আব্দুর রাজ্জাক এর জীবনী

আব্দুর রাজ্জাক ১৫ জুন, ১৯৮২ জন্মগ্রহন করেন। তিনি বাংলাদেশের খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট দলের পক্ষে ২০০১-২০০২ মৌসুমে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন। অভিষেক বর্ষেই রাজ্জাক বামহাতি স্পিনার হিসেবে সকলের নজর কাড়েন এবং নিজ দলকে জাতীয় ক্রিকেট শিরোপা পেতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেন। সেখান থেকে বাংলাদেশ-এ দলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়ে ঢাকায় অণুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ে-এ দলের বিপক্ষে ১৭ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট লাভ করেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃপক্ষ রাজ্জাককে ২০০৪ সালের জুলাই মাসে অণুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে হংকংয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটায়। তিনি দলে নিজেকে তার যথোপযুক্ততা নিয়মিতভাবে প্রকাশ ঘটান; কিন্তু ১ম একাদশে স্থায়ীভাবে আসন গড়তে পারেননি। ২০০৬ সালের মে মাসে আব্দুর রাজ্জাক ২০০৫-২০০৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অণুষ্ঠিত ২য় টেস্টে নিজ অভিষেক ঘটান।

অতীতে ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিং করার সময় রাজ্জাক থ্রো বা চাকতি নিক্ষেপের অভিযোগে বেশ কয়েকবার অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এরই রেশ ধরে ২০০৪ সালে অণুষ্ঠিত এশিয়া কাপের খেলায় আইসিসি’র ম্যাচ রেফারি রোশন মহানামা কর্তৃক তিনি পুণরায় অভিযুক্ত হন এবং তাকে বোলিং ভঙ্গীমা পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। পরবর্তীকালে রাজ্জাক বোলিংয়ে ধরন পরিবর্তন করে বৈধভাবে বোলিং করে আস্থা অর্জন করেন। ফলে, আবারো তিনি নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক দলে ফিরে আসলেও তাড়াতাড়ি তার নিজস্ব ছন্দ খুঁজে পাননি। কিন্তু ধীরে ধীরে পুণরায় তিনি ধারাবাহিকভাবে ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করে জাতীয় দলের একজন নিয়মিত সদস্য খেলোয়াড় হয়ে নিজেকে গড়ে তোলেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশী বোলার হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০ উইকেট নেন।

ওয়ানডে ক্রিকেটে সফলতার পর আব্দুর রাজ্জাক নিজ দেশে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া’র বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক ঘটান। বাংলাদেশের পক্ষে তার ১ম টেস্ট অভিষেকে ১৫ রান করেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র ইনিংসে বোলিংয়ের সুযোগ পেলেও কোন উইকেট নিতে সক্ষম হননি রাজ্জাক। স্বভাবতঃই দল পরাজিত হয়। পরের টেস্ট খেলার সুযোগ আসে দীর্ঘ এক বছর পর শ্রীলঙ্কা’র বিপক্ষে। চামারা সিলভাকে কট আউটের মাধ্যমে তার ১ম উইকেট প্রাপ্তির সুযোগ ঘটে। এছাড়াও তিনি গ্রেইম স্মিথের দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্টের উভয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন; তন্মধ্যে একবার অপরাজিত থাকেন।

আব্দুর রাজ্জাক ২০০৮ সালে অণুষ্ঠিত আইপিএল বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে খেলেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দল তাকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয় এবং একটিমাত্র খেলায় অংশগ্রহণ করায়। ঐ দলের পক্ষে বাকী কোন খেলায় অংশগ্রহণ না করলেও রাজ্জাক বিশ্বাস করেন যে, টুর্ণামেন্টের অভিজ্ঞতাই গুরুত্বপূর্ণ বিচার্য বিষয় এবং তার জন্য পথ ও পাথেয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন যে, টেস্ট ম্যাচে বোলিংয়ের বিষয়ে ভারতীয় তথা বিশ্বসেরা স্পিনার অনিল কুম্বলে তাকে বিরাটভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং অনিলের বোলিং অণুসরণ করতে বলেছেন।

রাজ্জাকের অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্যে ১ম ওডিআইয়ে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫২ রানে পরাজিত করে। খেলায় রাজ্জাক ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। বল হাতে রাজ্জাকের ৩৯ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট লাভ করা ছিল বিপক্ষীয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের বিরোধের জেরের ফসল। রাজ্জাক এই সিরিজে বাংলাদেশকে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে সহায়তা করেন। ১৫ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যান অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন।