নামাজে টুপি পরা কি জরুরী? জানুন বিস্তারিত

নামাজে টুপি পরা জরুরি কি-না এটা নিয়ে আমাদের সমাজে ইদানীং কিছু বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে এটাকে জরুরি মনে করেন না। আবহমান কাল ধরে গ্রাম-বাংলায় টুপি পরে নামাজ আদায়ের যে সংস্কৃতি এটাকে অনেকেই অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু টুপি মুসলিম

উম্মাহর শেয়ার বা জাতীয় নিদর্শন। টুপি রাসুলে করিম (সা.), সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, তাবে তাবেয়িনরা পরেছেন এবং পরবর্তী সব যুগের মুসলমানরাই পরেছেন।

পাগড়ির মতোই একটি ইসলামি লেবাস টুপি। হাদিস ও ইতিহাসের কিতাবে এ ব্যাপারে অনেক গ্রহণযোগ্য আলোচনা রয়েছে। রাসুলে করিম (সা.) মাথা ঢেকে নামাজ আদায় করতেন, আমাদেরও তাই করা উচিত। নামাজ আদায় করার জন্য আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে যথেষ্ট বিনয় অবলম্বন করা প্রয়োজন। পোশাক এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘তোমরা নামাজের সময় তোমাদের সর্বোৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করো’ (সূরা আরাফ : ৩১)। হাসান ইবনে আলী (রা.) নামাজের সময় সর্বোৎকৃষ্ট পোশাক পরতেন। একদিন কেউ তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সুন্দর এবং তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন। তাই আমি আমার প্রভুর জন্য সুন্দর পোশাক পরি (রুহুল মাআনি : ৪/৩৪৯)।

হাসান বসরি (রহ.) বলেন, তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম গরমের কারণে) পাগড়ি বা টুপির ওপর সিজদা করতেন (বোখারি: ১/৮৬)। যুহাইর (রহ.) বলেন, আমি প্রখ্যাত তাবেয়ি আবু ইসহাক সাবিয়ীকে দেখেছি, তিনি আমাদের নিয়ে নামাজ পড়েছেন। তিনি মাটি থেকে টুপি উঠিয়ে মাথায় পরেছেন (তাবাকাতে ইবনে সাদ: ৬/৩১৪)। তাই ফুকাহায়ে কেরাম নামাজে টুপি পরা সুন্নত বলেছেন এবং অবহেলা করে টুপি না পরে নামাজ পড়াকে মাকরুহ বলেছেন, যদিও নামাজ আদায় হয়ে যাবে (ফাতাওয়া কাজিখান: ১/১৩৫)।

নামাজ পড়া অবস্থায় মাথা থেকে টুপি মেঝেতে পড়ে গেলে বা পাগড়ি খুলে গেলে, খুব সহজেই তা ঠিক করে নিতে পারলে করে নেয়া উত্তম। আমলে কাছিরের মতো খুব বেশি নড়াচড়ার প্রয়োজন হলে, তখন নড়াচড়া না করে এ অবস্থায়ই নামাজ আদায় করে নেবে (জাদিদ ফিকহি মাসায়িল, পৃষ্ঠা ১১৬)।

তাই আমাদের টুপি পরার ব্যাপারে অনাদর অবহেলা না করে, নামাজে টুপি পরিধান করে রাসুলে করিম (সা.) এর সুন্নত পালন করা উচিত এবং প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী শরীরের অন্যান্য পোশাকের সঙ্গে মানানসই টুপি পরিধান করা জরুরি।

কোরআন পড়ে গেলে কিংবা পুরনো হলে করণীয় !

পবিত্র কোরআনে কারিম আল্লাহতায়ালার কালাম। অতএব যে আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের ওপর ইমান রাখে, তার ওপর কোরআনে কারিমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ও অপমান থেকে তা রক্ষা করা অবশ্য কর্তব্য। কোনো কোরআনের কপি যদি, পুরনো হয়, ছিড়ে যায় ও তার পৃষ্ঠাগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়, তাহলে এমন জায়গায় রাখা যাবে না, যেখানে ওইসব পাতার অমর্যাদা হয়, ময়লা-আবর্জনায় পতিত হয়, মানুষ বা জীবজন্তু দ্বারা পিষ্ট হয়।

হাত থেকে পড়ে গেলে যা করবেন: আমাদের সমাজে প্রচলন রয়েছে, কারো হাত থেকে ভুলে বা অন্য কোনোভাবে কোরআনে কারিম পড়ে গেলে, কোরআনের ওজন পরিমাণ চাল দান করে দিতে হয়। আসলে এর কোনো শরয়ী ভিত্তি নেই। কারো হাত থেকে কোরআন পড়ে গেলে এ জন্য সে অনুতপ্ত হবে, ভবিষ্যতে যেন আর কোরআন না পড়ে সে জন্য সতর্ক থাকবে।

এভাবে শুধু পবিত্র কোরআনে কারিম নয়, হাদিস গ্রন্থ থেকে শুরু করে, কায়দা, আমপাড়া এমনকি ইসলামি বইপুস্তক যেখানে কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ আছে সেসবেরও একই হুকুম। এদিকে লক্ষ্য রেখেই ইসলামি স্কলাররা বলেন, যত্রতত্র বিশেষ করে পোস্টার হ্যান্ডবিলে কোরআনের আয়াত বা হাদিসের উদ্ধৃতি না লেখা। কারণ, এসবের সংরক্ষণ হয় না।

পুরনো কোরআন যদি বাঁধাই করে পাঠ উপযোগী করা সম্ভব হয়, তাহলে পরিত্যক্ত না রেখে ব্যবহার করা শ্রেয়। অনুরূপভাবে প্রকাশক বা কারো অবহেলা ও ভুলের কারণে কোরআনে কারিমে যদি ভুল ছাপা হয়, আর সংশোধন করা সম্ভব হয়, তাহলে সংশোধন করে পাঠ উপযোগী করা জরুরি।

তবে পুরনো বা ভুলছাপার কোরআন যদি একেবারেই পাঠ উপযোগী করা সম্ভব না হয়, তাহলে অসম্মান ও বিকৃতি থেকে সুরক্ষার জন্য কোরআনের ওই কপিগুলো নিরাপদ স্থানে দাফন করা জরুরি। নিরাপদ স্থান বলতে ওই স্থানকে বুঝায়, যেখানে মানুষ চলাচল করে না, ভবিষ্যতে অপমানের সম্মুখিন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

পুরনো ও ব্যবহার অনুপযুক্ত কোরআন সুরক্ষার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে তা পুড়িয়ে দেয়া। হজরত উসমান (রা.) কোরাইশি হরফের কোরআন রেখে অবশিষ্ট কোরআনের কপিগুলো পোড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মর্মে একটি বর্ণনা ইমাম বোখারি (রহ.) উল্লেখ করেছেন।

তবে পুরনো কোরআনের কপি পোড়ানোর ক্ষেত্রে আলেমরা বলেন, এসব ভালো করে পুড়ে ছাই করা জরুরি, কারণ অনেক সময় পোড়ানোর পরও হরফ অবশিষ্ট থাকে। পুরনো কোরআন দাফন করা অপেক্ষা পোড়ানো উত্তম। কারণ, দাফনের পর কখনো ওপর থেকে মাটি সরে গেলে দাফনকৃত কোরআনের অসম্মান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পোড়ানো ও পোড়ানোর পর ছাইগুলো দাফন করা অধিক শ্রেয়।

অনেকে ব্যবহার অনুপযুক্ত কোরআনের কপি পানিতে ফেলে দেন। এটা ঠিক না। কারণ, পানিতে ভাসমান অবস্তায় এসব কোরআনের কপি যে কোনো ময়লা-আবর্জনা কিংবা নাপাক স্থানে গিয়ে ঠেকতে পারে। তাই এ পদ্ধতি সঠিক নয়। তবে হ্যাঁ, একান্তই যদি পানিতে ভাসিয়ে দিতে হয়, তাহলে প্রবহমান নদীতে ভারী কোনো কিছু বেঁধে তারপর ফেলতে হবে।

স্ত্রীর উপার্জিত অর্থে স্বামীর কোনো অধিকার নেই জেনে নিন ইসলাম কি বলে

স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকার ও স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এবার ভিন্ন একটি বিষয় আলোচনার প্রয়োজন বোধ করছি। বর্তমান সমাজে স্বামী

স্ত্রী উভয় চাকুরি করে থাকেন। নারীদের কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সে হিসেবে অনেক বিবাহিত নারীও চাকুরি করেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে সংসারে স্ত্রীও চাকুরি করেন তার উপার্জনে কী স্বামীর কোনো অধিকার রয়েছে কীনা বা সংসার খরচের জন্য ব্যয় করা বাধ্যতামূলক কীনা।

ইসলামি শরিয়া মতে, স্বামীর উপার্জনের ওপর স্ত্রীর ভরণ পোষণের অধিকার থাকলেও স্ত্রীর উপার্জনের ওপর স্বামীর কোনো অধিকার নেই। সংসারে স্ত্রীর উপার্জন থেকে ব্যয় করার জন্য তাকে বাধ্য করা যাবে না। তবে খুশি মনে যদি স্ত্রী সংসারের জন্য ব্যয় করেন এটা তার জন্য সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য হবে। তবে কোনো ক্রমেই তাকে বাধ্য করা যাবে না। খুশি মনে ব্যয় করলে ভিন্ন বিষয়।

স্ত্রীর উপার্জিত টাকা থেকে পারিবারিক ঋণ পরিশোধ অথবা সংসার পরিচালনার জন্য খরচ করতে হলে অবশ্যই স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। তার অনুমতি হলেই কেবল এটাই সম্ভব হবে, অন্যথায়। কারণ, স্ত্রীর সম্পদের অধিকারী স্বামী নয়। তাই স্ত্রীকে না জানিয়ে তার খরচ করলে স্বামী গুনাহগার হবে।

স্ত্রীর উপার্জিত অর্থ তার অনুমতি ব্যতীত খরচ করা, কিংবা স্ত্রীকে না জানিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোন থেকে শুরু করে কাউকে ওই টাকা দিয়ে সাহায্য করা ইসলাম অনুমোদন দেয় না। এটা জায়েজ নেই। এটা করলে স্ত্রীর অধিকার নষ্ট করা হবে এবং তার আমানতের খেয়ানত করা হবে।

তবে হ্যাঁ, স্বামী তার উপার্জিত টাকা সংসারের চাহিদা মিটিয়ে নিজ পছন্দমতো খরচ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে স্ত্রীর উপার্জিত অর্থে স্বামীর অধিকার না থাকলেও প্রয়োজনে স্বামীর সংসারের জন্য খরচ করা পুণ্যের কাজ। এতে স্বামী স্ত্রীর মাঝে মিল মুহাব্বত ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে। একে অপরের প্রতি সহনশীল হবে। স্ত্রীর স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করেই তার অর্থ ব্যয় করা উচিত। এতে স্বামীর মনও খুশি থাকবে। তবে স্ত্রী যদি তার অর্থের ব্যাপারে স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ নাও করেন এর জন্য স্ত্রীকে দোষারোপ করা যাবে না।

মানুষের যে হাড় মাটি খেয়ে ফেলতে পারেনা, সেখান থেকে পুনরায় মানুষকে তৈরি করা হবে

আবু হুরায়রা বলেন “আল্লাহর রাসুল(সাঃ) বলেছেন,‘দুই ‍শিঙ্গার শব্দের মাঝে ৪০’।”উপস্থিত কেউ একজন আবু হুরায়রাকে জিজ্ঞাসা করল,“৪০দিন?” তিনি কোন উত্তর দিলেন না।আবার তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো,“৪০মাস?” তিনি উত্তর দিলেন না।তাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হলো, “৪০বছর?” তিনি এবারও উত্তর প্রদানে বিরত থাকলেন। এরপর আবু হুরায়রা রাসুলুল্লাহ(সাঃ)-এর বাণীর বাকীটুকু বলা শুরু করলেন “তারপর আল্লাহ আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং মানুষের মৃতদেহগুলো চারাগাছের মত বেড়ে উঠবে।মানুষের শরীরের কোন অংশই নষ্ট হতে (বা পঁচতে) বাকি থাকে না কেবলমাত্র একটা হাঁড় ছাড়া (যেটি মেরুদন্ডের একেবারে শেষপ্রান্তে কক্সিস নামে পরিচিত) যা থেকে পুনরুত্থান দিবসে পুনরায় মানবদেহ তৈরি করা হবে”।উপরোক্ত হাদিসটিই আবার ভিন্ন রেয়াতে বুখারী,নাসায়,আবু দাউদ,ইবনে মাজা,আহমেদ তার ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে এবং মালেক তার ‘মুওয়াত্তা’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন-


আবু হুরায়রা বলেন নবীজী(সাঃ) বলেছেন:“মাটি আদম সন্তানের দেহের সবটুকুই খেয়ে ফেলবে কেবলমাত্র এক টুকরা হাঁড় ছাড়া (কক্সিস অর্থে) যা থেকে তাকে তৈরি করা হয়েছে এবং যা থেকে তাকে পুনরায় তৈরি করা হবে”।
উপরোক্ত হাদিসটি বিশ্লেষণ করলে যে বিষয়গুলো উঠে আসে-
১)মেরুদন্ডের নিচের প্রান্তে থাকা ক্ষুদ্রতম হাঁড় তথা কক্সিস থেকেই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে
২)এই হাঁড়টি ধ্বংস হয় না।
৩)মৃত্যুর পর পুনরায় তা থেকেই আবার তাকে তৈরি করা হবে।
৪)চারাগাছ যেভাবে বেড়ে উঠে ঠিক সেভাবেই মানুষের দেহ পুন তৈরি হবে।
প্রথমে বর্ণিত হাদিসটিতে লক্ষ্যণীয় যে উপস্থিত লোকজন আবু হুরায়রাকে ‘৪০’ এর ব্যাপারে ‘৪০দিন’ না ‘৪০মাস’ না ‘৪০বছর’ জিজ্ঞাসা করলেও ‘৪০সপ্তাহের’ কথা কেউ জিজ্ঞাসা করেননি।আমরা জানি মাতৃগর্ভে ভ্রুণ পরিপূর্ণ শিশুতে পরিণত হতে প্রায় ৪০ সপ্তাহ সময় লাগে।
পুনরুত্থানের সময় মানুষের দেহ তৈরি হওয়াকে চারাগাছের সাথে তুলনা করাকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়েছে। কারণ গাছের বীজ শুকনো অবস্থায় (কোন রকমের পানি বা অন্য পুষ্টি না গ্রহণ করেই) বছরের পর বছর সংরক্ষণ করা যায়।এবং এই শুকনো বীজকে মাটিতে বুনলে তা থেকে সজীব গাছ বের হয়ে আসে।
তাহলে আমাদের দেহের ‘কক্সিস’ নামক হাঁড়টি কি আমাদের দেহের পুনরুত্থানের বীজ?হাদিসের বর্ণনা অনুসারে সেটি বলা যায়।কারণ সে সময় গর্ভধারণের মত কাউকেইতো জীবিত পাওয়া যাবে না।তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়-
১)এই হাঁড়টির ভিতর এমন কী আছে যার থেকে মানুষ সৃষ্টি হওয়া সম্ভব?
২)মানুষ মরে যাওয়ার হাজার হাজার কিংবা লক্ষ লক্ষ বছর পরেও এই হাঁড়টির অক্ষত থাকা আদৌ সম্ভব কিনা?
উপরোক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দুটোর উত্তর পাওয়া গেলে আশা করা যায় বর্ণিত হাদিসটির তথ্যসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।এবার এ প্রশ্ন দুটোর উত্তর খুঁজতে নোবেল বিজয়ী ভ্রুণ বিষয়ক গবেষণাটি উপস্থাপন করা যাক।
শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে যে এককোষী জাইগোট তৈরি হয় তা ক্রমাগত বিভাজনের (mitotic cell division)-এর মাধ্যমে কোষগুচ্ছ তৈরী করে যা দেখতে অনেকটা প্লেটের মত।একটা নির্দিষ্ট সময় পর (মানুষের ক্ষেত্রে ১৪দিনের মাথায়) এই কোষ প্লেটের (embryonic plate) পিঠে নিচের চিত্রের ন্যায় একটি গোল মাথাওয়ালা গর্ত তৈরি হয় যা প্রিমিটিভ স্ট্রিক (Primitive streak) নামে পরিচিত।এটি তৈরি হওয়ার পরপরই এর থেকে পাঠানো সিগন্যালে পার্শ্ববর্তী কোষগুলো বিশেষ ক্ষমতা অর্জন করে।এরা কেউ ত্বক, কেউ হাঁড়, কেউ মাংস আবার কেউ রক্ত এবং অাভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি করা শুরু করে-
প্রিমিটিভ স্ট্রিকের যেদিকে গোল গর্তটি (primitive node নামে পরিচিত) থাকে সেটা ভ্রুণের মাথার দিক নির্দেশ করে।যখনই বিশেষায়িত কোষগুলো বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি করা শুরু করে তখন প্রিমিটিভ স্ট্রিক ক্রমাগত ছোট হয়ে বিলীন হতে থাকে এবং শেষে মেরুদন্ডের একবারে নিচের ক্ষুদ্র হাড় কক্সিস তৈরি করে তার মাঝে এর শেষাংশ অবস্থান করে।এজন্য কোন কারণে এখানে টিউমার হলে (টেরাটোমা বা Teratoma) হলে সে টিউমারের মধ্যে চুল,হাঁড়,দাঁত,মাংসপেশী,গ্র্যান্ড ইত্যাদি পাওয়া যায় (নিচের ছবিতে দেখুন)-
জার্মান ভ্রণবিশেষজ্ঞ Hans Spemann (27 June,1869-9Sept.,1941) অন্যন্য প্রাণীর ভ্রুণের উপর প্রিমিটিভ স্ট্রিকের প্রভাব নিয়ে এক গবেষণা কর্ম পরিচালনা করেন।তিনি লক্ষ্য করেন প্রিমিটিভ স্ট্রিকের উপস্থিতি ছাড়া কোন ভ্রুণ থেকে শিশু গঠন সম্ভব নয়।শুধু তাই নয় তিনি এক প্রাণীর প্রিমিটিভ স্ট্রিক অন্য আরেকটি প্রাণীর ভ্রুণে স্থাপন করে দেখতে পান যে সেখানে দ্বিতীয় প্রাণীটির ভ্রুণের পাশাপাশি প্রথম প্রানীটিরও ভ্রুণ তৈরি হয়েছে-
অর্থাৎ প্রিমিটিভ স্ট্রিক যে কোন অবস্থানে কেবলমাত্র নিজ প্রানীর শিশুই তৈরি করতে সক্ষম।তিনি এর নাম দেন ‘প্রাইমারি অর্গানাইজার বা Primary organizer’।এই আবিষ্কারের জন্যই Hans Spemann ১৯৩৫ সালে নোবেল প্রাইজ পান।১৯৩৮ সালে তিনি এ বিষয়ে বইও লেখেন ‘Embryonic Development & Induction’।কথা এখানেই শেষ নয় বই লেখার ৩বছরের মাথায় Hans Spemann মারা যান এবং তার ফলো-আপ গবেষণা চালিয়ে যান Johannes Holtfreter, Dorothy M. Needham, Joseph Needham, Conrad Waddington সহ কয়েকজন যারা সবচেয়ে বিষ্ময়কর আবিষ্কারটি করেন।তারা গবেষণায় দেখতে পান প্রিমিটিভ স্ট্রিকের কোষগুলোকে সিদ্ধ করলে বা ঘণীভূত অ্যালকোহলে ফিক্স করলে বা ফ্রিজিং করলেও এর ভ্রুণ তৈরির সক্ষমতা নষ্ট হয় না।এ বিষয়ে ইয়েমেনের দুই গবেষকও একই ধরনের প্রমাণ পান।২০০৩ সালে Dr.Othman Al Aljilani ও Sheikh Abd Al Majid Azzandani কক্সিস হাঁড়কে ১০মিনিট ধরে গ্যাস গান দিয়ে উচ্চতাপমাত্রায় পোড়ানোর পর তা টকটকে লাল হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে পুরোপুরি পুড়ে কালো হয়ে যায়।এরপর তারা এই পোড়া হাঁড়টিকে সানার বিখ্যাত Alolaki Analytic Laboratory তে Dr.Alolaki এর নিকট পাঠান যিনি সানা ইউনিভার্সিটির হিস্টোলজি ও প্যাথলজি বিভাগের প্রধান।Dr.Alolaki অ্যানালাইসিস করে দেখতে পান যে কক্সিসটির মাংস, চর্বি, মজ্জা বা বোন ম্যারোসহ পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে।কিন্তু অাশ্চর্য্যজনকভাবে কক্সিস নামক হাঁড়টির কোষগুলো (Cells) পুরোপুরি অক্ষত অাছে।গবেষকদ্বয় তাদের এই গবেষণা তথ্য ২০০৪ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত 7th conference of scientific miracles in The Koran and The Sunna তে তুলে ধরেন।
উপরোক্ত বৈজ্ঞানিক উপস্থাপন থেকে যে বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া গেল-
১)প্রিমিটিভ স্ট্রিক ছাড়া ভ্রুণ থেকে শিশুর গঠন সম্ভব নয়।
২)প্রিমিটিভ স্ট্রিক অন্য পরিবেশেও নিজ সত্বারই কেবল শিশু তৈরি করতে পারে।
৩)নিজ কাজ সমাধার পর প্রিমিটিভ স্ট্রিক ‘কক্সিস’ নামক হাঁড়ের ভিতর বিলুপ্তপ্রায় ও সুপ্তপ্রায় অবস্থায় অবস্থান করে।
৪)প্রিমিটিভ স্ট্রিকের সক্ষমতা কোনভাবেই ধ্বংস করা সম্ভব নয়।
সুতরাং মৃত মানুষকে পুড়িয়ে ফেললে,মাটি চাপা দিলে কিংবা জলে ডুবিয়ে দিলেও তার ‘কক্সিস’ নামক হাঁড়ে থাকা প্রিমিটিভ স্ট্রিকের নিজ নিজ ভ্রুণ থেকে মানবদেহ তৈরির অর্গানাইজিং ক্ষমতা হারায় না।এভাবেই মাতৃগর্ভে মানবদেহ তৈরি হয়েছে যা আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত।আর প্রিমিটিভ স্টিকের কোন অবস্থাতেই ধ্বংস না হওয়া সেটি থেকে মানুষের পুনরুত্থানেরই ইঙ্গিত বহন করে যা উপরে উল্লেখিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।অাল্লাই সর্বজ্ঞাতা এবং তিনিই ভালো জানেন।

৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে ছোট্ট একটি আমলে!!

চলার পথে আমরা অনেকেই জেনে না জেনে গুনাহ করে থাকি। কিন্তু আমরা চাইলেই আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে ক্ষমা পার্থনা করে মাফ পেতে পারি।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিউল উম্মি ওয়ালা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা’ জুমার দিন এই দরুদ শরিফখানা পাঠ করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়।

< হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাজের পর ৮০ বার এ দরুদ পড়বে, তার ৮০ বছরের

গোনাহ্ মাফ হবে এবং ৮০ বছর এবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে। প্রশ্ন হয় যে, আল্লাহতায়ালা এ ছোট আমলের জন্য এত বেশি সওয়াব কেন দান করেন?

এর উত্তর হলো, কোনো আমলে সওয়াব কম দেওয়া বা বেশি দেওয়া এটা আল্লাহতায়ালার নিজস্ব ব্যাপার, এখানে কারও আপত্তি করার কিছু নেই।

মৃত্যুর যন্ত্রণা সবার আছে , কেউ বুঝতে পারে আবার কেউ পারেনা , কেন

মৃত্যুর যন্ত্রণা সবার আছে , কেউ বুঝতে পারে আবার কেউ পারেনা , কেন
মৃত্যুর যন্ত্রণা সবার আছে , কেউ বুঝতে পারে আবার কেউ পারেনা , কেন

শবে মেরাজের রজনীতে রাসুল (সাঃ) কে যে সকল ভয়াবহ শাস্তির নিদর্শন দেখানো হয়েছিল

শবে মেরাজের রজনীতে রাসুল (সাঃ) কে যে সকল শাস্তির নিদর্শন দেখানো হয়েছিল
শবে মেরাজের রজনীতে রাসুল (সাঃ) কে যে সকল শাস্তির নিদর্শন দেখানো হয়েছিল
শবে মেরাজের রজনীতে রাসুল (সাঃ) কে যে সকল শাস্তির নিদর্শন দেখানো হয়েছিল

বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবনী

ইসলামের মহান বানী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য দুনিয়াতে যুগে যুগে যেসকল ওলি আল্লাহর আবির্ভাব ঘটেছে তন্মধ্যে বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) অন্যতম। সেকারণে তাঁকে গাউসুল আজম হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।

জন্ম ও পরিচয়:
বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ২য় রমযান ৪৭০ হিজরী বা ১৯ মার্চ, ১০৭৮ বাগদাদের জিলান শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম আল-সাইয়িদ মহিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির আল-জিলানী আল-হাসানী ওয়াল-হুসানী। তাঁর পিতার নাম আবু সালেহ মুছা জঙ্গী। মাতার নাম সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা। তিনি ছিলেন হজরত ইমাম হাসান (রা.) এর বংশধর। বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) এর জন্ম ইরাকের অন্তর্গত জিলান নামক স্থানে হয় বলে তাকে জিলানী বলা হয়। তার উপাধি ছিল আবু মোহাম্মদ মুহিউদ্দীন।

ছোটবেলা:
হযরত আব্দুল কাদির জিলানী(র:) এর বয়স যখন মাত্র ৫ বৎসর তখনই তিনি পিতৃহীন হন। তার লালন-পালন ও পড়াশোনার দায়িত্ব এসে পড়ে মায়ের উপর।মা চরকায় সুতা কেটে জিবীকা নির্বাহ করতে শুরু করেন।মাতা পুত্রকে কখনও কখনও অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়।যেদিন ঘরে কিছু খাবার না থাকতো তখন মা বলতেন,”আজ আমরা আল্লাহপাকের মেহমান।”খুব অল্প বয়সেই হযরত আব্দুল কাদির জিলানী(র:) মকতবে যাওয়া শুরু করেন।বাল্যবয়সেই বিভিন্ন আলৌকিক ঘটনাও ঘটতে শুরু করে।একবার সমবয়সী বালকদের সাথে খেলায় যোগ দেয়ার ইচ্ছা করলে গায়েবী আওয়াজ এলো,”হে বরকতময় সত্তা ,আমারকাছে এসো!”কথা শোনা গেলেও কন্ঠটি কার বা কোথ্থেকে এলো কিছুই তিনি বুঝতে পারলেন না।তাছারা কোন লোকও তিনি সেখানে দেখতে পেলেন না।তাই ভয়ে দৌড়ে তিনি ময়ের কাছে চলে এলেন। এরকম আরো বহুবার হয়েছে।একবার নিদ্রাকাতর অবস্হায় সুখময় নিদ্রা যাচ্ছিলেন।
এমন সময় ঘুমের ঘরে তিনি স্বপ্নে দেখিলেন-একজন উজ্জল জ্যোতিবিশিষ্ট স্বর্গীয় ফিরেশতা তাহার শিয়রের নিকট এসে অত্যন্ত কোমল স্বরে বলিতেছেন- ”হে আল্লাহর মনোনিত আব্দুল কাদির!উঠ,আর নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে থেক না।সুখ শয্যার কোলে ঢলে পড়বার জন্য এই পৃথিবিতে তোমার আগমন ঘটেনি।তোমার কর্তব্য ও দায়িত্ব সুদুরপ্রসারী! মোহগ্রস্হ,নিদ্রাচ্ছন্ন জনগনকে নিদ্রার মোহ থেকে মুক্ত করিবার জন্যই তোমার আগমন ঘটেছে।

শিক্ষা জীবন ও ধর্ম প্রচার:
হযরত আব্দুল কাদির জিলানী(র:) এর বাল্য শিক্ষার হাতে খড়ি হয়েছিল জ্ঞানবান পিতা ও গুনবতী মাতার মাধ্যমে।তিনি স্বীয় পিতা -মাতার মাধ্যমেই প্রথমিক স্তরের শিক্ষনীয় বিষয়গুলি গৃহে বসেই সমাপ্ত করেছিলেন।সর্বপ্রথমেই তিনি পবিত্রকোরান পাঠ করা শিক্ষা করেন ও সম্পুর্ন কোরান হেফজ করেন।গৃহশিক্ষার বাইরেও তিনি জিলান নগরের স্হানীয় মক্তবেও বিদ্যা শিক্ষা করেছিলেন।একবার তিনি মক্তবে উপস্হিত হলে সেখানে বসার জন্য কোন স্হান পাচ্ছিলেন না।এমন সময় অদৃশ্য হতে আওয়াজ হলো,”হে শিক্ষার্থীগন!এই বালকের জন্য তোমরা একটু স্হান করে দাও,যাহাতে তিনি বসতে পারেন।” কেহই আওয়াজের দিকে তেমন লক্ষ্য দিল না।পরিশেষে আবার গম্ভীর কন্ঠে দৈববানী ঘোষিত হলো, ”হে শিক্ষার্থীগন!তোমরা কি দেখিতএ পাইতেছ না যে,আল্লাহর প্রিয় অলী দ্বারে দাড়িয়ে আছে ? উঠ,তাহাকে সসিবার স্হান করে দাও। অযথা বিলম্ব করে সময় অপচয় কর না।”এই অদৃশ্য বানী ছাত্র শিক্ষক সকলের কর্নেই ভীষনভাবে আঘাত করল।সকলেই হতচকিত ও বিস্ময়াপন্ন হয়ে গেল এবং বড় পীর আব্দুল কাদির র: কে বসবার স্হান করে দিল। তার প্রখর ধীশক্তি,প্রত্যুতপন্নমতিত্ব ও আল্লাহ প্রদত্ত প্রজ্ঞার ফলে বাল্যকালেই তিনি অসাধারন পান্ডিত্য অর্জন করতে সক্ষম হন। কোন এক জিলহজ্ব মাসের ৯ম দিবসে শহর ছেরে গ্রামের দিকে গেলেন।সেখানে এক গাভীর গায়ে হাত দিতেই গাভীটি তার দিকে তাকালো এবং বলতে লাগলো,”হে হযরত আব্দুল কাদির !

আল্লাহ পাক তোমাকে কৃষিকাজের জন্য সৃষ্টি করেন নি বা জীবিকা অর্জনের হুকুমও তোমাকে দেননি”গাভীর মুখে কথা শুনতে পেয়ে ভীত সন্ত্রস্হ অবস্হায় বাড়ী ফিরে এলেন এবং মনের উদ্বেগে ঘরের ছাদে উঠে নানা কথা ভাবছিলেন।এমনসময় তিনি দেখতে পেলেন মক্কা শরীফ পর্যন্ত সমস্ত এলাকা তার সামনে উন্মুক্ত । চোখের সামনে তিনি আল্লাহর ঘর দেখতে পেলেন।তিনি আরো দেখতে পেলেন আরাফাতে হাজ্বী সাহেবরা অবস্হান করছেন।অতএব গায়বী ইঙ্গিতের মর্ম বোঝতে চেষ্টা করে তিনি মাকে দ্বীনী উচ্চশিক্ষার জন্য বাগদাদ গমনের ইচ্ছার কথা জানালেন।মা হৃষ্টচিত্তে অনুমতি দিয়ে তার পাথেয় প্রস্তুতিতে লেগে গেলেন।রওনার দিন জামার ভেতরে ৪০টি স্বর্নমুদ্রা সেলাই করে দিয়ে তার মা বললেন,”আল্লাহর নাম নিয়ে রওয়ানা হও।সততা ও বিশ্বস্ততাকে নিজের আদর্শরুপে শক্ত হাতে ধারন করবে।”

ঘটনাক্রমে রাস্তায় ডাকাত পড়লো।এক ডাকাত শিশু আব্দুল কাদিরকে তার কাছে কিছু আছে কিনা জিজ্ঞেস করলো।তিনি অকপটে স্বীকার করলো জামার ভিতর সেলাইকরা ৪০টি স্বর্নমুদ্রার কথা।বালকের সততায় ও সরলতায় ডাকাত মুগ্ধ হয়ে জিজ্ঞেস করলো,এবিপদের মুহুর্তে লোকেরা প্রকাশ্য সম্পদও গোপন ফেলে আর তুমি এ গোপন সম্পদের কথা কেন আমাকে দিলে ? বালক আ্ব্দুল কাদির জবাব দিল,”আমার আম্মা আমাকে সর্বদা সত্য কথা বলার উপদেশ দিয়েছেন।”

আল্লাহওয়ালাদের কথায় এমন প্রভাব থাকে যা পাষান হৃদয়ও একমুহুর্তে গলিত হতে পারে।ডাকাত সর্দার কাদতে শুরু করলো এবং বলল,”এবালকটি তার মায়ের নির্দেশ এত বিপদের মধ্যেও যেভাবে মানল ,আমি কি আমার সৃষ্টিকর্তা প্রভর হুকুম কি এভাবে মানছি ?আমিতো অর্থ-সম্পদের লোভে মহান মহান মালিকের অবাধ্য হয়ে শত শত মানুষের সর্বনাশ করছি”।কাফেলার লুন্ঠিত সম্পদ ফিরিয়ে দিয়ে ডাকাত তার গোটা দলশ তওবা করে ডাকাতি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলো ।বলা হয় এই ব্যক্তিটিই নাকি পরবর্তীতে আল্লাহর এক ওলীতে পরিনত হয়েছিলেন।আল্লাহুআলম।

উচ্চশিক্সার জন্য তিনি ৪৮৮ হিজরীতে যখন প্রথম তিনি বাগদাদ গমন করেন তখন তার বয়স হয়েছিল আঠার বৎসর।বাগদাত এসে তিনি শায়েখ আবু সাইদ ইবনে মোবারক মাখযুমী হাম্বলী,আবুল ওয়াফা আলী ইবনে আকীল এবং আবু মোহাম্ম ইবনে হোসাইন ইবনে মুহাম্মদ র: এর নিকট ইলমে ফিখ,শায়েখ আবু গালিবমুহাম্মদ ইবনে হাসান বাকিল্লানী,শায়েখ আবু সাইদ ইবনে আব্দুল করীম ও শায়েখ আবুল গানায়েম মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহম্মদ র: প্রমুখের নিকট এলমে হাদীস এবং শায়েখ আবু যাকারিয়া তাবরেয়ী র: নিকট সাহিত্যের উচ্চতর পাঠ লাভ করেন।শায়খ জীলানীর বাহ্যিক ও আধ্যাত্নিক জ্ঞান চর্চার গূরু শায়খ আবু সাঈদ মাখযুমীর মনে তরুন এ শিষ্যের যোগ্যতা ও প্রতিভা সম্পর্কে এতই সুধারনা ও আস্হাশীলতার সৃষ্টি করল যে, নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা তত্তাবধান ও পরিচালনার দায়িত্ব বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)এর নিকট অর্পন করে তিনি নিজে অবসর গ্রহন করেন।

তখন তিনি এ মাদ্রাসার উন্নতি ও উৎকর্ষের কাজে আত্ননিয়োগ করেন।হাদীস ,তাফসির,ফিকহ ও অন্যান্য জ্ঞান বিজ্ঞানের শিক্ষাদান নিজেই শুরু করেন। পাশাপাশি ওয়াজ নসিহত ও তাবলিগের কর্মসুচীও চালু করেন ।অল্পদিনের মধ্যেই এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম চারিদিকে ছরিয়ে পড়লো এবং দেশ বিদেশের বিদ্যার্থীরা এতএ ছুটে আসতে লাগলো।এ পর্যায়ে মাদরাসার নামকরনও শায়খের সাথেই সম্পৃক্ত হয়ে ‘মাদরাসায়ে কাদেরিয়া” হয়ে গেল।

বই
তিনি কাব্য, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল ইত্যাদি বিষয়ের পণ্ডিত ছিলেন। তার রচিত বহু গ্রন্থ রয়েছে। এসব গ্রন্থের মধ্যে ফতহুল গায়ের গুনিয়াতুত তালেবীন, ফতহুর রবযানী, কালীদায়ে গাওসিয়া উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যু
হিজরী ৬৬২ সালের ১১ রবিউসসানী বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) পরলোক গমন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। বড়পীর সাহেবের এই ওফাতের দিন সারা বিশ্বের মুসলমানরা প্রতি বছর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকেন এবং তার মৃত্যুবার্ষিকী ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহাম হিসেবে পরিচিত।
তথ্যসুত্র: উইকিপিডিয়া

মানসিক শান্তির জন্য মহানবী (সা.) এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন
দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে আমাদের বিভিন্ন মানুষের সাথে চলাফেরা করতে হয়। কখনো কখনো টাকা পয়সারও আদান প্রদান করে থাকি। অনেক সময় কিছু একটা নিয়ে ভুল বোঝা বুঝির মাধ্যমে প্রিয় মানুষের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিজেও মানসিক ভাবে শান্তিতে বাস করা কঠিন হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে মহানবী সা. ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

হজরত ইবনে উমর [রা.] বলেন; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল সন্ধ্যায় নিয়মিত এ দোয়াটি পড়তেন। কখনো তা ছাড়তেন না। [আবু দাউদ-৫০৭৬ ইবনে মাজাহ-৩৮৭১]

ফজিলত : হজরত ইবনে উমর [রা.] বলেন; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল সন্ধ্যায় নিয়মিত এ দোয়াটি পড়তেন। কখনো তা ছাড়তেন না। [আবু দাউদ-৫০৭৬ ইবনে মাজাহ-৩৮৭১]

আরবি দোআ : একবার

اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَ الْعَافِيَةَ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِى دِينِى وَدُنْيَاىَ وَأَهْلِى وَمَالِى اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِى وَآمِنْ رَوْعَاتِى اللَّهُمَّ احْفَظْنِى مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ وَمِنْ خَلْفِى وَعَنْ يَمِينِى وَعَنْ شِمَالِى وَمِنْ فَوْقِى وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِى.

বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতি ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাতি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতি ফি দিনি ওয়া দুনিয়াই ওয়া আহলি ওয়া মালি। আল্লাহুম্মাজতুর আওরাতি ওয়া আমিন রাওয়াতি। আল্লাহুম্মাহ ফিজনি মিনবাইনি ইয়াদাই ওয়া মিন খলফি ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়ান শিমালি ওয়া মিন ফাওকি। আউজু বিআজমাতিকা মিন বুখালি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং দুনিয়া ও আখেরাতে প্রশান্তি চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং আমার দীন, আমার দুনিয়া, আমার পরিবার পরিজন এবং আমার ধন-সম্পদের ব্যাপারে প্রশান্তি চাই। হে আল্লাহ! আমার সব গোপন দোষগুলোকে তুমি ঢেকে রাখ, এবং আমার সব ভয়ের স্থানে তুমি আমাকে নিরাপত্তা দান কর। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সামনে পেছনে ডানে বামে ও উপরে সর্বদিক দিয়ে রক্ষা কর। হে আল্লাহ! তোমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের উসিলায় আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, আমি যেনো আমার নিচের দিক দিয়ে মাটিতে দেবে না যাই।

হিজবুত তাওহীদের নামাজ নিয়ে ভন্ডামি দেখুন

হিজবুত তাওহীদের নামাজ নিয়ে ভন্ডামি দেখুন
হিজবুত তওহিদ এর সংগঠক, দাজ্জাল বইয়ের লেখক ও
‘এছলাম-মোছলেম’ মার্কা শব্দের প্রবর্তক ইমাম মাহদীর দাবীদার
বজ্জাত খান থুক্কু বায়জীদ খান পন্নী সহি নামাজ শিক্ষা দিচ্ছেন।
কিছুদিন আগে যে নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবী করেছিল।
সে আরো বেলেছে যে, প্রচলিত মাদ্রাসা ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নাকি
পৃথিবীতে শান্তি আনতে পারবে না। মাদ্রাসা শিক্ষকরা নাকি ধর্মব্যবসায়ী ও জংগীবাদ সৃষ্টিকারী।

যে রাতগুলোতে আপনার দোয়া বিফলে যাবে না

আল্লাহ তাআলার দরবারে যে কোনো সময় দোয়া করা যায়। তবে কিছু দিন, কিছু মুহূর্ত এবং কিছু সময় আছে সুনির্ধারিত; যখন আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করে থাকেন। ইতিপূর্বে সে সময় ও ক্ষণগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়াও কিছু রাত এমন রয়েছে যে রাতে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করে থাকেন। সে রাতগুলোর মধ্যে একটি হলো রজব মাসের প্রথম রাত। এ রজব মাস জুড়েই আল্লাহর নবি বেশি বেশি বরকত এবং রমজান পর্যন্ত হায়াত বৃদ্ধির দোয়া করতেন।

হাদিসে পাকে এসেছে, রজব মাসের প্রথম রাত, বান্দার দোয়া কবুলের রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করতে প্রিয়নবি নসিহত করেছেন। হাদিসে ঘোষিত সুনির্ধারিত রাতগুলো সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘(দুনিয়াতে) পাঁচটি রাত এমন আছে; যে রাতগুলোতে বান্দার দোয়া আল্লাহ তাআলা ফিরিয়ে দেন না। অর্থাৎ বান্দার দোয়া কবুল করেন। রাতগুলো হলো-

(সপ্তাহিক) জুমআর রাত;
রজব মাসের প্রথম রাত;
শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত,
ঈদুল ফিতরের রাত এবং
ঈদুল আজহার রাত।’ (মুসান্নেফে আবদুর রাজ্জাক)

তবে সতর্কতা হলো, এ দিনগুলোতে বিশেষ কোনো নামাজ বা রোজার মতো কোনো আমল বা ইবাদতের নির্দেশ দেয়া হয়নি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতি জুমআর রাত অর্থাৎ প্রত্যেক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, অর্ধ শাবানের রাতে এবং ২ ঈদের রাতে আল্লাহর দরবারে ধরণা দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।