

দরগাহের পুকুরে বাটিভর্তি স্বর্ণমুদ্রা…
তৎকালে লেনদেনের জন্য স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন ছিল। আর সে সময় এখনকার মতো আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। কেউ হজ্ব করতে গেলে মাসের পর মাস পায়ে হেঁটে যেতে হতো। এতে অনেকদিন সময় তো লাগতোই, পাশাপাশি পথে পথে ওৎ পেতে থাকতো চোর-ডাকাত আর বিপদ-আপদ। সিলেটের চান্দাইটিলা গ্রামে আব্দুল মনসুর ও আব্দুল ওহাব নামে দুজন ব্যক্তি বসবাস করতেন। তারা একবার হজ্বের উদ্দেশ্যে মক্কায় গমন করলেন।

ঠিকমতো হজ্ব সম্পন্নও করলেন। যখন ফিরে আসার সময় হলো, তখন তারা দেখতে পেলেন তাদের কাছে বেশ কিছু স্বর্ণমুদ্রা অবশিষ্ট রয়েছে। ফিরে আসতে হলে এত পরিমাণ মুদ্রার প্রয়োজন পড়বে না। তাই এগুলো নিয়ে তাদের মাঝে বেশ চিন্তার জন্ম হলো। পায়ে হেঁটে কিংবা উটে চড়ে আসতে হবে এতটা রাস্তা, পদে পদে আছে ডাকাতের উৎপাত, মুদ্রাগুলো যেকোনো সময় ছিনতাই হয়ে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে তারা চমৎকার একটি বিষয় সম্বন্ধে ভাবলেন। হযরত শাহজালাল (র:)-এর মাজারের পাশে একটি পুকুর আছে। হযরত শাহজালাল (র:)-এর ভক্তদের মাঝে প্রচলিত আছে যে, এখানের পুকুরের সাথে যমযম কূপের সংযোগ বিদ্যমান। এখানের পানি পান করা মানে যমযম কূপের পানি পান করা। এই বিশ্বাস থেকে দুজন ভাবলেন, যমযম কূপে যদি স্বর্ণমুদ্রাগুলোকে ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে সেগুলো নিশ্চয় হযরত শাহজালাল (র:)-এর মাজারের পুকুরে গিয়ে উপস্থিত হবে। যদি এই পদ্ধতিতে মুদ্রাগুলোকে বাসস্থান সিলেটে পাঠানো যায় তাহলে নিশ্চিন্তে ও নির্ভয়ে পাড়ি দেয়া যাবে বিপদসঙ্কুল পথ।

চমকপ্রদ এই ভাবনায় দুজন সম্মত হয়ে যাত্রাপথের জন্য অল্প কিছু স্বর্ণমুদ্রা রেখে বাকিগুলোকে একটি বাটিতে প্যাকেট করে ছেড়ে দেন যমযম কূপে। মুদ্রার সাথে নিজেদের নাম ঠিকানাও লিখে দেন। আল্লাহর নামে সেগুলোকে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে পথ পাড়ি দিয়ে উপস্থিত হন বাসভূমি সিলেটে। মক্কা নগরী থেকে সিলেটে পৌঁছাতে তাদের দুই মাস সময় লেগে যায়। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই হযরত শাহজালাল (র:)-এর দরগাহে পৌঁছে যায় তাদের সেই স্বর্ণমুদ্রার বাটি। দরগাহের খাদেম একদিন পুকুর পরিষ্কার করতে এসে এই বাটিটি পান। এটি খুলে দেখেন এর ভেতরে সিলেটের একটি ঠিকানা এবং বেশ কিছু স্বর্ণমুদ্রা। নিশ্চয় কোনো অলৌকিক কিছু হয়ে থাকবে মনে করে তিনি বাটিটি যত্ন সহকারে রেখে দেন।

একসময় হজ্বযাত্রী দুজন সিলেটে পৌঁছায় এবং হযরত শাহজালাল (র:)-এর দরগাহে এসে খাদেমকে ঘটনা বলে। সবকিছু শুনে খাদেম তাদেরকে সেই পাওয়া বাটিটি তাদের হাতে দেয় এবং দেখা যায় মক্কায় ছেড়ে দেয়া সেই বাটিটিই এখানে এসে উপস্থিত হয়ে আছে। এ ঘটনায় তিনি হযরত শাহজালাল (র:)-এর আধ্যাত্মিকতা ও অলৌকিকতার গভীরতা অনুভব করতে পারেন। সহি-সালামতে নিজের স্বর্ণমুদ্রা ফিরে পাওয়ায় বাড়ি যাবার আগে সেখান থেকে দুটি স্বর্ণমুদ্রা মাজারে দান করে যান।
জ্বলন্ত আগুন যখন সুস্বাদু খাদ্য…

হযরত শাহজালাল (র:) যখন নিজ দেশ থেকে সিলেটে আগমন করেন, তখন যাত্রাকালে কিছুদিন ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করেন। সে সময় ঐ অঞ্চলে বাস করতেন হযরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়া (র:)। তিনিও একজন জগদ্বিখ্যাত পীর। সেখানে তার অনেক ভক্ত ছিল। হযরত শাহজালাল (র:) তার আস্তানায় আসা যাওয়া করতে লাগলেন। একদিন এক ভক্ত হযরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়া (র:)-এর কাছে গিয়ে বললেন তাদের আস্তানায় একজন লোক এসেছেন। এ লোকের আধ্যাত্মিক শক্তি বেশ প্রবল এবং তার সংস্পর্শে আসলে দিল ঠাণ্ডা হয়ে যায়, মনের দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যায়। অজানা জিনিসের ব্যাপারে তিনি না দেখেই বলে দিতে পারেন।

এ কথা শুনে হযরত নিজামউদ্দীন আউলিয়া (র:)-এর ইচ্ছে হলো হযরত শাহজালাল (র:)-এর আধ্যাত্মিক শক্তি কতটুকু তা পরীক্ষা করে দেখবেন। সে লক্ষ্যে কিছু রুটি ও কিছু আগুন নিলেন। আগুনকে রুটির মধ্যে ভরে জড়িয়ে নিলেন। তারপর একটি কৌটায় করে খাবার জন্য পাঠালেন হযরত শাহজালাল (র:)-এর নিকট। এদিকে হযরত শাহজালাল (র:) না দেখেই জেনে গিয়েছিলেন এর ভেতরে কী আছে। কিন্তু তিনি এ সম্পর্কে কিছু বললেন না। কারণ বলে দেবার চেয়েও আরো বড় চমক অপেক্ষা করছে। রুটির কৌটাটি খুলে খেতে শুরু করলেন আগুনের টুকরোগুলোকে। কিন্তু অলৌকিকভাবে এ আগুন কিছুই করতে পারলো না হযরত শাহজালাল (র:)-কে। অলৌকিকভাবে আগুনগুলো সুস্বাদু খাদ্যে পরিণত হয়ে গেল।

এ ঘটনায় হযরত নিজাম উদ্দীন আউলিয়া বুঝতে পারেন হযরত শাহজালাল (র:)-এর আসলেই অনেক আধ্যাত্মিক জ্ঞান আছে। তিনি তার ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়ে যান। দ্রুত তার আস্তানায় গিয়ে সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং সম্মানের নিদর্শনস্বরূপ এক জোড়া কবুতর উপহার করেন। হযরত শাহজালালও এই কবুতর জোড়াকে আদরের সাথে সিলেটে নিয়ে আসেন। এই কবুতরগুলোই পরবর্তীতে বংশবৃদ্ধি করে এবং ছড়িয়ে পড়ে। জালালী কবুতর হিসেবে যে কবুতর প্রকরণকে চিনি তারা মূলত ঐ দুই কবুতরেরই বংশধর।

যে ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর জান্নাতি পোশাক ও বিছানা দেয়া হবে

মানুষ মরণশীল। কিন্তু অনেক মানুষ কবর অর্থ্যাৎ আখিরাতের জন্য কিছু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে না। তবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা আখিরাতের পুঁজি সঙ্গে করেই কবরে যায়। এই শ্রেণীর মানুষদের জন্য অন্ধকার কবরে সুসংবাদ অপেক্ষা করছে। মৃত্যুর পর থেকে কবর দেয়া পর্যন্ত লাশের পরিণতি সম্পর্কে হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

ইবন আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে এক আনসারীর জানাযার সালাতের জন্য বের হয়ে কবর পর্যন্ত গেলাম, তখনও মাটি দেওয়া হয় নি, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কিবলামুখী হয়ে বসলে আমরাও তাঁর পাশে বসলাম। সকলেই এমন নীরবতা অবলম্বন করছে যেন তাদের মাথায় পাখি বসেছে (কোনো নড়াচড়া নেই)।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হাতে একটি কাঠি ছিল, যার দ্বারা তিঁনি মাটিতে দাগ দিচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি একবার আকাশের দিকে আবার মাটির দিকে তাকাতে লাগলেন এবং তাঁর দৃষ্টি একবার উপরের দিকে তুলেন আবার নিচের দিকে নামান, (এভাবে তিনবার করলেন) অতঃপর বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। (এ কথাটি দুই বা তিনবার বললেন) তারপর বললেন, হে আল্লাহ! কবরের আযাব থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি, কথাটি তিনবার বললেন।

তারপর বললেন, মুমিন বান্দা যখন ইহকাল ত্যাগ করে পরকালের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তার নিকট সূর্য্যসদৃশ শুভ্র বর্ণের মুখবিশিষ্ট ফিরিশতা জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি নিয়ে আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়ে চোখের শেষ দৃষ্টি দূরত্বে বসে থাকে। অতঃপর মালাকুল মাউত তার মাথার পাশে বসে বলতে থাকে হে পবিত্র আত্মা! অন্য বর্ণনায় হে শান্তিপ্রিয় আত্মা! আল্লাহর ক্ষমা এবং সমত্তষ্টির দিকে বের হয়ে আস। তিনি বলেন, তখন সে আত্মা কলসির মুখ থেকে পানি বের হওয়ার ন্যায় শরীর থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসলে মৃত্যুর ফিরিশতা তা হাতে তুলে নেন।

অন্য বর্ণনায় আছে, যখন তার রূহ বের হয় তখন আকাশ ও জমিনসহ সকল ফিরিশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকে, সেই সাথে তার জন্য আকাশের সকল দরজা খুলে দেওয়া হলে প্রত্যেক দরজার অধিবাসীগণ আল্লাহর নিকট দোয়া করে যেন তার রূহটি তাদের নিকট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
মালাকুল মাউত রূহটি হাতে নিয়ে এক মুহুর্তের জন্যও তার হাতে রাখতে পারেন না; বরং সাথে সাথে সেই অপেক্ষাকারী ফিরিশতারা নিয়ে জান্নাতের সুগন্ধি সম্বলিত কাফনে তুলে নেয়।

তাইতো আল্লাহ তায়ালা বলেন,

﴿تَوَفَّتۡهُ رُسُلُنَا وَهُمۡ لَا يُفَرِّطُونَ﴾ [الانعام: ٦١]

“আমার ফিরিশতাগণ হস্তগত করে নেয়, বিন্দুমাত্র ত্রুটি করে না। [সূরা আল আনয়াম, আয়াত: ৬১] এবং তা থেকে পৃথিবীতে পাওয়া যায় এমন সর্বোৎকৃষ্ট মিশকের সুগন্ধি বের হতে থাকে। তিনি বলেন, তারপর তা উপরে উঠতে থাকে, যখনই কোনো ফিরিশতার নিকট দিয়ে অতিক্রম করে তখনই সে বলে: এ পবিত্র আত্মাটি কার? তখন পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর যে নামে তাকে ডাকা হতো সে নাম ধরে বলবে: এটি অমুকের ছেলে অমুক, যতক্ষণ না পৃথিবীর আকাশ পর্যন্ত যাবে। সেখানে পৌঁছে দরজা খুলে দেওয়ার জন্য বললে তা খুলে দেওয়া হবে। অতঃপর প্রত্যেক আকাশের নৈকট্য লাভকারী ফিরিশতাগণ তার অনুসরণ করবে যতক্ষণ না সপ্তম আকাশ পর্যন্ত পৌঁছাবে।

সেখানে পৌঁছার পর আল্লাহ বলবেন, আমার এ বান্দার ঠিকানা ইল্লিয়্যিনে লিখে দাও।

﴿وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا عِلِّيُّونَ ١٩ كِتَٰبٞ مَّرۡقُومٞ ٢٠ يَشۡهَدُهُ ٱلۡمُقَرَّبُونَ ٢١﴾ [المطففين: ١٩، ٢١]

“আপনি জানেন ইল্লিয়্যিন কি? এটি একটি লিপিবদ্ধ দফতর, আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী ফিরিশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করবে। [সূরা আল-মুতাফফিফীন, আয়াত: ১৯-২১]

তখন তার কিতাব ইল্লিয়্যিনে লেখা হয়। অতঃপর বলা হবে: তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দাও, কেননা আমি তাদেরকে অঙ্গিকার দিয়েছি যে, তা থেকে তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং তাতে ফিরিয়ে দেব আবার তা থেকেই পূনরায় উত্তোলন করব।

নবী করিম (সাঃ) বলেন, তাকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে তার শরীরে তার রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তখন সে তার ফিরে যাওয়া সাথীদের জুতার আওয়াজ শুনতে পাবে। অতঃপর হুংকারকারী শক্তিশালী দুইজন ফিরিশতা এসে তাকে ধমক দিয়ে বসিয়ে প্রশ্ন করবে:
তোমার রব কে?
সে বলবে: আমার রব আল্লাহ।
তারা বলবে: তোমার দীন কি?
বলবে: আমার দীন ইসলাম।
তারা বলবে: তোমাদের নিকট প্রেরিত লোকটি কে?
সে বলবে: তিনি হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
তারা বলবে: তুমি কীভাবে জানলে?
সে বলবে: আল্লাহর কিতাব পড়েছি, এর ওপর ঈমান এনেছি এবং বিশ্বাস করেছি।
তাকে ধরে জিজ্ঞাসা করে বলবে: তোমার প্রভু কে? তোমার দীন কি? তোমার নবী কে? আর এটিই হবে মুমিন আত্মার ওপর অর্পিত শেষ ফিতনা।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

﴿يُثَبِّتُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ بِٱلۡقَوۡلِ ٱلثَّابِتِ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا﴾ [ابراهيم: ٢٧]

“আল্লাহ তায়ালা মুমিন বান্দাদেরকে পার্থিব জীবনে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন।[সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ২৭]

সে বলবে আমার রব আল্লাহ, দীন ইসলাম এবং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তখন আকাশ হতে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করবেন যে, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে জান্নাতের পোশাক পরিধান করিয়ে দাও। তিনি বলেন, তখন জান্নাত থেকে সুগন্ধির হাওয়া আসতে থাকবে এবং তার জন্য তার কবরকে চোখের শেষ দৃষ্টি পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন: তার নিকট সুশ্রী সুন্দর পোশাক পরিহিত একজন ফিরিশতা আসবে, অন্য বর্ণনায়: তার বেশ ধরে এসে বলবে: তোমাকে আনন্দিত করবে এমন একটি সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহর সমত্তষ্টি এবং অসীম শান্তি বিশিষ্ট জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর।

নবীজীকে (সা.) খুন করতে এসে যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এক ডাকাত

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে খুন করতে এসে উল্টো ইসলামের পতাকা তলে নিজেকে আত্মসমর্পন করেছিলেন এক ডাকাত।

মূলত নবীজী (সা.) একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এমন সময় দাসুর নামের একজন ডাকাত তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। এরপর শোরগোল করে সে মহানবী (সা) কে ঘুম থেকে জাগাল। মহানবী (সা) ঘুম ভাঙলে চোখ খুলে দেখলেন, একটা উন্মুক্ত তরবারি তাঁর উপর উদ্যত। ভয়ানক শত্রু দাসুর চিৎকার করে উঠলো, ‘এখন আপনাকে কে রক্ষা করবে?’

মহানবী(সা) ধীর শান্ত কণ্ঠে বললেন, ‘আল্লাহ’। শত্রু দাসুর মহানবী (সা) এর এই শান্ত গম্ভীর কণ্ঠের আল্লাহ শব্দে কেঁপে উঠল। তার কম্পমান হাত থেকে খসে পড়ল তরবারি।

মহানবী (সা) তার তরবারি তুলে নিয়ে বললেন, ‘এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে, দাসুর? সে উত্তর দিল কেই নেই রক্ষা করার।’ মহানবী (সা) বললেন, ‘না, তোমাকেও আল্লাহই রক্ষা করবেন।’ এই বলে মহানবী (সা) তাঁকে তার তরবারি ফেরত দিলেন এবং চলে যেতে বললেন।

বিস্মিত দাসুর তরবারি হাতে চলে যেতে গিয়েও পারল না। ফিরে এসে মহানবীর হাতে হাত রেখে পাঠ করলঃ ‘লা- ইলাহ ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’

না জানলে জেনে নিন সূরা ইখলাসের ফজিলত ও বরকত সমূহ।

সূরা ইখলাসের ফজিলত ও বরকতঃ
১। যে ব্যক্তি একবার সূরা ইখলাস পাঠ করবে সেই ব্যক্তি কুরআনুল কারীম এক তৃতীয়াংশ পাঠ করার সওয়াব লাভ করবে।
২। যে ব্যক্তি দশবার পাঠ করবে আল্লাহ্ তায়ালা নিজ কুদরতি হাতে জান্নাতের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাশীল একটি মহল তৈরি করবেন।
৩। যে ব্যক্তি অধিক পাঠ করবে আল্লাহ্ তায়ালা আর জন্য জান্নাতে ওয়াজিব করে দিবেন।
৪। যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণ পাঠ করবে আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর লাশ বহন করার জন্য হয়রত জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরন করবেন। সেই ফেরেশতারা তাঁর লাশ বহন করবে এবং জানাজায় শরিক হবে।
সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সকলকে জানার এবং বুঝার তৌফিক এবং সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুক। আমীন।

৪টি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হবে না

একজন খাঁটি মুসলিম শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে না। নিজের সুখে সন্তুষ্ট থাকে না। যেমন সে নিজের দুঃখেই শুধু ব্যথিত হয় না। অন্যের কথা চিন্তা করতে হয় তাকে। অন্যের কল্যাণে কাজ করতে হয়। অন্যের দুঃখে দুঃখী ও অন্যের সুখে সুখী হওয়া তার কর্তব্য। এজন্য এ চারটি গুণের প্রথম দুটো গুণ নিজের কল্যাণের জন্য আর পরের গুণ দুটো হল অন্যের কল্যাণের জন্য। প্রথম গুণ দুটো দ্বারা একজন মুসলিম নিজেকে পরিপূর্ণ করে, আর অপর দুইগুণ দ্বারা অন্যকে পরিপূর্ণ করার প্রয়াস পায়। মূলত নিচে আলোচিত চারটি গুণ যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে সে কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হবে না।

১। ঈমান:
প্রথম গুণটি হল ঈমান। এটা একটা ব্যাপকভিত্তিক আদর্শের নাম। প্রখ্যাত তাফসিরবিদ মুজাহিদ রহ. বলেছেন, ঈমান হল, আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা, তাঁর একত্ববাদকে সর্বক্ষেত্রে গ্রহণ করা। তাঁর পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে সবগুলোকে মেনে নেয়া এবং সর্বক্ষেত্রেই তার কাছে জওয়াব দিতে হবে এ আদর্শ ধারণ করা। (তাফসিরে তাবারি)

ঈমানের পর নেক আমল বা সৎকর্মের স্থান। সৎকর্ম কম বেশি সকল মানুষই করে। তবে ঈমান নামক আদর্শ তারা সকলে বহন করে না। ফলে তাদের আমল বা কর্মগুলো দিয়ে লাভবান হওয়ার পরিবর্তে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকে। সৎকর্মশীল মানুষগুলো যদি ঈমান নামের আদর্শকে গ্রহণ করে তাহলে এ সৎকর্ম দ্বারা তারা দুনিয়াতে যেমন লাভবান হবে আখেরাতেও তারা অনন্তকাল ধরে এ লাভ ভোগ করবে। আর যদি সৎকর্মের সঙ্গে ঈমান নামের আদর্শ না থাকে, তাহলে সৎকর্ম দিয়ে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে কিছুটা লাভবান হলেও আখেরাতের স্থায়ী জীবনে এটা তাদের কোনো কল্যাণে আসবে না। এ জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রথমে ঈমানের কথা বলেছেন।

২। সৎকর্ম:
সৎকর্ম হল, যা কিছু ইসলাম করতে বলেছে সেগুলো পালন করা আর যা কিছু নিষেধ করেছে সেগুলো থেকে বিরত থাকা। হতে পারে তা ফরজ, ওয়াজেব, সুন্নাত, মুস্তাহাব বা নফল। আর বর্জনীয় বিষয়গুলো বর্জন করে চলা। হতে পারে তা হারাম, মাকরূহ।

যখন মানুষ ঈমান স্থাপন করল, তারপর সৎকর্ম করল, তখন সে নিজেকে পরিপূর্ণ করে নিল। নিজেকে লাভ, সফলতা ও কল্যাণের দিকে পরিচালিত করল। কিন্তু ঈমানদার হিসাবে তার দায়িত্ব কি শেষ হয়ে গেল? সে কি অন্য মানুষ সম্পর্কে বে-খবর থাকবে? কিভাবে সে এত স্বার্থপর হবে? অন্য সকলকে কি সে তার যাপিত কল্যাণকর, সফল জীবনের প্রতি আহবান করবে না? কেনই বা করবে না? সে তো মুসলিম। তাদের আভির্ভাব ঘটানো হয়েছে তো বিশ্ব মানবের কল্যাণের জন্য। আর এ জন্যই তো মুসলিমরা শ্রেষ্ঠ জাতি। আল্লাহ তাআলা তো বলেই দিয়েছেন :

كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ

‘তোমরা হলে সর্বোত্তম জাতি, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ (আলে ইমরান : ১১০)

অতএব নিজেকে ঠিক করার পর তার দায়িত্ব হবে অন্যকে কল্যাণের পথে আহবান করা। তাই ঈমান ও সৎকর্ম নামক গুণ দুটো উল্লেখ করার পর আল্লাহ তাআলা আরো দুটো গুণের কথা বললেন :

وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ

‘আর তারা পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।’

৩। সত্যের পথে মানুষকে আহবান:
সত্যের দিকে মানুষকে আহবান করা, এ আহবান করতে গিয়ে ও আহবানে সাড়া দিতে গিয়ে যে সকল বিপদ-মুসিবত, অত্যাচার-নির্যাতন আসবে তাতে ধৈর্য ধারনের জন্য একে অন্যকে উপদেশ দেয়া কর্তব্য। প্রশ্ন হতে পারে সত্যের মধ্যেই তো ধৈর্য আছে। ধৈর্য তো হক বা সত্যের একটি। তাহলে এটা আলাদাভাবে উল্লেখ না করলে কি হত না? কোনো বিষয়ের গুরুত্ব বুঝাতে সাধারণভাবে তা উল্লেখ করা হলেও আবার বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। ইসলামিক পরিভাষায় এটাকে বলা হয় : ذكر الخاص بعد العام

৪। অন্যকে ধর্য্যধারণের উপদেশ দেয়া:
কোনো বিষয় অর্জন করা সহজ হতে পারে কিন্তু সেটি ধরে রাখা ও তার ওপর অটল থাকা ততটা সহজ নাও হতে পারে। আর এ জন্যই প্রয়োজন ধৈর্য ও সবরের।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ)এর গুরুত্বপুর্ণ একটা হাদিস ! আশা করি কেউ মিস করবেন না…!

আমাদের প্রিয় নবীজী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর একজন কালো সাহাবি ছিলো ,সকল সাহাবির মধ্যে সেই বেশি কালো , কিন্তু নবীজী(সাঃ)এর ভালোবাসায় সর্বদা জীবন দিতে প্রস্তুত , সেও শাহসি সাহাবির মধ্যে একজন , প্রিয় নবীজি(সাঃ) তাকে অনেক ভালো বাসতেন তাকে । একদিন নবীজী(সাঃ) বললো , কালো সাহাবিকে তুমি সারাক্ষণ আমার সাথেই থাক, তাই তোমার কাছে আমি কিছু জানতে চাই, নবীজী(সাঃ)এর কাছে মাথা নিছু করে কালো সাহাবি বলল , হুজুর আমার জান হাজির আপনি শুধু বলুন কি জানতে চান , নবীজী বলল তোমার বিয়ের সময় হয়েছে , তুমি কি তার জন্য প্রস্তুত ।কালো সাহাবি মাথা নেরে বলল , হুজুর আমি যে এত কালো আমার কাছে কে মেয়ে বিয়ে দেবে , নবীজী(সাঃ) বলল তুমি বিয়ে করবে কিনা বল তোমার জন্য আমি মেয়ে দেখবো , কথাটি শুনে কালো সাহাবি খুশিতে কেঁদে পেলল , হুজুর আপনি আমার জন্য মেয়ে দেখবেন , এর চেয়ে আমার কাছে বড় আর কি হতে পারে,আমি রাজি। ।নবীজী(সাঃ) একটি পত্র লিখে কালো সাহাবির হাতে দিয়ে বললেন এই পত্রটি মদিনার বড় বাড়িতে গিয়ে , মালিকের হাতে দিয়ে উত্তর জেনে তার পরে আসবে , কালো সাহাবি জানে না এর ভিতরে কি লেখা আছে , নবীজী(সাঃ)এর কথা অনুযায়ী পত্র খানি নিয়ে মদিনার বড় বাড়ির মালিকের হাতে দিল । নবীজী(সাঃ)এর কথা শুনে তারাতারি পত্রটি খোলে পেলল, এর মধ্যে লেখা আছে ..আসছালামুয়ালাইকুম আমি হযরত মোহাম্মদ সাঃ আপনার কাছে আমার কালো সাহাবির জন্য আপনার মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দিলাম । আশা করি আমার প্রস্তাব আপনি গ্রহণ করবেন এবং আমার কালো সাহাবির সাথে আপনার সুন্দরী মেয়ের বিবাহ দিবেন ,

ইতি হযরত মোহাম্মদ(সাঃ)

বড় বাড়ির মালিক নবীজী(সাঃ)এর কথা শুনে কেঁদে ফেললো , আমার এক মাত্র মেয়ে , মদিনায় যাকে হুরে মদিনা বলে চিনে( কিতাবে আছে মেয়েটি এত সুন্দর যার কারনে সবাই তাকে হুরে মদিনা বলে ডাকতো)এখন আমি কি করি নবীজী (সাঃ)বলেছে আনন্দের কথা কিন্তু ছেলেটি যে অনেক কালো , বিভিন্ন চিন্তায় মালিক চিন্তিত , কালো সাহাবি বলল নবীজী(সাঃ) কি লিখেছেন , আমাকে বলেছেন উত্তর নিয়ে যেতে , মালিক বলল নবীজী (সাঃ)বলেছেন তোমার সাথে আমার মেয়ে হুরকে বিয়ে দেওয়ার জন্য বাবা তুমি এখন যাও, নবীজী(সাঃ)কে বলিয় আমি আমার মেয়ের সাথে পরামর্শ করে খবর পাঠিয়ে দেব , নবীজী(সাঃ)এর কালো সাহাবি মন খারাপ করে ফিরে যাচ্ছে । এমন সময় ঐ মেয়েটি দৌড়ে এসে বলল বাবা দেখলাম একটি লোক এলে হাসিমুখে , কিন্তু যাওয়ার সময় মন খারাপ করে যাচ্ছে কারন কি?বাবা মেয়ের কাছে সব খুলে বললো , কথাটা শুনে মেয়েটি খুশিতে আত্মা হারা হয়ে বলল বাবা কি বলেছেন , নবীজী (সাঃ) পত্র লিখেছেন আমার বিয়ার প্রস্তাব এর জন্য , আর আপনি ফিরিয়ে দিলেন বাবা ঐ সাহাবি নবীজী(সাঃ)এর কাছে পৌছার আগেই তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন , না হয় যে আল্লাহর কাছে আমরা অপরাধী হয়ে যাবো । বাবা নবীজী (সাঃ)পত্র লিখেছেন , এতে মনে হয় মদিনার সব চেয়ে মূল্যবান ও সূ ভাগ্যবান মেয়ে আমি , মেয়ের মুখে কথাটি শুনে বাবা আলহাদুলিল্লা বলে ঐ সাহাবি কে ফিরিয়ে নিয়ে এল, বলল তুমি যে আমার মেয়েকে বিয়ে করবে , দেন মহর হিসেবে কি দেবে
কালো সাহাবি বল্ল আমার কাছে নবীজী(সাঃ)এর ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই নেই , ঐ মেয়েটি বল্ল বাবা আপনারতো অনেক টাকা আজ নবীজী(সাঃ)এর ভালোবাসায় কিছু টাকা দেনমহরের জন্য ওকে দিয়ে দিন , মালিক আরো বল্ল বিয়ে যে করবে , কিছু কেনা কাটা করেছ , আমার মেয়েকে সাজানোর জন্য , কালো সাহাবির উত্তর আমার কাছে কোন টাকা নেই , ঐ মেয়েটি বল্ল বাবা , নবীজী(সাঃ)এর ভালোবাসার খাতিরে বিয়ের কেনা কাটার জন্য ও কিছু টাকা দিয়ে দিন ।অবশেষে মদিনার বড় মালিক নবীজী(সাঃ)এর ভালোবাসার খাতিরে , কালো সাহাবির হাতে কিছু টাকা দিয়ে বল্ল যাও বিয়ের বাজার করে নিয়ে আসো , আজকের ভিতরে আমি নবীজী(সাঃ)এর কথায় আমার সুন্দরী মেয়ের সাথে তোমার বিয়ে দেব ।নবীজী(সাঃ)এর কালো সাহাবি মনের আনন্দে বিয়ের বাজার করতে রওনা হলো , বাজারে গিয়ে কিছু কেনা কাটাও করে , হঠাৎ দেখে মানুষের দৌড়া দৌড়ি , কালো সাহাবি বলল কি হলো সবাই এমন করে দৌড়াচ্ছে কেন ??? দোকানের মালিক বলল তুমি কি কিনবে পরে এসো , আমাদের মদিনার সম্পদ , মুসলিম বিশ্বের রহমত , হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)কে শত্রুরা আক্রমণ করেছে , এই বলে দোকান বন্ধ করে চলে গেল ।তখন কালো সাহাবি অন্য দোকানে গিয়ে , বিয়ের বাজারের টাকা দিয়ে একটি তরবারি কিনলো, হঠাৎ আবার মনে হলো মদিনার সুন্দরী মেয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে , নিজের মনকে বুঝালো যেই নবীজী(সাঃ)না হলে আমি হতাম না , দুনিয়া ও হতো না সেই নবীর চেয়ে সুন্দরী মেয়ে আমার কাছে বড় নয়, এই বলে নবীজী(সাঃ)এর কালো সাহাবি দৌড়ে যুদ্ধের ময়দানে চলে গেল । কিতাবে আছে ঐ যুদ্ধে নবীজী(সাঃ)এর ৭০ জন সাহাবি শহীদ হয়েছে , তার মধ্যে কালো সাহাবি একজন । নবীজী (সাঃ)অশ্রুসিক্ত হয়ে বলল , আমার আদরের সাহাবিদের কে রক্ত মাখা অবস্হায় দাফন করে দাও , কিয়ামতের ময়দানে আমি আল্লাহর কাছে তাদের রক্ত মাখা শরীর দেখিয়ে , কোটি কোটি গুনাগার উম্মেতের নাবাজাতের দাবি করবো ।হঠাৎ নবীজী(সাঃ)এর চোখ পরে কালো সাহাবির দিকে , জিহবা কামুর দিয়ে রক্ত মাখা হয়ে পরে আছে , নবীজী(সাঃ)এর চিৎকার দিয়ে বলল , এই আমার কালো সাহাবির লাশ , তার আজকে বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো , কয়েকজন সাহাবি বলল হুজুর আপনার কালো সাহাবি বিয়ের বাজার করতে গিয়ে , যখন শুনতে পেলো , শত্রুরা আপনাকে আক্রমণ করেছে , তখন সে যুদ্ধের বাজার করেছে ।নবীজী(সাঃ)কাঁন্না অবস্হায় কালো সাহাবির কবরের ভিতরে তাকালো , কিছুক্ষণ পর হাসিমুখে বলল দাও তোমরা , আমার কালো সাহাবির দাফন করে দাও , সাহাবিরা বলল হুজুর বেয়াদবি মাপ করবেন , আপনি কাঁন্না অবস্হা কালো সাহাবির দিকে তাকালেন , আবার হাসিমুখে দাফন করতে বললেন , কারনটি বলবেন হুজুর ।তাহলে শুন আমার কালো সাহাবির বিয়ের বাজার দিয়ে যুদ্ধের বাজার করেছে , আমার ভালোবাসায় ইসলাম এর পথে শহীদ হয়েছে , আমি তাকিয়ে দেখি ঐ হুরে মদিনা বেহেস্তি হুর হয়ে তার সেবা করছে ।

সুবাহানআল্লাহ

ঐতিহাসিক ইসলামিক কাহিনী, এক সুন্দরী রমনি ও ১ হাজার দিনার

তখন হযরত উসমান (রা) এর শাসনকাল। নীল ভূমধ্যসাগর তীরের তারাবেলাস নগরী। পরাক্রমশালী রাজা জার্জিসের প্রধান নগরী এটা। এই পরাক্রমশালী রাজা ১ লক্ষ ২০ হাজার সৈন্য নিয়ে আবদুল্লাহ ইবন সা’দের নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনীর অগ্রাভিযানের পথ রোধ করে দাঁড়ালেন। স্বয়ং রাজা জার্জিস তার বাহিনীর পরিচালনা করছেন। পাশে রয়েছে তার মেয়ে। অপরূপ সুন্দরী তার সে মেয়ে।

যুদ্ধ শুরু হল। জার্জিস মনে করেছিলেন তার দুর্ধর্ষ বাহিনী এবার মুসলিম বাহিনীকে উচিত শিক্ষা দেবে। কিন্তু তা হল না। মুসলিম বাহিনীর পাল্টা আঘাতে জার্জিস বাহিনীর ব্যুহ ভেঙ্গে পড়ল। উপায়ান্তর না দেখে তিনি সেনা ও সেনানীদের উৎসাহিত করার জন্য ঘোষণা করলেন, “যে বীর পুরুষ মুসলিম সেনাপতি আবদুল্লাহর ছিন্ন শির এনে দিতে পারবে, আমার কুমারী কন্যাকে তার হাতে সমর্পণ করবো।”

জার্জিসের এই ঘোষণা তার সেনাবাহিনীর মধ্যে উৎসাহের এক তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করল। তাদের আক্রমণ ও সমাবেশে নতুন উদ্যোগ ও নতুন প্রাণাবেগ পরিলক্ষিত হলো। জার্জিসের সুন্দরী কন্যা লাভের উদগ্র কামনায় তারা যেন মরিয়া হয়ে উঠল। তাদের উন্মাদ আক্রমণে মুসলিম রক্ষা ব্যুহে ফাটল দেখা দিল। মহানবীর শ্রেষ্ঠ সাহাবাদের একজন- হযরত যুবাইর (রা)ও সে যুদ্ধে শরীক ছিলেন। তিনি সেনাপতি সা’দকে পরামর্শ দিলেন, “আপনিও ঘোষণা করুন, যে তারাবেলাসের শাসনকর্তা জার্জিসের ছিন্নমুন্ড এনে দিতে পারবে, তাকে সুন্দরী জার্জিস দুহিতাসহ এক হাজার দিনার বখশিশ দেয়া হবে।” যুবাইরের পরামর্শ অনুসারে সেনাপতি সা’দ এই কথাই ঘোষণা করে দিলেন।

তারাবেলাসের প্রান্তরে ঘোরতর যুদ্ধ সংঘটিত হলো। যুদ্ধে জার্জিস পরাজিত হলেন। তার কর্তিত শিরসহ জার্জিস কন্যাকে বন্দী করে মুসলিম শিবিরে নিয়ে আসা হলো। কিন্তু এই অসীম সাহসিকতার কাজ কে করলো? এই বীরত্বের কাজ কার দ্বারা সাধিত হলো? যুদ্ধের পর মুসলিম শিবিরে সভা আহূত হলো। হাজির করা হলো জার্জিস-দুহিতাকে। সেনাপতি সা’দ জিজ্ঞেস করলেন, “আপনাদের মধ্যে যিনি জার্জিসকে নিহত করেছেন, তিনি আসুন। আমার প্রতিশ্রুত উপহার তাঁর হাতে তুলে দিচ্ছি ।”

কিন্তু গোটা মুসলিম বাহিনী নীরব নিস্তব্ধ। কেউ কথা বললো না, কেউ দাবী নিয়ে এগুলোনা। সেনাপতি সা’দ বারবার আহ্বান জানিয়েও ব্যর্থ হলেন। এই অভূতপূর্ব ব্যাপার দেখে বিস্ময়ে হতবাক হলেন জার্জিস দুহিতা। তিনি দেখতে পাচ্ছেন তার পিতৃহন্তাকে। কিন্তু তিনি দাবী নিয়ে আসছেন না কেন? টাকার লোভ, সুন্দরী কুমারীর মোহ তিনি উপেক্ষা করছেন? এত বড় স্বার্থকে উপেক্ষা করতে পারে জগতের ইতিহাসে এমন জিতেন্দ্রীয় যোদ্ধা-জাতির নাম তো কখনও শুনেননি তিনি। পিতৃহত্যার প্রতি তার যে ক্রোধ ও ঘৃণা ছিল, তা যেন মুহূর্তে কোথায় অন্তর্হিত হয়ে গেল। অপরিচিত এক অনুরাগ এসে সেখানে স্থান করে নিল।

অবশেষে সেনাপতির আদেশে জার্জিস দুহিতাই যুবাইরকে দেখিয়ে দিলেন। বললেন, “ইনিই আমার পিতৃহন্তা, ইনিই আপনার জিজ্ঞাসিত মহান বীর পুরুষ ।” সেনাপতি সা’দ যুবাইরকে অনুরোধ করলেন তাঁর ঘোষিত উপহার গ্রহণ করার জন্য।

যুবাইর উঠে দাঁড়িয়ে অবনত মস্তকে বললেন, “জাগতিক কোন লাভের আশায় আমি যুদ্ধ করিনি। যদি কোন পুরষ্কার আমার প্রাপ্য হয় তাহলে আমাকে পুরষ্কৃত করার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।