বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবনী

ইসলামের মহান বানী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য দুনিয়াতে যুগে যুগে যেসকল ওলি আল্লাহর আবির্ভাব ঘটেছে তন্মধ্যে বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) অন্যতম। সেকারণে তাঁকে গাউসুল আজম হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।

জন্ম ও পরিচয়:
বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ২য় রমযান ৪৭০ হিজরী বা ১৯ মার্চ, ১০৭৮ বাগদাদের জিলান শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম আল-সাইয়িদ মহিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির আল-জিলানী আল-হাসানী ওয়াল-হুসানী। তাঁর পিতার নাম আবু সালেহ মুছা জঙ্গী। মাতার নাম সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা। তিনি ছিলেন হজরত ইমাম হাসান (রা.) এর বংশধর। বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) এর জন্ম ইরাকের অন্তর্গত জিলান নামক স্থানে হয় বলে তাকে জিলানী বলা হয়। তার উপাধি ছিল আবু মোহাম্মদ মুহিউদ্দীন।

ছোটবেলা:
হযরত আব্দুল কাদির জিলানী(র:) এর বয়স যখন মাত্র ৫ বৎসর তখনই তিনি পিতৃহীন হন। তার লালন-পালন ও পড়াশোনার দায়িত্ব এসে পড়ে মায়ের উপর।মা চরকায় সুতা কেটে জিবীকা নির্বাহ করতে শুরু করেন।মাতা পুত্রকে কখনও কখনও অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়।যেদিন ঘরে কিছু খাবার না থাকতো তখন মা বলতেন,”আজ আমরা আল্লাহপাকের মেহমান।”খুব অল্প বয়সেই হযরত আব্দুল কাদির জিলানী(র:) মকতবে যাওয়া শুরু করেন।বাল্যবয়সেই বিভিন্ন আলৌকিক ঘটনাও ঘটতে শুরু করে।একবার সমবয়সী বালকদের সাথে খেলায় যোগ দেয়ার ইচ্ছা করলে গায়েবী আওয়াজ এলো,”হে বরকতময় সত্তা ,আমারকাছে এসো!”কথা শোনা গেলেও কন্ঠটি কার বা কোথ্থেকে এলো কিছুই তিনি বুঝতে পারলেন না।তাছারা কোন লোকও তিনি সেখানে দেখতে পেলেন না।তাই ভয়ে দৌড়ে তিনি ময়ের কাছে চলে এলেন। এরকম আরো বহুবার হয়েছে।একবার নিদ্রাকাতর অবস্হায় সুখময় নিদ্রা যাচ্ছিলেন।
এমন সময় ঘুমের ঘরে তিনি স্বপ্নে দেখিলেন-একজন উজ্জল জ্যোতিবিশিষ্ট স্বর্গীয় ফিরেশতা তাহার শিয়রের নিকট এসে অত্যন্ত কোমল স্বরে বলিতেছেন- ”হে আল্লাহর মনোনিত আব্দুল কাদির!উঠ,আর নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে থেক না।সুখ শয্যার কোলে ঢলে পড়বার জন্য এই পৃথিবিতে তোমার আগমন ঘটেনি।তোমার কর্তব্য ও দায়িত্ব সুদুরপ্রসারী! মোহগ্রস্হ,নিদ্রাচ্ছন্ন জনগনকে নিদ্রার মোহ থেকে মুক্ত করিবার জন্যই তোমার আগমন ঘটেছে।

শিক্ষা জীবন ও ধর্ম প্রচার:
হযরত আব্দুল কাদির জিলানী(র:) এর বাল্য শিক্ষার হাতে খড়ি হয়েছিল জ্ঞানবান পিতা ও গুনবতী মাতার মাধ্যমে।তিনি স্বীয় পিতা -মাতার মাধ্যমেই প্রথমিক স্তরের শিক্ষনীয় বিষয়গুলি গৃহে বসেই সমাপ্ত করেছিলেন।সর্বপ্রথমেই তিনি পবিত্রকোরান পাঠ করা শিক্ষা করেন ও সম্পুর্ন কোরান হেফজ করেন।গৃহশিক্ষার বাইরেও তিনি জিলান নগরের স্হানীয় মক্তবেও বিদ্যা শিক্ষা করেছিলেন।একবার তিনি মক্তবে উপস্হিত হলে সেখানে বসার জন্য কোন স্হান পাচ্ছিলেন না।এমন সময় অদৃশ্য হতে আওয়াজ হলো,”হে শিক্ষার্থীগন!এই বালকের জন্য তোমরা একটু স্হান করে দাও,যাহাতে তিনি বসতে পারেন।” কেহই আওয়াজের দিকে তেমন লক্ষ্য দিল না।পরিশেষে আবার গম্ভীর কন্ঠে দৈববানী ঘোষিত হলো, ”হে শিক্ষার্থীগন!তোমরা কি দেখিতএ পাইতেছ না যে,আল্লাহর প্রিয় অলী দ্বারে দাড়িয়ে আছে ? উঠ,তাহাকে সসিবার স্হান করে দাও। অযথা বিলম্ব করে সময় অপচয় কর না।”এই অদৃশ্য বানী ছাত্র শিক্ষক সকলের কর্নেই ভীষনভাবে আঘাত করল।সকলেই হতচকিত ও বিস্ময়াপন্ন হয়ে গেল এবং বড় পীর আব্দুল কাদির র: কে বসবার স্হান করে দিল। তার প্রখর ধীশক্তি,প্রত্যুতপন্নমতিত্ব ও আল্লাহ প্রদত্ত প্রজ্ঞার ফলে বাল্যকালেই তিনি অসাধারন পান্ডিত্য অর্জন করতে সক্ষম হন। কোন এক জিলহজ্ব মাসের ৯ম দিবসে শহর ছেরে গ্রামের দিকে গেলেন।সেখানে এক গাভীর গায়ে হাত দিতেই গাভীটি তার দিকে তাকালো এবং বলতে লাগলো,”হে হযরত আব্দুল কাদির !

আল্লাহ পাক তোমাকে কৃষিকাজের জন্য সৃষ্টি করেন নি বা জীবিকা অর্জনের হুকুমও তোমাকে দেননি”গাভীর মুখে কথা শুনতে পেয়ে ভীত সন্ত্রস্হ অবস্হায় বাড়ী ফিরে এলেন এবং মনের উদ্বেগে ঘরের ছাদে উঠে নানা কথা ভাবছিলেন।এমনসময় তিনি দেখতে পেলেন মক্কা শরীফ পর্যন্ত সমস্ত এলাকা তার সামনে উন্মুক্ত । চোখের সামনে তিনি আল্লাহর ঘর দেখতে পেলেন।তিনি আরো দেখতে পেলেন আরাফাতে হাজ্বী সাহেবরা অবস্হান করছেন।অতএব গায়বী ইঙ্গিতের মর্ম বোঝতে চেষ্টা করে তিনি মাকে দ্বীনী উচ্চশিক্ষার জন্য বাগদাদ গমনের ইচ্ছার কথা জানালেন।মা হৃষ্টচিত্তে অনুমতি দিয়ে তার পাথেয় প্রস্তুতিতে লেগে গেলেন।রওনার দিন জামার ভেতরে ৪০টি স্বর্নমুদ্রা সেলাই করে দিয়ে তার মা বললেন,”আল্লাহর নাম নিয়ে রওয়ানা হও।সততা ও বিশ্বস্ততাকে নিজের আদর্শরুপে শক্ত হাতে ধারন করবে।”

ঘটনাক্রমে রাস্তায় ডাকাত পড়লো।এক ডাকাত শিশু আব্দুল কাদিরকে তার কাছে কিছু আছে কিনা জিজ্ঞেস করলো।তিনি অকপটে স্বীকার করলো জামার ভিতর সেলাইকরা ৪০টি স্বর্নমুদ্রার কথা।বালকের সততায় ও সরলতায় ডাকাত মুগ্ধ হয়ে জিজ্ঞেস করলো,এবিপদের মুহুর্তে লোকেরা প্রকাশ্য সম্পদও গোপন ফেলে আর তুমি এ গোপন সম্পদের কথা কেন আমাকে দিলে ? বালক আ্ব্দুল কাদির জবাব দিল,”আমার আম্মা আমাকে সর্বদা সত্য কথা বলার উপদেশ দিয়েছেন।”

আল্লাহওয়ালাদের কথায় এমন প্রভাব থাকে যা পাষান হৃদয়ও একমুহুর্তে গলিত হতে পারে।ডাকাত সর্দার কাদতে শুরু করলো এবং বলল,”এবালকটি তার মায়ের নির্দেশ এত বিপদের মধ্যেও যেভাবে মানল ,আমি কি আমার সৃষ্টিকর্তা প্রভর হুকুম কি এভাবে মানছি ?আমিতো অর্থ-সম্পদের লোভে মহান মহান মালিকের অবাধ্য হয়ে শত শত মানুষের সর্বনাশ করছি”।কাফেলার লুন্ঠিত সম্পদ ফিরিয়ে দিয়ে ডাকাত তার গোটা দলশ তওবা করে ডাকাতি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলো ।বলা হয় এই ব্যক্তিটিই নাকি পরবর্তীতে আল্লাহর এক ওলীতে পরিনত হয়েছিলেন।আল্লাহুআলম।

উচ্চশিক্সার জন্য তিনি ৪৮৮ হিজরীতে যখন প্রথম তিনি বাগদাদ গমন করেন তখন তার বয়স হয়েছিল আঠার বৎসর।বাগদাত এসে তিনি শায়েখ আবু সাইদ ইবনে মোবারক মাখযুমী হাম্বলী,আবুল ওয়াফা আলী ইবনে আকীল এবং আবু মোহাম্ম ইবনে হোসাইন ইবনে মুহাম্মদ র: এর নিকট ইলমে ফিখ,শায়েখ আবু গালিবমুহাম্মদ ইবনে হাসান বাকিল্লানী,শায়েখ আবু সাইদ ইবনে আব্দুল করীম ও শায়েখ আবুল গানায়েম মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহম্মদ র: প্রমুখের নিকট এলমে হাদীস এবং শায়েখ আবু যাকারিয়া তাবরেয়ী র: নিকট সাহিত্যের উচ্চতর পাঠ লাভ করেন।শায়খ জীলানীর বাহ্যিক ও আধ্যাত্নিক জ্ঞান চর্চার গূরু শায়খ আবু সাঈদ মাখযুমীর মনে তরুন এ শিষ্যের যোগ্যতা ও প্রতিভা সম্পর্কে এতই সুধারনা ও আস্হাশীলতার সৃষ্টি করল যে, নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা তত্তাবধান ও পরিচালনার দায়িত্ব বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)এর নিকট অর্পন করে তিনি নিজে অবসর গ্রহন করেন।

তখন তিনি এ মাদ্রাসার উন্নতি ও উৎকর্ষের কাজে আত্ননিয়োগ করেন।হাদীস ,তাফসির,ফিকহ ও অন্যান্য জ্ঞান বিজ্ঞানের শিক্ষাদান নিজেই শুরু করেন। পাশাপাশি ওয়াজ নসিহত ও তাবলিগের কর্মসুচীও চালু করেন ।অল্পদিনের মধ্যেই এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম চারিদিকে ছরিয়ে পড়লো এবং দেশ বিদেশের বিদ্যার্থীরা এতএ ছুটে আসতে লাগলো।এ পর্যায়ে মাদরাসার নামকরনও শায়খের সাথেই সম্পৃক্ত হয়ে ‘মাদরাসায়ে কাদেরিয়া” হয়ে গেল।

বই
তিনি কাব্য, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল ইত্যাদি বিষয়ের পণ্ডিত ছিলেন। তার রচিত বহু গ্রন্থ রয়েছে। এসব গ্রন্থের মধ্যে ফতহুল গায়ের গুনিয়াতুত তালেবীন, ফতহুর রবযানী, কালীদায়ে গাওসিয়া উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যু
হিজরী ৬৬২ সালের ১১ রবিউসসানী বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) পরলোক গমন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। বড়পীর সাহেবের এই ওফাতের দিন সারা বিশ্বের মুসলমানরা প্রতি বছর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকেন এবং তার মৃত্যুবার্ষিকী ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহাম হিসেবে পরিচিত।
তথ্যসুত্র: উইকিপিডিয়া

মানসিক শান্তির জন্য মহানবী (সা.) এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন
দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে আমাদের বিভিন্ন মানুষের সাথে চলাফেরা করতে হয়। কখনো কখনো টাকা পয়সারও আদান প্রদান করে থাকি। অনেক সময় কিছু একটা নিয়ে ভুল বোঝা বুঝির মাধ্যমে প্রিয় মানুষের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিজেও মানসিক ভাবে শান্তিতে বাস করা কঠিন হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে মহানবী সা. ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

হজরত ইবনে উমর [রা.] বলেন; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল সন্ধ্যায় নিয়মিত এ দোয়াটি পড়তেন। কখনো তা ছাড়তেন না। [আবু দাউদ-৫০৭৬ ইবনে মাজাহ-৩৮৭১]

ফজিলত : হজরত ইবনে উমর [রা.] বলেন; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল সন্ধ্যায় নিয়মিত এ দোয়াটি পড়তেন। কখনো তা ছাড়তেন না। [আবু দাউদ-৫০৭৬ ইবনে মাজাহ-৩৮৭১]

আরবি দোআ : একবার

اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَ الْعَافِيَةَ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِى دِينِى وَدُنْيَاىَ وَأَهْلِى وَمَالِى اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِى وَآمِنْ رَوْعَاتِى اللَّهُمَّ احْفَظْنِى مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ وَمِنْ خَلْفِى وَعَنْ يَمِينِى وَعَنْ شِمَالِى وَمِنْ فَوْقِى وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِى.

বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতি ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাতি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতি ফি দিনি ওয়া দুনিয়াই ওয়া আহলি ওয়া মালি। আল্লাহুম্মাজতুর আওরাতি ওয়া আমিন রাওয়াতি। আল্লাহুম্মাহ ফিজনি মিনবাইনি ইয়াদাই ওয়া মিন খলফি ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়ান শিমালি ওয়া মিন ফাওকি। আউজু বিআজমাতিকা মিন বুখালি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং দুনিয়া ও আখেরাতে প্রশান্তি চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং আমার দীন, আমার দুনিয়া, আমার পরিবার পরিজন এবং আমার ধন-সম্পদের ব্যাপারে প্রশান্তি চাই। হে আল্লাহ! আমার সব গোপন দোষগুলোকে তুমি ঢেকে রাখ, এবং আমার সব ভয়ের স্থানে তুমি আমাকে নিরাপত্তা দান কর। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সামনে পেছনে ডানে বামে ও উপরে সর্বদিক দিয়ে রক্ষা কর। হে আল্লাহ! তোমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের উসিলায় আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, আমি যেনো আমার নিচের দিক দিয়ে মাটিতে দেবে না যাই।

হিজবুত তাওহীদের নামাজ নিয়ে ভন্ডামি দেখুন

হিজবুত তাওহীদের নামাজ নিয়ে ভন্ডামি দেখুন
হিজবুত তওহিদ এর সংগঠক, দাজ্জাল বইয়ের লেখক ও
‘এছলাম-মোছলেম’ মার্কা শব্দের প্রবর্তক ইমাম মাহদীর দাবীদার
বজ্জাত খান থুক্কু বায়জীদ খান পন্নী সহি নামাজ শিক্ষা দিচ্ছেন।
কিছুদিন আগে যে নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবী করেছিল।
সে আরো বেলেছে যে, প্রচলিত মাদ্রাসা ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নাকি
পৃথিবীতে শান্তি আনতে পারবে না। মাদ্রাসা শিক্ষকরা নাকি ধর্মব্যবসায়ী ও জংগীবাদ সৃষ্টিকারী।

যে রাতগুলোতে আপনার দোয়া বিফলে যাবে না

আল্লাহ তাআলার দরবারে যে কোনো সময় দোয়া করা যায়। তবে কিছু দিন, কিছু মুহূর্ত এবং কিছু সময় আছে সুনির্ধারিত; যখন আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করে থাকেন। ইতিপূর্বে সে সময় ও ক্ষণগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়াও কিছু রাত এমন রয়েছে যে রাতে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করে থাকেন। সে রাতগুলোর মধ্যে একটি হলো রজব মাসের প্রথম রাত। এ রজব মাস জুড়েই আল্লাহর নবি বেশি বেশি বরকত এবং রমজান পর্যন্ত হায়াত বৃদ্ধির দোয়া করতেন।

হাদিসে পাকে এসেছে, রজব মাসের প্রথম রাত, বান্দার দোয়া কবুলের রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করতে প্রিয়নবি নসিহত করেছেন। হাদিসে ঘোষিত সুনির্ধারিত রাতগুলো সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘(দুনিয়াতে) পাঁচটি রাত এমন আছে; যে রাতগুলোতে বান্দার দোয়া আল্লাহ তাআলা ফিরিয়ে দেন না। অর্থাৎ বান্দার দোয়া কবুল করেন। রাতগুলো হলো-

(সপ্তাহিক) জুমআর রাত;
রজব মাসের প্রথম রাত;
শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত,
ঈদুল ফিতরের রাত এবং
ঈদুল আজহার রাত।’ (মুসান্নেফে আবদুর রাজ্জাক)

তবে সতর্কতা হলো, এ দিনগুলোতে বিশেষ কোনো নামাজ বা রোজার মতো কোনো আমল বা ইবাদতের নির্দেশ দেয়া হয়নি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতি জুমআর রাত অর্থাৎ প্রত্যেক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, অর্ধ শাবানের রাতে এবং ২ ঈদের রাতে আল্লাহর দরবারে ধরণা দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

যে নারীর একাধিক বিয়ে হয়েছে, জান্নাতে তার স্বামী কে হবে??

একজন জানতে চেয়েছেন, আমরা দেখতে পাই যে, বিভিন্ন সাহাবায়ে একরাম (রা.) এর মৃত্যুর পর অন্যান্য সাহাবীগণ তাদের স্ত্রীদের বিয়ে করেছেন এবং খোদ আমাদের প্রিয়

নবী (সা.) ও আবু তালহা (রা.) এর বিবি আম্মাজান উম্মে সালমা (রা.) কে বিয়ে করেছিলেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কাল হাশরের ময়দানে আম্মাজান উম্মে সালমা কার হুর হিসেবে জান্নাতে যাবেন? আর যদি উত্তর নবিজী হয়ে থাকে তবে হযরত আবু তালহা কাকে পাবেন? এই প্রশ্ন অন্যান্য সকলের ক্ষেত্রেও। যে স্বামী মারা গেলে যদি স্ত্রীর অন্য কারোও সাথে বিয়ে হয় তাহলে বেহেশতে উক্ত স্ত্রী কার হবে? আর যদি ২য় স্বামীর হয় তাহলে প্রথম স্বামী কাকে পাবেন বেহেশতে স্ত্রী হিসেবে?

উত্তর

যে মহিলার একাধিক বিয়ে হয়েছে, জান্নাতে তার স্বামী কে হবে? এ বিষয়ে মতভেদ আছে। দু’টি বক্তব্য পাওয়া যায়। যথা,

১. দুনিয়ার সর্বশেষ স্বামী হবে আখেরাতের স্বামী।

২. স্ত্রী স্বাধীনতা দেয়া হবে। দুই বা একাধিক স্বামীর মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছে গ্রহণ করতে পারে।

আর জান্নাতে যাদের স্ত্রী বা স্বামী থাকবে না, তাদের স্বামীহীন কারো সাথে বিয়ে করার অধিকার দেয়া হবে। অথবা জান্নাতি হুরের মধ্য থেকে কারো সাথে বিয়ে করার এখতিয়ার থাকবে।

ভালো বাবা-মায়ের সন্তান নষ্ট-খারাপ হয় কেন? জেনে নিন ইসলামিক উওর

ভালো বাবা-মায়ের সন্তান নষ্ট-খারাপ হয় কেন? জেনে নিন ইসলামিক উওর
ভালো বাবা-মায়ের সন্তান নষ্ট-খারাপ হয় কেন? জেনে নিন ইসলামিক উওর
ভালো বাবা-মায়ের সন্তান নষ্ট-খারাপ হয় কেন? জেনে নিন ইসলামিক উওর

ইসলামের দৃষ্টিতে মিসওয়াকের গুরুত্ব ও ফজিলত

আমাদের দেশে বর্তমানে প্রায় সবাই দাঁত পরিষ্কার করার জন্য ব্রাশ ব্যবহার করে থাকে। তবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা কিন্তু এখনো মেসওয়াক ব্যবহার করে থাকেন। কারণ ইসলামে মেসওয়াকের আলাদা গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। মেসওয়াকের বিষয়ে ইসলাম কি বলছে, চলুন এবার বিস্তারীত জেনে নিই।

মিসওয়াক কি:
মিসওয়াক হলো গাছের ডাল বা শিকড়। যা দিয়ে দাঁত মাজা ও পরিষ্কার করা হয়। দাঁত মাজাকেও মিসওয়াক বলা হয়।

মিসওয়াকের গুরুত্ব:
মিসওয়াক মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম, আল্লাহর সন্তুষ্টির উপায়। (বুখারি, নাসাঈ, মিশকাত) অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এমনটি কখনো হয়নি যে, জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আমার নিকট এসেছেন আর আমাকে মিসওয়াকের আদেশ দেননি। এতে আমার আশঙ্কা হচ্ছিল যে, মিসওয়াকের কারণে আমার মুখের অগ্রভাগ ছিলে না ফেলি। (মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)

কি দ্বারা মিসওয়াক করবো-
যেসব গাছের স্বাদ তিতা সেসব গাছের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব। যায়তুনের ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা উত্তম। মিসওয়াক হাতের আঙ্গুলের মতো মোটা ও নরম হওয়া ভালো। লম্বায় হবে এক বিঘাত

মিসওয়াক করার নিয়ম:
মুখের ডানদিক থেকে শুরু করে দাঁতের প্রস্থের দিক থেকে মিসওয়াক করা। দৈঘ্যের দিক থেকে নয়। ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলী মিসওয়াকের নিচে আর মধ্যমা ও তর্জনী মিসওয়াকের ওপর এবং বৃদ্ধাঙ্গুলী দ্বারা এর মাথার নিচ ভালভাবে ধরা। এ নিয়মটি হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রয়েছে।

মিসওয়াক কখন করবো-
অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মতে, ওজুতে কুলি করার পূর্বে; কোনো কোনো আলিম ওজুর পূর্বে মিসওয়াক করার কথা বলেছেন।
>> নামাজের পূর্বে।
>> ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর।>> কোনো মজলিসে যাওয়ার পূর্বে।
>> কুরআন ও হাদিস তিলাওয়াতের পূর্বে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব।

মিসওয়াক করার ফজিলত:
>> হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেন, মিসওয়াক করে যে নামাজ আদায় করা হয়, সে নামাজে মিসওয়াকবিহীন নামাজের তুলনায় সত্তরগুণ বেশি ফজিলত রয়েছে। (বায়হাকি)
>> মিসওয়াকে আল্লাহর রিজামন্দি হাসিল হয়।
>> দারিদ্র্যতা দূর হয়ে সচ্ছলতা আসে এবং উপার্জন বাড়ে।
>> পাকস্থলী ঠিক থাকে ও শরীর শক্তিশালী হয়।
>> স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বাড়ে, অন্তর পবিত্র হয়, সৌন্দর্য বাড়ে।
>> ফিরিশতা তার সঙ্গে মুসাফাহা করেন, নামাজে বের হলে সম্মান করেন, নামাজ আদায় করে বের হলে আরশ বহনকারী ফিরিশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
>> শয়তান অসন্তুষ্ট হয়।
>> ফুলসিরাত বিজলীর ন্যায় দ্রুত পার হবেন এবং ডান হাতে আমলনামা পাবেন, ইবাদতে শক্তি পাবে।
>> মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হবে, জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হবে। পূত-পবিত্র হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে।

সহজ পরীক্ষায় জেনে নিন গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে

​সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে এ নিয়ে অনেক মা বাবা কত জল্পনা কল্পনা করেন। অনেকে আলট্রাসোনোগ্রাফি করেন,মেয়ে হবে জানতে পারলে অনেক মা-বাবা মন খারাপ করেন।ছেলে হক বা মেয়ে হোক সন্তান সন্তানই।এখানে যে পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে তা অনেক ক্ষেত্রেই ফল্প্রসু হয়েছে। তবে আল্লাহতালার কুদ্রতের উপর কারো কোন হাত নেই। এ পরীক্ষা যে সবসময় সঠিক হবে তা মনে না করাই উচিত। এ ধরনের পরীক্ষায় শুধু মানসিক শান্তি পেতে পারেন… তবে এটি কে কেন্দ্র করে কোন সন্তানের জীবন বিপর্যয় বা পারিবারিক অসান্তি কাম্য নয়।

পরীক্ষা পদ্ধতিঃ

প্রথমে একটি পাত্রে ২ চা চামচ পরিমান বেকিং সোডা নিতে হবে, এবং তাতে ভ্রূণের বয়স যখন সাত সপ্তাহ বা তার উপর সে সময়কার সকালবেলার খালি পেটে থাকা অবস্থায় ১ কাপ পরিমান প্রসাব সংগ্রহ করতে হবে। সেই প্রসাব ঐ বেকিং সোডা মধ্যে আস্তে আস্তে ঢালতে হবে।

রেজাল্ট-

১. যদি বেকিং সোডা প্রসাবের সাথে মিশে কোন বিক্রিয়া না করে হাল্কা বুদবুদ উঠে এবং নিচে তলানি জমা হয় ও উপরে স্বচ্ছ পস্রাব দেখা জায় তবে সেটা সন্তান মেয়ে হবে নির্দেশ করে।

২. যদি বেকিং সোডা পস্রাবের সাথে মিশে প্রথমে ঝাজিয়ে উঠে বিক্রিয়া করে ও ফেনার স্তরের সৃষ্টি হয়, তবে সেটা সন্তান ছেলে হবে নির্দেশ করে।

নিচে ভিডিও দেখুন

ফলাফল > মেয়ে

 

ফলাফল > ছেলে

গায়ে কাপড় না রেখে গোসল করলে কী গুনাহ হবে? ইসলামের বিধান জেনে নিন

গোসল মানে পুরো শরীর ধোয়া। ইসলামি ফেকাহ মতে শরীয়তের দেয়া বিশেষ পদ্ধতি অনুযায়ী নাপাক দুর করার উদ্দেশ্যে অথবা সওয়াবের আশায় পুরো শরীর ধোয়াকেই গোসল বলে।

তবে গোসলের জন্য উত্তম নিয়ম হলো, গায়ে কাপড় রেখে গোসল করা। মানুষের সচারাচর যাতায়াত আছে এমন স্থানে নয় বরং আড়ালে-আবডালে গোসল করা।

কাপড় ছাড়া গোসল করা জায়েজ, কিন্তু উত্তম হলো পোশাকসহ গোসল করা। হাদিসে আছে, তোমার সবচেয়ে উচিত আল্লাহকে লজ্জা করা। কারণ আল্লাহ সর্বাবস্থায় মানুষকে অবলোকন করেন। কিন্তু কেউ যদি সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে গোসল করেন তাহলে কিন্তু গুনাহ হবে না।

সাধারন একটি গাছ যার অসাধারন গুন গুলো শুনলে আপনি চমকে উঠবেন

তেলাকুচা বসত বাড়ির আশে পাশে, রাস্তার পাশে বন-জঙ্গলে জন্মায় এবং বংশ বিস্তার করে। সাধারণত চৈত্র বৈশাখ মাসে তেলাকুচা রোপন করতে হয়। পুরাতন মূল শুকিয়ে যায় না বলে গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বৃষ্টি হলে নতুন করে পাতা গজায় এবং কয়েক বছর ধরে পুরানো মূল থেকে গাছ হয়ে থাকে। অবহেলিত এ লতা জাতীয় গাছটি অত্যন্ত উপকারী। আসুন জেনে নিই এর ঔষধি গুণ।
ডায়াবেটিসঃ ডায়াবেটিস হলে তেলাকুচার কাণ্ড সমেত পাতা ছেঁচে রস তৈরি করে আধাকাপ পরিমাণ প্রতিদিন সকাল ও বিকালে খেতে হবে। তেলাকুচার পাতা রান্না করে খেলেও ডায়াবেটিস রোগে উপকার হয়।

জন্ডিসঃ জন্ডিস হলে তেলাকুচার মূল ছেঁচে রস তৈরি করে প্রতিদিন সকালে আধাকাপ পরিমাণ খেতে হবে।পা ফোলা রোগেঃ গাড়িতে ভ্রমণের সময় বা অনেকক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসলে পা ফুলে যায় একে শোথ রোগ বলা হয়। তেলাকুচার মূল ও পাতা ছেঁচে এর রস ৩-৪ চা চামচ প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে।শ্বাসকষ্টঃ বুকে সর্দি বা কাশি বসে যাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট (হাপানি রোগ নয়) হলে তেলাকুচার মূল ও পাতার রস হালকা গরম করে ৩-৪ চা চামচ পরিমাণ ৩ থেকে সাত দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে।

কাশিঃ কাশি উপশমে ৩-৪ চা চামচ তেলাকুচার মূল ও পাতার রস হালকা গরম করে আধা চা-চামচ মধু মিশিয়ে ৩ থেকে ৭ দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে।

স্তনে দুধ স্বল্পতাঃ সন্তান প্রসবের পর অনেকের স্তনে দুধ আসে না বা শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এ অবস্থা দেখা দিলে ১টা করে তেলাকুচা ফলের রস হালকা গরম করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে তেলাকচুর পাতা একটু তিতে হওয়ায় পরিমাণমত সকাল-বিকাল ১ সপ্তাহ খেতে হবে।

ফোঁড়া ও ব্রণঃ এ সমস্যায় তেলাকুচা পাতার রস বা পাতা ছেঁচে ফোঁড়া ও ব্রণে প্রতিদিন সকাল-বিকাল ব্যবহার করতে হবে।

আমাশয়ঃ প্রায়ই আমাশয় হতে থাকলে তেলাকুচার মূল ও পাতার রস ৩-৪ চা চামচ ৩ থেকে ৭ দিন প্রতিদিন সকালে ও বিকালে খেতে হবে।

অরুচিতেঃ সর্দিতে মুখে অরুচি হলে তেলাকুচার পাতা একটু সিদ্ধ করে পানিটা ফেলে দিয়ে ঘি দিয়ে শাকের মত রান্না করতে হবে। খেতে বসে প্রথমেই সেই শাক খেলে খাওয়াতে রুচি আসবে৷

জনসচেতনতায় শেয়ার করুন৷ নিয়মিত স্বাস্থ্য টিপস পেতে অামাদের পেইজে লাইক দিন৷ ভালো লাগলে T=Thanks, G=Good, E=Excellent সংক্ষেপে T, G বা E লিখে মন্তব্যে লিখুন৷

বিতেরের নামায পড়ার নিয়ম কি ? দলিল সহ জানতে চাই

বিতির নামায কত রাকাত- ১,৩ কিংবা ৫

বাংলাদেশে দেশে দীর্ঘদিন থেকে বিতিরের নামাজ ৩ রাকাত পড়ানো হয়। এই থেকে বেশীর ভাগ মানুষের ধারনা, বিতরের নামাজ শুধুমাত্র ৩ রাকাত। তবে কুরআন-হাদিসের আলোকে আমাদের ধর্মের সমস্ত জিনিস চিন্তা করা উচিৎ।

এক রাকাত বিতর নামায

১) নবী(স:) রাতের তাহাজ্জুদের নামায দুই দুই রাকাত করে আদায় করতেন এবং ১ রাকাত বিতর পড়তেন। বুখারী -৯৩৬

২) আবদুল্লাহ ইবনে উমর(রা:) থেকে বর্নিত, রাতের নামায দু’ দু’ রাকাত করে।ার যখন তুমি নামায শেষ করতে চাইবে, তখন ১ রাকাত বিতর পড়বে। এতে তোমার আদায়কৃত নামাযে বিতরের নামাযও হয়ে যাবে। বুখারী- ৯৩৪

৩) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাবা ইবনে সু’আইর(রা) থেকে বর্নিত (নবী উনার মাথায় হাত বুলায়ে দিয়েছিলেন), ‘তিনি সাদ বিন আবিওয়াক্কাসকে বিতরের নামায ১ রাকাত পড়তে দেখেছেন’। বুখারী-৬৯১০,৯৩২,৯৩৫

৪) হযরত আয়েশা থেকে বর্নিত, ‘রাসুলুল্লাহ রাতে ১১ রাকাত নামায পড়তেন।তার মধ্যে ১ রাকাত বিতর পড়তেন। নামায শেষ করে তিনি ডান পাশে ফিরে শুতেন।অত:পর

ভোরে আজান হলে, তিনি উঠে, সংক্ষিপ্ত ২ রাকাত(ফজরের সুন্নাত) নামায পড়তেন’।

মুসলিম – ১৫৯৪,১৫৯৫,১৬০৪,১৬২৫,১৬২৬,১৬২৭,১৬২৮,১৬৩৪-১৬৪০

৫) হযরত ইবনে উমর বলেন, ‘নবী বলেছেন, রাতের নামায(নফল) পড়বে ২ রাকাত করে। আর বিতরের নামায হলো ১ রাকাত। নাসা্য়ী- ১৬৯৪

১৬৬৮-১৬৭৫,১৬৯০-৯৩,১৬৯৫-৯৭

৬) হযরত আয়েশা থেকে বর্নিত, রসুলুল্লাহ(স:) (রাতে নামাযে) প্রতি ২ রাকাতে সালাম ফিরাতেন এবং বিতর নামায ১ রাকাত পড়তেন। ইবনে মাজাহ-১১৭৪- ১১৭৭

৭) ‘রসুল(স:) ১ রাকাত বিতর নামায পড়তেন’।

তিরমিজীতে- ৪৩৩ (বুখারী ও মুসলিমের উদ্ধৃতি)

৮) ‘বিতরের নামা ১ রাকাত’। আবু দাউদ – ১৪২১(মুসলিম ও নাসায়ীর উদ্ধৃতি)

তিন কিংবা ৩-এর অধিক বে-জোড় সংখ্যক বেতরের নামায

৯) হযরত ইবনে আব্বাস(রা:) বলেছেন, ‘রসুলুল্লাহ রাতের বেলায় ৮ রাকাত(তাহাজ্জুদ) নামায পড়তেন। ৩ রাকাত বিতরের নামায পড়তেন ও ফজর নামাযের আগে ২ রাকাত(সুন্নাত) নামায পড়তেন। নাসায়ী -১৬৯৮,১৭০০-১৭০৬,১৭০৮

১০) হযরত আবু আইয়ুব থেকে বর্নিত, ‘নবী বলেছেন, বিতরের নামায আবশ্যকীয়।যে ব্যাক্তি ৫ রাকাত পড়তে চায় সে ৫ রাকাত পড়বে, যে ৩ রাকাত পড়তে চায় ৩ রাকাত পড়বে এবং যে ১ রাকাত পড়তে চায় ১ রাকাত পড়বে।

ইবনে মাজাহ-১১৯০,নাসায়ী-১৭১২, আবু দাউদ-১৪১২

১১) আবু আইয়ুব(রা:) থেকে বর্নিত, ‘নবী(স:) বলেছেন, কিতরের নামায আবশ্যকীয়। অতএব যা ইচ্ছা সে ৭ রাকাত, ৫ রাকাত, ৩ রাকাত কিংবা ১ রাকাত পড়ুক’। নাসায়ী- ১৭১১

বিতরের নামায পড়ার নিয়ম দুটি

১২) তিনি বিতরের নামায যখন ৩ রাকাত পড়তেন, তখন প্রথমে ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে নিতেন।তারপর ১ রাকাত পড়ে ,সালাম ফিরিয়ে নামায সমাপ্ত করতেন।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্নিত, তিনি বিতরের ২ রাকাত এবং ১ রাকাতের মধ্যে (সালাম ফিরিয়ে) পৃথক করে নিতেন এবং তিনি বলেছেন, নবী(স:) এরুপই করতেন। ইবনে হিব্বান-২৪৩০

১৩) তিনি বিতরের নামাজ যখন ৩ রাকাত পড়তেন, তখন দুই রাকাত পড়ে বসতেন না কিংবা তাশাহহুদও পড়তেন না। বরং একসাথে ৩ রাকাত শেষেই বসতেন।হযরত আয়েশা(রা:) থেকে বর্নিত, ‘নবী(স:) ৩ রাকাত বিতর পড়তেন, যার শেষ রাকাত ছাড়া তিনি কোথাও বসতেন না’। বায়হাকী,হাকেম

১৪) হযরত আয়েশা(রা:) থেকে বর্নিত,’রাসুলুল্লাহ(স:) রাতের বেলা তের রাকাত নামায পড়তেন। এর মধ্যে ৫ রাকাত পড়তেন বিতর এবং তাতে একবারে শেষে ছাড়া আর কোন বৈঠক করতেন না’। মুসলিম- ১৫৯৭, নাসায়ী-১৭১৮

১৫) উম্মে সালমা(রা:) থেকে বর্নিত,’ রাসুলুল্লাহ(স:) ৭ কিংবা ৫ রাকাত বিতরের নামায পড়তেন এবং মাঝখানে সালামও ফিরাতেন না এবং কোন কথাও বলতেন না’।

ইবনে মাজাহ- ১১৯২

১৬) রাসুলুল্লাহ(স:) বলতেন,’তোমরা বিতরের ৩ রাকাত নামাজকে, মাগরিবের নামাযের সদৃশ করো না’।

হযরত আবু হুরায়রা(রা:) থেকে বর্নিত,’ রাসুলুল্লাহ(স:) বলতেন,’তোমরা মাগরিবের মত করে ৩ রাকাত বিতরের নামায পড়ো না। বরং ৫ রাকাত, ৭ রাকাত, ৯ রাকাত কিংবা ১১ রাকাত দ্বারা বিতর পড়ো’।

ত্বাহাবী,দারু কুত্বনী,ইবনে হিব্বান,হাকেম

১৭) নবী রাসুলুল্লাহ (স:) বিতরের নামায ৯,১১ কিংবা ১৩ রাকাত পড়তেন।তবে এ সব বর্ননায় সাধারনত: রাতের নফল নামায পড়ার সময় ৮ রাকাতের শেষে ১ রাকাত বিতর, ১০ রাকাতের শেষে ১ রাকাত বিতর কিংবা ১২ রাকাতের শেষে ১ রাকাত বিতর পড়তেন।

১৮) ‘রাসুলুল্লাহ(স:) রাতে ৮ রাকাত নামায পড়তেন।তারপর ১ রাকাত বিতির পড়তেন। এরপর বসে বসে ২ রাকাত (শাফিউল বিতরের) নামায পড়তেন’।

আহমদ,মুসলিম-১৬০১

১৯) হযরত কায়েস ইবনে তুলক(রা:) বলেন, ‘রমযান মাসে আমার পিতা তুলক ইবনে আলী(রা:) আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসে। তিনি আমাদের সাথে রাতে থাকেন। তিনি ঐ রাতে আমাদের নিয়ে তারাবীর নামায ও বিতরের নামায পড়েন’।

তারপর তিনি এক মসজিদে যেয়ে তার সাথীদের সাথে নামায পড়েন। শেষে বিতরের নামায বাকী থাকলো। তিনি এক ব্যাক্তিকে সামনে ঠেলে দিয়ে বলেন,তুমি তাদেরকে নিয়ে বিতিরের নামায পড়ো।নিশ্চয় আমি রাসুল্লাহকে(রা:) বলতে শুনেছি, এক রাতে ২ বার বিতিরের নামায পড়তে নাই’। নাসায়ী-১৬৮০

২০) হাদিসে রাসুল(স:) –এ বিতরের নামাযের চিত্র দেখলে বুঝা যায়, বিতরের নামায ১ রাকাতই ভাল। তবে একাধিক রাকাত পড়লে বে-জোড় ভাবে পড়তে হবে।হাদিসে বর্নিত উপায়ে বিতর পড়তে হবে। নাহলে, বিতর নামায শুদ্ধ হবে না।