যে ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর জান্নাতি পোশাক ও বিছানা দেয়া হবে

মানুষ মরণশীল। কিন্তু অনেক মানুষ কবর অর্থ্যাৎ আখিরাতের জন্য কিছু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে না। তবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা আখিরাতের পুঁজি সঙ্গে করেই কবরে যায়। এই শ্রেণীর মানুষদের জন্য অন্ধকার কবরে সুসংবাদ অপেক্ষা করছে। মৃত্যুর পর থেকে কবর দেয়া পর্যন্ত লাশের পরিণতি সম্পর্কে হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

ইবন আযেব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে এক আনসারীর জানাযার সালাতের জন্য বের হয়ে কবর পর্যন্ত গেলাম, তখনও মাটি দেওয়া হয় নি, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কিবলামুখী হয়ে বসলে আমরাও তাঁর পাশে বসলাম। সকলেই এমন নীরবতা অবলম্বন করছে যেন তাদের মাথায় পাখি বসেছে (কোনো নড়াচড়া নেই)।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হাতে একটি কাঠি ছিল, যার দ্বারা তিঁনি মাটিতে দাগ দিচ্ছিলেন। অতঃপর তিনি একবার আকাশের দিকে আবার মাটির দিকে তাকাতে লাগলেন এবং তাঁর দৃষ্টি একবার উপরের দিকে তুলেন আবার নিচের দিকে নামান, (এভাবে তিনবার করলেন) অতঃপর বললেন, তোমরা আল্লাহর নিকট কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর। (এ কথাটি দুই বা তিনবার বললেন) তারপর বললেন, হে আল্লাহ! কবরের আযাব থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি, কথাটি তিনবার বললেন।

তারপর বললেন, মুমিন বান্দা যখন ইহকাল ত্যাগ করে পরকালের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তার নিকট সূর্য্যসদৃশ শুভ্র বর্ণের মুখবিশিষ্ট ফিরিশতা জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি নিয়ে আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়ে চোখের শেষ দৃষ্টি দূরত্বে বসে থাকে। অতঃপর মালাকুল মাউত তার মাথার পাশে বসে বলতে থাকে হে পবিত্র আত্মা! অন্য বর্ণনায় হে শান্তিপ্রিয় আত্মা! আল্লাহর ক্ষমা এবং সমত্তষ্টির দিকে বের হয়ে আস। তিনি বলেন, তখন সে আত্মা কলসির মুখ থেকে পানি বের হওয়ার ন্যায় শরীর থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসলে মৃত্যুর ফিরিশতা তা হাতে তুলে নেন।

অন্য বর্ণনায় আছে, যখন তার রূহ বের হয় তখন আকাশ ও জমিনসহ সকল ফিরিশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকে, সেই সাথে তার জন্য আকাশের সকল দরজা খুলে দেওয়া হলে প্রত্যেক দরজার অধিবাসীগণ আল্লাহর নিকট দোয়া করে যেন তার রূহটি তাদের নিকট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
মালাকুল মাউত রূহটি হাতে নিয়ে এক মুহুর্তের জন্যও তার হাতে রাখতে পারেন না; বরং সাথে সাথে সেই অপেক্ষাকারী ফিরিশতারা নিয়ে জান্নাতের সুগন্ধি সম্বলিত কাফনে তুলে নেয়।

তাইতো আল্লাহ তায়ালা বলেন,

﴿تَوَفَّتۡهُ رُسُلُنَا وَهُمۡ لَا يُفَرِّطُونَ﴾ [الانعام: ٦١]

“আমার ফিরিশতাগণ হস্তগত করে নেয়, বিন্দুমাত্র ত্রুটি করে না। [সূরা আল আনয়াম, আয়াত: ৬১] এবং তা থেকে পৃথিবীতে পাওয়া যায় এমন সর্বোৎকৃষ্ট মিশকের সুগন্ধি বের হতে থাকে। তিনি বলেন, তারপর তা উপরে উঠতে থাকে, যখনই কোনো ফিরিশতার নিকট দিয়ে অতিক্রম করে তখনই সে বলে: এ পবিত্র আত্মাটি কার? তখন পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর যে নামে তাকে ডাকা হতো সে নাম ধরে বলবে: এটি অমুকের ছেলে অমুক, যতক্ষণ না পৃথিবীর আকাশ পর্যন্ত যাবে। সেখানে পৌঁছে দরজা খুলে দেওয়ার জন্য বললে তা খুলে দেওয়া হবে। অতঃপর প্রত্যেক আকাশের নৈকট্য লাভকারী ফিরিশতাগণ তার অনুসরণ করবে যতক্ষণ না সপ্তম আকাশ পর্যন্ত পৌঁছাবে।

সেখানে পৌঁছার পর আল্লাহ বলবেন, আমার এ বান্দার ঠিকানা ইল্লিয়্যিনে লিখে দাও।

﴿وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا عِلِّيُّونَ ١٩ كِتَٰبٞ مَّرۡقُومٞ ٢٠ يَشۡهَدُهُ ٱلۡمُقَرَّبُونَ ٢١﴾ [المطففين: ١٩، ٢١]

“আপনি জানেন ইল্লিয়্যিন কি? এটি একটি লিপিবদ্ধ দফতর, আল্লাহর নৈকট্য লাভকারী ফিরিশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করবে। [সূরা আল-মুতাফফিফীন, আয়াত: ১৯-২১]

তখন তার কিতাব ইল্লিয়্যিনে লেখা হয়। অতঃপর বলা হবে: তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দাও, কেননা আমি তাদেরকে অঙ্গিকার দিয়েছি যে, তা থেকে তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং তাতে ফিরিয়ে দেব আবার তা থেকেই পূনরায় উত্তোলন করব।

নবী করিম (সাঃ) বলেন, তাকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে তার শরীরে তার রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তখন সে তার ফিরে যাওয়া সাথীদের জুতার আওয়াজ শুনতে পাবে। অতঃপর হুংকারকারী শক্তিশালী দুইজন ফিরিশতা এসে তাকে ধমক দিয়ে বসিয়ে প্রশ্ন করবে:
তোমার রব কে?
সে বলবে: আমার রব আল্লাহ।
তারা বলবে: তোমার দীন কি?
বলবে: আমার দীন ইসলাম।
তারা বলবে: তোমাদের নিকট প্রেরিত লোকটি কে?
সে বলবে: তিনি হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
তারা বলবে: তুমি কীভাবে জানলে?
সে বলবে: আল্লাহর কিতাব পড়েছি, এর ওপর ঈমান এনেছি এবং বিশ্বাস করেছি।
তাকে ধরে জিজ্ঞাসা করে বলবে: তোমার প্রভু কে? তোমার দীন কি? তোমার নবী কে? আর এটিই হবে মুমিন আত্মার ওপর অর্পিত শেষ ফিতনা।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

﴿يُثَبِّتُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ بِٱلۡقَوۡلِ ٱلثَّابِتِ فِي ٱلۡحَيَوٰةِ ٱلدُّنۡيَا﴾ [ابراهيم: ٢٧]

“আল্লাহ তায়ালা মুমিন বান্দাদেরকে পার্থিব জীবনে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন।[সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ২৭]

সে বলবে আমার রব আল্লাহ, দীন ইসলাম এবং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তখন আকাশ হতে একজন আহ্বানকারী আহ্বান করবেন যে, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে জান্নাতের পোশাক পরিধান করিয়ে দাও। তিনি বলেন, তখন জান্নাত থেকে সুগন্ধির হাওয়া আসতে থাকবে এবং তার জন্য তার কবরকে চোখের শেষ দৃষ্টি পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন: তার নিকট সুশ্রী সুন্দর পোশাক পরিহিত একজন ফিরিশতা আসবে, অন্য বর্ণনায়: তার বেশ ধরে এসে বলবে: তোমাকে আনন্দিত করবে এমন একটি সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহর সমত্তষ্টি এবং অসীম শান্তি বিশিষ্ট জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর।

নবীজীকে (সা.) খুন করতে এসে যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এক ডাকাত

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে খুন করতে এসে উল্টো ইসলামের পতাকা তলে নিজেকে আত্মসমর্পন করেছিলেন এক ডাকাত।

মূলত নবীজী (সা.) একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এমন সময় দাসুর নামের একজন ডাকাত তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। এরপর শোরগোল করে সে মহানবী (সা) কে ঘুম থেকে জাগাল। মহানবী (সা) ঘুম ভাঙলে চোখ খুলে দেখলেন, একটা উন্মুক্ত তরবারি তাঁর উপর উদ্যত। ভয়ানক শত্রু দাসুর চিৎকার করে উঠলো, ‘এখন আপনাকে কে রক্ষা করবে?’

মহানবী(সা) ধীর শান্ত কণ্ঠে বললেন, ‘আল্লাহ’। শত্রু দাসুর মহানবী (সা) এর এই শান্ত গম্ভীর কণ্ঠের আল্লাহ শব্দে কেঁপে উঠল। তার কম্পমান হাত থেকে খসে পড়ল তরবারি।

মহানবী (সা) তার তরবারি তুলে নিয়ে বললেন, ‘এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে, দাসুর? সে উত্তর দিল কেই নেই রক্ষা করার।’ মহানবী (সা) বললেন, ‘না, তোমাকেও আল্লাহই রক্ষা করবেন।’ এই বলে মহানবী (সা) তাঁকে তার তরবারি ফেরত দিলেন এবং চলে যেতে বললেন।

বিস্মিত দাসুর তরবারি হাতে চলে যেতে গিয়েও পারল না। ফিরে এসে মহানবীর হাতে হাত রেখে পাঠ করলঃ ‘লা- ইলাহ ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’

না জানলে জেনে নিন সূরা ইখলাসের ফজিলত ও বরকত সমূহ।

সূরা ইখলাসের ফজিলত ও বরকতঃ
১। যে ব্যক্তি একবার সূরা ইখলাস পাঠ করবে সেই ব্যক্তি কুরআনুল কারীম এক তৃতীয়াংশ পাঠ করার সওয়াব লাভ করবে।
২। যে ব্যক্তি দশবার পাঠ করবে আল্লাহ্ তায়ালা নিজ কুদরতি হাতে জান্নাতের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাশীল একটি মহল তৈরি করবেন।
৩। যে ব্যক্তি অধিক পাঠ করবে আল্লাহ্ তায়ালা আর জন্য জান্নাতে ওয়াজিব করে দিবেন।
৪। যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণ পাঠ করবে আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর লাশ বহন করার জন্য হয়রত জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরন করবেন। সেই ফেরেশতারা তাঁর লাশ বহন করবে এবং জানাজায় শরিক হবে।
সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সকলকে জানার এবং বুঝার তৌফিক এবং সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুক। আমীন।

৪টি গুণ যার মধ্যে থাকবে সে কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হবে না

একজন খাঁটি মুসলিম শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে না। নিজের সুখে সন্তুষ্ট থাকে না। যেমন সে নিজের দুঃখেই শুধু ব্যথিত হয় না। অন্যের কথা চিন্তা করতে হয় তাকে। অন্যের কল্যাণে কাজ করতে হয়। অন্যের দুঃখে দুঃখী ও অন্যের সুখে সুখী হওয়া তার কর্তব্য। এজন্য এ চারটি গুণের প্রথম দুটো গুণ নিজের কল্যাণের জন্য আর পরের গুণ দুটো হল অন্যের কল্যাণের জন্য। প্রথম গুণ দুটো দ্বারা একজন মুসলিম নিজেকে পরিপূর্ণ করে, আর অপর দুইগুণ দ্বারা অন্যকে পরিপূর্ণ করার প্রয়াস পায়। মূলত নিচে আলোচিত চারটি গুণ যে ব্যক্তির মধ্যে থাকবে সে কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হবে না।

১। ঈমান:
প্রথম গুণটি হল ঈমান। এটা একটা ব্যাপকভিত্তিক আদর্শের নাম। প্রখ্যাত তাফসিরবিদ মুজাহিদ রহ. বলেছেন, ঈমান হল, আল্লাহকে এক বলে বিশ্বাস করা, তাঁর একত্ববাদকে সর্বক্ষেত্রে গ্রহণ করা। তাঁর পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে সবগুলোকে মেনে নেয়া এবং সর্বক্ষেত্রেই তার কাছে জওয়াব দিতে হবে এ আদর্শ ধারণ করা। (তাফসিরে তাবারি)

ঈমানের পর নেক আমল বা সৎকর্মের স্থান। সৎকর্ম কম বেশি সকল মানুষই করে। তবে ঈমান নামক আদর্শ তারা সকলে বহন করে না। ফলে তাদের আমল বা কর্মগুলো দিয়ে লাভবান হওয়ার পরিবর্তে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকে। সৎকর্মশীল মানুষগুলো যদি ঈমান নামের আদর্শকে গ্রহণ করে তাহলে এ সৎকর্ম দ্বারা তারা দুনিয়াতে যেমন লাভবান হবে আখেরাতেও তারা অনন্তকাল ধরে এ লাভ ভোগ করবে। আর যদি সৎকর্মের সঙ্গে ঈমান নামের আদর্শ না থাকে, তাহলে সৎকর্ম দিয়ে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে কিছুটা লাভবান হলেও আখেরাতের স্থায়ী জীবনে এটা তাদের কোনো কল্যাণে আসবে না। এ জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রথমে ঈমানের কথা বলেছেন।

২। সৎকর্ম:
সৎকর্ম হল, যা কিছু ইসলাম করতে বলেছে সেগুলো পালন করা আর যা কিছু নিষেধ করেছে সেগুলো থেকে বিরত থাকা। হতে পারে তা ফরজ, ওয়াজেব, সুন্নাত, মুস্তাহাব বা নফল। আর বর্জনীয় বিষয়গুলো বর্জন করে চলা। হতে পারে তা হারাম, মাকরূহ।

যখন মানুষ ঈমান স্থাপন করল, তারপর সৎকর্ম করল, তখন সে নিজেকে পরিপূর্ণ করে নিল। নিজেকে লাভ, সফলতা ও কল্যাণের দিকে পরিচালিত করল। কিন্তু ঈমানদার হিসাবে তার দায়িত্ব কি শেষ হয়ে গেল? সে কি অন্য মানুষ সম্পর্কে বে-খবর থাকবে? কিভাবে সে এত স্বার্থপর হবে? অন্য সকলকে কি সে তার যাপিত কল্যাণকর, সফল জীবনের প্রতি আহবান করবে না? কেনই বা করবে না? সে তো মুসলিম। তাদের আভির্ভাব ঘটানো হয়েছে তো বিশ্ব মানবের কল্যাণের জন্য। আর এ জন্যই তো মুসলিমরা শ্রেষ্ঠ জাতি। আল্লাহ তাআলা তো বলেই দিয়েছেন :

كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ

‘তোমরা হলে সর্বোত্তম জাতি, যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ (আলে ইমরান : ১১০)

অতএব নিজেকে ঠিক করার পর তার দায়িত্ব হবে অন্যকে কল্যাণের পথে আহবান করা। তাই ঈমান ও সৎকর্ম নামক গুণ দুটো উল্লেখ করার পর আল্লাহ তাআলা আরো দুটো গুণের কথা বললেন :

وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ

‘আর তারা পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।’

৩। সত্যের পথে মানুষকে আহবান:
সত্যের দিকে মানুষকে আহবান করা, এ আহবান করতে গিয়ে ও আহবানে সাড়া দিতে গিয়ে যে সকল বিপদ-মুসিবত, অত্যাচার-নির্যাতন আসবে তাতে ধৈর্য ধারনের জন্য একে অন্যকে উপদেশ দেয়া কর্তব্য। প্রশ্ন হতে পারে সত্যের মধ্যেই তো ধৈর্য আছে। ধৈর্য তো হক বা সত্যের একটি। তাহলে এটা আলাদাভাবে উল্লেখ না করলে কি হত না? কোনো বিষয়ের গুরুত্ব বুঝাতে সাধারণভাবে তা উল্লেখ করা হলেও আবার বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। ইসলামিক পরিভাষায় এটাকে বলা হয় : ذكر الخاص بعد العام

৪। অন্যকে ধর্য্যধারণের উপদেশ দেয়া:
কোনো বিষয় অর্জন করা সহজ হতে পারে কিন্তু সেটি ধরে রাখা ও তার ওপর অটল থাকা ততটা সহজ নাও হতে পারে। আর এ জন্যই প্রয়োজন ধৈর্য ও সবরের।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ)এর গুরুত্বপুর্ণ একটা হাদিস ! আশা করি কেউ মিস করবেন না…!

আমাদের প্রিয় নবীজী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর একজন কালো সাহাবি ছিলো ,সকল সাহাবির মধ্যে সেই বেশি কালো , কিন্তু নবীজী(সাঃ)এর ভালোবাসায় সর্বদা জীবন দিতে প্রস্তুত , সেও শাহসি সাহাবির মধ্যে একজন , প্রিয় নবীজি(সাঃ) তাকে অনেক ভালো বাসতেন তাকে । একদিন নবীজী(সাঃ) বললো , কালো সাহাবিকে তুমি সারাক্ষণ আমার সাথেই থাক, তাই তোমার কাছে আমি কিছু জানতে চাই, নবীজী(সাঃ)এর কাছে মাথা নিছু করে কালো সাহাবি বলল , হুজুর আমার জান হাজির আপনি শুধু বলুন কি জানতে চান , নবীজী বলল তোমার বিয়ের সময় হয়েছে , তুমি কি তার জন্য প্রস্তুত ।কালো সাহাবি মাথা নেরে বলল , হুজুর আমি যে এত কালো আমার কাছে কে মেয়ে বিয়ে দেবে , নবীজী(সাঃ) বলল তুমি বিয়ে করবে কিনা বল তোমার জন্য আমি মেয়ে দেখবো , কথাটি শুনে কালো সাহাবি খুশিতে কেঁদে পেলল , হুজুর আপনি আমার জন্য মেয়ে দেখবেন , এর চেয়ে আমার কাছে বড় আর কি হতে পারে,আমি রাজি। ।নবীজী(সাঃ) একটি পত্র লিখে কালো সাহাবির হাতে দিয়ে বললেন এই পত্রটি মদিনার বড় বাড়িতে গিয়ে , মালিকের হাতে দিয়ে উত্তর জেনে তার পরে আসবে , কালো সাহাবি জানে না এর ভিতরে কি লেখা আছে , নবীজী(সাঃ)এর কথা অনুযায়ী পত্র খানি নিয়ে মদিনার বড় বাড়ির মালিকের হাতে দিল । নবীজী(সাঃ)এর কথা শুনে তারাতারি পত্রটি খোলে পেলল, এর মধ্যে লেখা আছে ..আসছালামুয়ালাইকুম আমি হযরত মোহাম্মদ সাঃ আপনার কাছে আমার কালো সাহাবির জন্য আপনার মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দিলাম । আশা করি আমার প্রস্তাব আপনি গ্রহণ করবেন এবং আমার কালো সাহাবির সাথে আপনার সুন্দরী মেয়ের বিবাহ দিবেন ,

ইতি হযরত মোহাম্মদ(সাঃ)

বড় বাড়ির মালিক নবীজী(সাঃ)এর কথা শুনে কেঁদে ফেললো , আমার এক মাত্র মেয়ে , মদিনায় যাকে হুরে মদিনা বলে চিনে( কিতাবে আছে মেয়েটি এত সুন্দর যার কারনে সবাই তাকে হুরে মদিনা বলে ডাকতো)এখন আমি কি করি নবীজী (সাঃ)বলেছে আনন্দের কথা কিন্তু ছেলেটি যে অনেক কালো , বিভিন্ন চিন্তায় মালিক চিন্তিত , কালো সাহাবি বলল নবীজী(সাঃ) কি লিখেছেন , আমাকে বলেছেন উত্তর নিয়ে যেতে , মালিক বলল নবীজী (সাঃ)বলেছেন তোমার সাথে আমার মেয়ে হুরকে বিয়ে দেওয়ার জন্য বাবা তুমি এখন যাও, নবীজী(সাঃ)কে বলিয় আমি আমার মেয়ের সাথে পরামর্শ করে খবর পাঠিয়ে দেব , নবীজী(সাঃ)এর কালো সাহাবি মন খারাপ করে ফিরে যাচ্ছে । এমন সময় ঐ মেয়েটি দৌড়ে এসে বলল বাবা দেখলাম একটি লোক এলে হাসিমুখে , কিন্তু যাওয়ার সময় মন খারাপ করে যাচ্ছে কারন কি?বাবা মেয়ের কাছে সব খুলে বললো , কথাটা শুনে মেয়েটি খুশিতে আত্মা হারা হয়ে বলল বাবা কি বলেছেন , নবীজী (সাঃ) পত্র লিখেছেন আমার বিয়ার প্রস্তাব এর জন্য , আর আপনি ফিরিয়ে দিলেন বাবা ঐ সাহাবি নবীজী(সাঃ)এর কাছে পৌছার আগেই তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন , না হয় যে আল্লাহর কাছে আমরা অপরাধী হয়ে যাবো । বাবা নবীজী (সাঃ)পত্র লিখেছেন , এতে মনে হয় মদিনার সব চেয়ে মূল্যবান ও সূ ভাগ্যবান মেয়ে আমি , মেয়ের মুখে কথাটি শুনে বাবা আলহাদুলিল্লা বলে ঐ সাহাবি কে ফিরিয়ে নিয়ে এল, বলল তুমি যে আমার মেয়েকে বিয়ে করবে , দেন মহর হিসেবে কি দেবে
কালো সাহাবি বল্ল আমার কাছে নবীজী(সাঃ)এর ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই নেই , ঐ মেয়েটি বল্ল বাবা আপনারতো অনেক টাকা আজ নবীজী(সাঃ)এর ভালোবাসায় কিছু টাকা দেনমহরের জন্য ওকে দিয়ে দিন , মালিক আরো বল্ল বিয়ে যে করবে , কিছু কেনা কাটা করেছ , আমার মেয়েকে সাজানোর জন্য , কালো সাহাবির উত্তর আমার কাছে কোন টাকা নেই , ঐ মেয়েটি বল্ল বাবা , নবীজী(সাঃ)এর ভালোবাসার খাতিরে বিয়ের কেনা কাটার জন্য ও কিছু টাকা দিয়ে দিন ।অবশেষে মদিনার বড় মালিক নবীজী(সাঃ)এর ভালোবাসার খাতিরে , কালো সাহাবির হাতে কিছু টাকা দিয়ে বল্ল যাও বিয়ের বাজার করে নিয়ে আসো , আজকের ভিতরে আমি নবীজী(সাঃ)এর কথায় আমার সুন্দরী মেয়ের সাথে তোমার বিয়ে দেব ।নবীজী(সাঃ)এর কালো সাহাবি মনের আনন্দে বিয়ের বাজার করতে রওনা হলো , বাজারে গিয়ে কিছু কেনা কাটাও করে , হঠাৎ দেখে মানুষের দৌড়া দৌড়ি , কালো সাহাবি বলল কি হলো সবাই এমন করে দৌড়াচ্ছে কেন ??? দোকানের মালিক বলল তুমি কি কিনবে পরে এসো , আমাদের মদিনার সম্পদ , মুসলিম বিশ্বের রহমত , হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)কে শত্রুরা আক্রমণ করেছে , এই বলে দোকান বন্ধ করে চলে গেল ।তখন কালো সাহাবি অন্য দোকানে গিয়ে , বিয়ের বাজারের টাকা দিয়ে একটি তরবারি কিনলো, হঠাৎ আবার মনে হলো মদিনার সুন্দরী মেয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে , নিজের মনকে বুঝালো যেই নবীজী(সাঃ)না হলে আমি হতাম না , দুনিয়া ও হতো না সেই নবীর চেয়ে সুন্দরী মেয়ে আমার কাছে বড় নয়, এই বলে নবীজী(সাঃ)এর কালো সাহাবি দৌড়ে যুদ্ধের ময়দানে চলে গেল । কিতাবে আছে ঐ যুদ্ধে নবীজী(সাঃ)এর ৭০ জন সাহাবি শহীদ হয়েছে , তার মধ্যে কালো সাহাবি একজন । নবীজী (সাঃ)অশ্রুসিক্ত হয়ে বলল , আমার আদরের সাহাবিদের কে রক্ত মাখা অবস্হায় দাফন করে দাও , কিয়ামতের ময়দানে আমি আল্লাহর কাছে তাদের রক্ত মাখা শরীর দেখিয়ে , কোটি কোটি গুনাগার উম্মেতের নাবাজাতের দাবি করবো ।হঠাৎ নবীজী(সাঃ)এর চোখ পরে কালো সাহাবির দিকে , জিহবা কামুর দিয়ে রক্ত মাখা হয়ে পরে আছে , নবীজী(সাঃ)এর চিৎকার দিয়ে বলল , এই আমার কালো সাহাবির লাশ , তার আজকে বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো , কয়েকজন সাহাবি বলল হুজুর আপনার কালো সাহাবি বিয়ের বাজার করতে গিয়ে , যখন শুনতে পেলো , শত্রুরা আপনাকে আক্রমণ করেছে , তখন সে যুদ্ধের বাজার করেছে ।নবীজী(সাঃ)কাঁন্না অবস্হায় কালো সাহাবির কবরের ভিতরে তাকালো , কিছুক্ষণ পর হাসিমুখে বলল দাও তোমরা , আমার কালো সাহাবির দাফন করে দাও , সাহাবিরা বলল হুজুর বেয়াদবি মাপ করবেন , আপনি কাঁন্না অবস্হা কালো সাহাবির দিকে তাকালেন , আবার হাসিমুখে দাফন করতে বললেন , কারনটি বলবেন হুজুর ।তাহলে শুন আমার কালো সাহাবির বিয়ের বাজার দিয়ে যুদ্ধের বাজার করেছে , আমার ভালোবাসায় ইসলাম এর পথে শহীদ হয়েছে , আমি তাকিয়ে দেখি ঐ হুরে মদিনা বেহেস্তি হুর হয়ে তার সেবা করছে ।

সুবাহানআল্লাহ

ঐতিহাসিক ইসলামিক কাহিনী, এক সুন্দরী রমনি ও ১ হাজার দিনার

তখন হযরত উসমান (রা) এর শাসনকাল। নীল ভূমধ্যসাগর তীরের তারাবেলাস নগরী। পরাক্রমশালী রাজা জার্জিসের প্রধান নগরী এটা। এই পরাক্রমশালী রাজা ১ লক্ষ ২০ হাজার সৈন্য নিয়ে আবদুল্লাহ ইবন সা’দের নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনীর অগ্রাভিযানের পথ রোধ করে দাঁড়ালেন। স্বয়ং রাজা জার্জিস তার বাহিনীর পরিচালনা করছেন। পাশে রয়েছে তার মেয়ে। অপরূপ সুন্দরী তার সে মেয়ে।

যুদ্ধ শুরু হল। জার্জিস মনে করেছিলেন তার দুর্ধর্ষ বাহিনী এবার মুসলিম বাহিনীকে উচিত শিক্ষা দেবে। কিন্তু তা হল না। মুসলিম বাহিনীর পাল্টা আঘাতে জার্জিস বাহিনীর ব্যুহ ভেঙ্গে পড়ল। উপায়ান্তর না দেখে তিনি সেনা ও সেনানীদের উৎসাহিত করার জন্য ঘোষণা করলেন, “যে বীর পুরুষ মুসলিম সেনাপতি আবদুল্লাহর ছিন্ন শির এনে দিতে পারবে, আমার কুমারী কন্যাকে তার হাতে সমর্পণ করবো।”

জার্জিসের এই ঘোষণা তার সেনাবাহিনীর মধ্যে উৎসাহের এক তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করল। তাদের আক্রমণ ও সমাবেশে নতুন উদ্যোগ ও নতুন প্রাণাবেগ পরিলক্ষিত হলো। জার্জিসের সুন্দরী কন্যা লাভের উদগ্র কামনায় তারা যেন মরিয়া হয়ে উঠল। তাদের উন্মাদ আক্রমণে মুসলিম রক্ষা ব্যুহে ফাটল দেখা দিল। মহানবীর শ্রেষ্ঠ সাহাবাদের একজন- হযরত যুবাইর (রা)ও সে যুদ্ধে শরীক ছিলেন। তিনি সেনাপতি সা’দকে পরামর্শ দিলেন, “আপনিও ঘোষণা করুন, যে তারাবেলাসের শাসনকর্তা জার্জিসের ছিন্নমুন্ড এনে দিতে পারবে, তাকে সুন্দরী জার্জিস দুহিতাসহ এক হাজার দিনার বখশিশ দেয়া হবে।” যুবাইরের পরামর্শ অনুসারে সেনাপতি সা’দ এই কথাই ঘোষণা করে দিলেন।

তারাবেলাসের প্রান্তরে ঘোরতর যুদ্ধ সংঘটিত হলো। যুদ্ধে জার্জিস পরাজিত হলেন। তার কর্তিত শিরসহ জার্জিস কন্যাকে বন্দী করে মুসলিম শিবিরে নিয়ে আসা হলো। কিন্তু এই অসীম সাহসিকতার কাজ কে করলো? এই বীরত্বের কাজ কার দ্বারা সাধিত হলো? যুদ্ধের পর মুসলিম শিবিরে সভা আহূত হলো। হাজির করা হলো জার্জিস-দুহিতাকে। সেনাপতি সা’দ জিজ্ঞেস করলেন, “আপনাদের মধ্যে যিনি জার্জিসকে নিহত করেছেন, তিনি আসুন। আমার প্রতিশ্রুত উপহার তাঁর হাতে তুলে দিচ্ছি ।”

কিন্তু গোটা মুসলিম বাহিনী নীরব নিস্তব্ধ। কেউ কথা বললো না, কেউ দাবী নিয়ে এগুলোনা। সেনাপতি সা’দ বারবার আহ্বান জানিয়েও ব্যর্থ হলেন। এই অভূতপূর্ব ব্যাপার দেখে বিস্ময়ে হতবাক হলেন জার্জিস দুহিতা। তিনি দেখতে পাচ্ছেন তার পিতৃহন্তাকে। কিন্তু তিনি দাবী নিয়ে আসছেন না কেন? টাকার লোভ, সুন্দরী কুমারীর মোহ তিনি উপেক্ষা করছেন? এত বড় স্বার্থকে উপেক্ষা করতে পারে জগতের ইতিহাসে এমন জিতেন্দ্রীয় যোদ্ধা-জাতির নাম তো কখনও শুনেননি তিনি। পিতৃহত্যার প্রতি তার যে ক্রোধ ও ঘৃণা ছিল, তা যেন মুহূর্তে কোথায় অন্তর্হিত হয়ে গেল। অপরিচিত এক অনুরাগ এসে সেখানে স্থান করে নিল।

অবশেষে সেনাপতির আদেশে জার্জিস দুহিতাই যুবাইরকে দেখিয়ে দিলেন। বললেন, “ইনিই আমার পিতৃহন্তা, ইনিই আপনার জিজ্ঞাসিত মহান বীর পুরুষ ।” সেনাপতি সা’দ যুবাইরকে অনুরোধ করলেন তাঁর ঘোষিত উপহার গ্রহণ করার জন্য।

যুবাইর উঠে দাঁড়িয়ে অবনত মস্তকে বললেন, “জাগতিক কোন লাভের আশায় আমি যুদ্ধ করিনি। যদি কোন পুরষ্কার আমার প্রাপ্য হয় তাহলে আমাকে পুরষ্কৃত করার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

সূরা ‘আসর’ আমাদের যা শিক্ষা দেয়

আমরা অনেকেই পবিত্র কোরআনের সূরা আসর মুখস্থ করেছি এবং নিয়মিত পাঠ করি। কিন্তু আমরা সূরা ‘আসরের’ অর্থ জানি কি? মহান আল্লাহ তায়ালা এই সূরাটি কেন নাজিল করেছেন, তা আমরা জানি কি?

ছোট এই সূরাটির মধ্যে আল্লাহ তাআলা কতগুলি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রেখেছেন। চমৎকার হেদায়েত রেখেছেন ক্ষুদে এ সূরাটির মধ্যে। ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির স্পষ্ট সনদ রেখেছেন তিনি মাত্র তিন আয়াত বিশিষ্ট এ সূরার মধ্যে। সাহাবায়ে কেরামের অনেকের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তারা যখন একজন অপর জনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করতেন তখন সূরা আল আসর পাঠ করে শুনাতেন। (তাবরানি, হায়সামি ফি মাজমাআয যাওয়ায়েদ)

ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা যদি কুরআনে অন্য কোনো সূরা নাযিল না করে শুধু সূরা আল আসর নাযিল করতেন তাহলে এটা মানুষের হেদায়াতের জন্য যথেষ্ট হত।'(মিফতাহুস সাআদাহ : ইমাম শাফেয়ি)

যদি কেউ এ সূরায় গভীরভাবে দৃষ্টি দেয় তাহলে সে তাতে একটি উন্নত, সুন্দর, শান্তিময়, পরিপূর্ণ এবং সবার জন্য কল্যাণকর সমাজের চিত্র দেখতে পাবে। (আদওয়াউল বায়ান : ৯/৫০৭)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ সূরাটি শুরু করেছেন ‘ওয়াল আসর’ শব্দ দিয়ে। ইরশাদ হয়েছে-

وَالْعَصْرِ ﴿1﴾

১। ‘আসরের শপথ।’

‘আসর’ বলতে কি বুঝানো হয়েছে?
‘আসর’ শব্দের দুটো অর্থ : এক. যুগ বা সময়। দুই. আসরের নামাজের সময়, যার আগমন হয় জোহরের নামাজের সময় শেষ হওয়ার পর এবং শেষ হয় সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে। আল্লাহ তাআলা কোনটির শপথ করেছেন? সময়ের শপথ না আসরের ওয়াক্তের শপথ?

সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত হল তিনি ‘আসর’ বলতে এখানে সমস্ত সময়ের শপথ করেছেন। করেছেন যুগের শপথ। আর যুগের গর্ভেই এক জাতির উত্থান ঘটে, অন্য জাতির ঘটে পতন। রাত্রি আসে। যায় দিন। পরিবর্তিত হয় পরিবেশ ও মানব সমাজ। এমন সব পরিবর্তন আসে যা মানুষ কল্পনা করতে পারে না। কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত কখনো বা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পরিবর্তন আসে এ সময়ের ব্যবধানেই। তাই এ যুগ বা সময় বড় বিস্ময়কর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানব, দানব, জীব-জন্তুসহ তাবৎ সৃষ্টিকুলের জন্য। এটা বুঝানোর জন্যই আল্লাহ তাআলা সময়ের শপথ করেছেন। (আত তিবইয়ান ফি আকসামিল বায়ান : ইবনুল কায়্যিম আল জাওযি)

কোনো বস্তু বা বিষয়ের শপথ করলে তার অস্বাভাবিক গুরুত্ব বুঝায়। সময় এমনই এক বিস্ময়ের আধার যে, আমরা জানি না অতীতকালে এটা কি কারণে হয়েছে। আমরা জানি না ভবিষ্যতে কি ঘটতে যাচ্ছে। এমনকি আমাদের নিজেদের জীবন, নিজের পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সম্পর্কে আমরা বলতে পারি না যে আগামী কালকের পরিবশেটা ঠিক আজকের মত থাকবে কি থাকবে না। দেখা যায় মানুষ নিজ সম্পর্কে একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামীকাল এটা সে বাস্তবায়ন করবে। অর্জন করবে এটা সেটা অনেক কিছু। সে দৃঢ় প্রত্যয়ী থাকে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে। সব উপকরণ থাকে হাতের নাগালে। সব মাধ্যম ও ফলাফল থাকে আপন নখদর্পনে। কোনো কিছুরই অভাব নেই। তবুও এ ‘সময়’ নামক বস্তুটির ব্যবধানে এমন কিছু ঘটে যায় যা তার সব কিছুকে তছনছ করে দেয়। সে ভাবতেই পারে না- কেন এমন হল। অনেক বড় বড় হিসাব সে মিলিয়েছে কিন্তু এর হিসাব সে মেলাতে পারছে না। এটাই হল ‘সময়’। আল্লাহ তাআলা এর প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই বলেছেন, ‘ওয়াল আসর’ – শপথ সময়ের।

এ থেকে আমরা জীবনের জন্য সময়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারি। আমাদের মনে রাখতে হবে আল্লাহ হলেন মহান। তিনি মহান বস্তু ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর শপথ করেন না।

তাফসিরবিদ ইকরামাসহ অনেকে বলেছেন, ‘আসর’ বলতে এখানে আসরের নামাজের সময়ের শপথ করা হয়েছে। কেননা আসর নামাজের সময়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রখ্যাত তাফসিরবিদ ইবনে জারির আত তাবারী রহ. বলেছেন, ‘সঠিক কথা হল এখানে ‘আসর’ বলতে আল্লাহ তাআলা ‘সময়’ কে বুঝিয়েছেন। যুগের অপর নাম সময়। সকাল, বিকাল, দুপুর, রাত, দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর, যুগ, শতাব্দী, সহস্রাব্দ ইত্যাদি সব কিছুই বুঝায় এ ‘আসর’ বা ‘সময়’ নামক শব্দ। (জামেউল বায়ান : ১৫/২৮৯)

যদি এ সূরাটির প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টি দেয়া হয় তাহলে দেখা যাবে যে, সময়টাকে সকল যুগে টেনে নেয়া হয়েছে। মানুষকে সময়ের মধ্যে আবদ্ধ করা হয়েছে। সময় ছাড়া মানুষের জীবন যেমন সচল নয়, তেমনি সময় ব্যতীত তাদের কোনো অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতও নেই।

দ্বিতীয় আয়াত :
إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ ﴿2﴾
২। ‘অবশ্যই মানুষ ক্ষতিতে নিপতিত।’

যদিও এখানে ইনসান বা মানুষ শব্দটি এক বচনে ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু তার পূর্বে জাতিবাচক আলিফ লাম ব্যবহার করে পুরো মানব জাতিকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ পুরো মানবগোষ্ঠি ক্ষতিগ্রস্ত। তারা সকলে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে যাদের মধ্যে চারটি গুণ আছে তারা ব্যতীত। এ চারটি গুণের অধিকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত নয়। তারা লাভবান সর্বদা। লাভবান ইহকাল ও পরকালে। পরবর্তী আয়াতে এ চারটি গুণের কথাই বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয় আয়াত :
إِلَّا الَّذِينَ آَمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ﴿3﴾

৩। ‘তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।’

যেকোনো বিপদের মুহূর্তে ছোট্ট এই দোয়াটি পড়তে হয়

আমরা চলার পথে অনেক সময় বিভিন্ন বিপদে পড়ে থাকি। বিপদে পড়লে আমাদের মহান আল্লাহ তা’য়ালা রক্ষা করেন। তবে বিপদে পড়লে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) আমাদের ছোট্ট এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন।

আরবি দোআ
«إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي، وَأَخْلِفْ لِي خَيْرَاً مِنْهَا».

বাংলা উচ্চারণ
ইন্না লিল্লা-হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লা-হুম্মা আজুরনী ফী মুসীবাতী ওয়াখলুফ লী খাইরাম মিনহা।

বাংলা অর্থ
আমরা তো আল্লাহ্‌রই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। হে আল্লাহ! আমাকে আমার বিপদে সওয়াব দিন এবং আমার জন্য তার চেয়েও উত্তম কিছু স্থলাভিষিক্ত করে দিন।”[ মুসলিম ২/৬৩২, নং ৯১৮।]

আজরাঈল (আ.) আসার পর মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির অনুভূতি যেমনটা হয়

প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।

মৃত্যুর সময় কেমন বোধ করে মানুষ?
মৃত্যু এবং মৃত্যু যন্ত্রণা প্রত্যেক মানুষের জন্য অনিবার্য। মহান আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় রাসূল (সা:) কে মৃত্যুর স্বাদ নিতে হয়েছিলো। আর যখন তিনি মৃত্যুর কিনারায় পৌছেছিলেন, যখন তিনি মৃত্যু যন্ত্রণায় আক্রান্ত হলেন। তখন নিজের সাথে এক জগ পানি রেখেছিলেন , আর সেখান থেকে নিজের হাত ডুবিয়ে নিয়ে মুখ মুছতেন এবং বলতেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ইন্না লিল মাওতি লা সাকারাত, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।” -অর্থাৎ: নিশ্চয়ই মৃত্যু যন্ত্রণা বড়ই তীব্র এবং বড়ই কঠিন!

যদি খোদ রাসূল(সা:) মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর হন, তাহলে আমাদের কেমন হবে? অবশ্যই কঠিন। আর কাফির বা অবিশ্বাসীগণদের শাস্তি হবে সর্বোচ্চ।
তাদেরকে মৃত্যুর সময় ফেরেস্তারা বলবে, বেড়িয়ে আয় হে পাপি আত্মা! আর তোদের জন্য অপেক্ষা করছে আল্লাহর শাস্তি! তবে কিছু মানুষের মৃত্যু
যন্ত্রণা হবে খুবই কম। যেমন একটি পিপড়ার কামরের মত। আর তারা হলেন শহীদগণ।

কোরআনকে স্পর্শ করে কসম করা কি জায়েজ?

কোরআনে কারিমকে স্পর্শ করে কসম করার বিধান নেই। কসম আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নামে হয়। কিন্তু কোরআনকে স্পর্শ করে যদি কেউ কসম করে যেহেতু আল্লাহর কালাম, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কথা, তাই এটিও একধরনের কসম। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এ কথা বলেছেন যে, কসমের হুকুমের মধ্যে আসবে। তাই এই কসম যদি কেউ করে থাকেন, তাহলে সেই ব্যক্তিকে অবশ্যই সেই কসমটি পূরণ করতে হবে। এটি বিধান নয় কিন্তু কসম করলে সেটি পূরণ করতে হবে, ভঙ্গ করা যাবে না। কারণ এটি আল্লাহর কালাম।আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কালাম হওয়ার কারণে কোরআনের মর্যাদা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করা সুযোগ নেই। আল্লাহর নামে কসম করলে যেমন তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা জায়েজ নেই তেমনিভাবে কোরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কালাম হওয়ার কারণে এর মর্যাদা কোনোভাবে ক্ষুণ্ণ করা জায়েজ নেই। তাই এটি কসমের হুকুমের মধ্যে আসবে, তিনি কসমটি ভঙ্গ করতে পারবেন না, তিনি কসম রক্ষা করবেন।