আজরাঈল (আ.) আসার পর মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির অনুভূতি যেমনটা হয়

প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা প্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে দোযখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়।

মৃত্যুর সময় কেমন বোধ করে মানুষ?
মৃত্যু এবং মৃত্যু যন্ত্রণা প্রত্যেক মানুষের জন্য অনিবার্য। মহান আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় রাসূল (সা:) কে মৃত্যুর স্বাদ নিতে হয়েছিলো। আর যখন তিনি মৃত্যুর কিনারায় পৌছেছিলেন, যখন তিনি মৃত্যু যন্ত্রণায় আক্রান্ত হলেন। তখন নিজের সাথে এক জগ পানি রেখেছিলেন , আর সেখান থেকে নিজের হাত ডুবিয়ে নিয়ে মুখ মুছতেন এবং বলতেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ইন্না লিল মাওতি লা সাকারাত, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।” -অর্থাৎ: নিশ্চয়ই মৃত্যু যন্ত্রণা বড়ই তীব্র এবং বড়ই কঠিন!

যদি খোদ রাসূল(সা:) মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর হন, তাহলে আমাদের কেমন হবে? অবশ্যই কঠিন। আর কাফির বা অবিশ্বাসীগণদের শাস্তি হবে সর্বোচ্চ।
তাদেরকে মৃত্যুর সময় ফেরেস্তারা বলবে, বেড়িয়ে আয় হে পাপি আত্মা! আর তোদের জন্য অপেক্ষা করছে আল্লাহর শাস্তি! তবে কিছু মানুষের মৃত্যু
যন্ত্রণা হবে খুবই কম। যেমন একটি পিপড়ার কামরের মত। আর তারা হলেন শহীদগণ।

জেনে নিন যেসব ব্যক্তির স্বপ্ন সত্য হয় বেশি!

আমরা যখন ঘুমায়, ঠিক তখন বিভিন্ন স্বপ্ন দেখি। কিন্তু কিছু ব্যক্তির স্বপ্ন অনেক সময় বাস্তবে দেখা যায়। এ সম্পর্কে একটি হাদিস উল্লেখ করা হলো-

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: “إذا اقترب الزمان لم تكد رؤيا المؤمن تكذب، ورؤيا المؤمن جزء من ستة وأربعين جزءً من النبوة” متفق عليه،
وفي رواية: “أصدقكم رؤيا أصدقكم حديثاً”.
الحديث رواه البخاري في التعبير (باب القيد في المنام) ومسلم في أول كتاب الرؤيا.

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দিন যত যেতে থাকবে, কিয়ামত নিকটে হবে, মুমিনদের স্বপ্নগুলো তত মিথ্যা হতে দূরে থাকবে। ঈমানদারের স্বপ্ন হল নবুওয়তের ছিচল্লিশ ভাগের একভাগ। (বর্ণনায় : বুখারী ও মুসলিম)

অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তোমাদের মধ্যে যে লোক যত বেশী সত্যবাদি হবে তার স্বপ্ন তত বেশী সত্যে পরিণত হবে।

এ হাদীস থেকে আমরা জানতে পারলাম:
১. মুমিনের জীবনে স্বপ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেয়ামত যত নিকটে আসবে ঈমানদারের স্বপ্ন তত বেশী সত্য হতে থাকবে।
২. ঈমানদারের জীবনে স্বপ্ন এত গুরুত্ব রাখে যে, তাকে নবুওয়তের ছিচল্লিশ ভাগের এক ভাগ বলা হয়েছে।
৩. মানুষ যত বেশী সততা ও সত্যবাদিতার চর্চা করবে সে ততবেশী সত্য স্বপ্ন দেখতে পাবে।
৪. যদি কেউ চায় সে সত্য স্বপ্ন দেখবে, সে যেন সৎ, সততা ও সত্যবাদিতার সাথে জীবন যাপন করে।

জেনে নিন কেন খাবেন ইসবগুলের ভুসি

ইসবগুলের অনেক উপকারিতা রয়েছে।
কোষ্ঠকঠিন্যতায় : এ সমস্যা হলে ৫-১০ গ্রাম ইসবগুল নিয়ে ১ কাপ ঠাণ্ডা বা গরম পানিতে আধাঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে তাতে ২-৩ চামচ চিনি মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে বা রাতে শোয়ার আগে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক উপাদান যা আমাদের পেটের পীড়া, কোষ্ঠকঠিন্যতায় উপকারী। যারা দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকঠিন্যতায় ভুগছেন তারা ২ মাস নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকঠিন্য দূর হবে। পেট স্বাভাবিক হলে সপ্তাহে ১-২ দিনের বেশি না খাওয়াই ভালো। বেশি মাত্রায় খেলে ডায়রিয়ার সমস্যা হতে পারে।

পেট পরিষ্কারে ওষুধের চেয়ে ইসবগুল অনেকগুণে উপকারী। সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে অর্শ্বরোগের সৃষ্টি হয়। অর্শ্বরোগ অনেক সময় ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতেও রূপান্তরিত হতে পারে। এসব সমস্যার শুরু থেকে সমাধান করতে ইসবগুলের ভুসি উপকারী। ওষুধ পেটকে কেমিক্যালাইস করে; ইসবগুলের ভুসি প্রাকৃতিকভাবে আমাদের সুস্থ রাখে। প্রতি রাতে ভুসি খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করলে আমাশয় থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

ইসবগুল আমাশয়ের জীবাণু ধ্বংস করতে পারে না, তবে বের করে দিতে পারবে। তাই আমাশয়ের রোগীরা সকালে ও রাতে একগ্লাস ইসবগুলের শরবত খেলে উপকার পাবে। ওষুধ খেয়ে আমাশায় ঠিক করলে জীবাণুগুলো পেটের ভেতরে মরে গেলেও শরীর থেকে বের হয় না; যার কারণে আবারও আমাশায় রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে।

যাদের ইউরিনে জ্বালাপোড়া আছে তারা সকালে-বিকালে শরবতের সঙ্গে ইসবগুলের ভুসি খেলে প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমবে এবং ইউরিনের রং স্বাভাবিক হয়ে যাবে। হাতে, পায়ে জ্বালাপোড়া ও মাথা ঘোরানো রোগে আখের গুড়ের সঙ্গে ইসবগুলের ভুসি মিলিয়ে সকাল-বিকাল এক সপ্তাহ খেলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে।

জানেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কেন দাড়ি রাখা যায় না

দাড়ি রাখার অপরাধে এক জওয়ানকে বসিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এটা সত্যি। কারণ, সেনাবাহিনীতে দাড়ি রাখার নিয়ম নেই। কেবলমাত্র ধর্মীয় কারণে দাড়ি রাখতে দেওয়া হয়। আর এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে পেতে হয় শাস্তি।

ওই জওয়ান সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও তার আর্জি খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু কেন এমন অদ্ভুত নিয়ম? কেন সেনাবাহিনীতে ক্লিন সেভ করাটা বাধ্যতামূলক?

সেনাবাহিনী কখনই দাড়ি বা চুল বড় করতে দেয় না। কান ঢেকে যায়, এমন চুল রাখা যায় না। শৃঙ্খলা ও সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য এমন নিয়ম। আবার ডোগরা রেজিমেন্টে সবাই গোঁফ রাখেন। সেটাও একই শেপের হতে হবে। কারণ, সেনাবাহিনীতে কেউ আলাদা নয়। সবাই একটা সিস্টেমের অংশ মাত্র। তাই নিজেকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন ভাবাটা সেনাবাহিনীর নিয়ম নয়।

শিখ সৈনিকরা কেন দাড়ি রাখেন?

শিখদের ক্ষেত্রে অন্য নিয়ম। তাদের মাথায় পাগড়িতে ঢাকা বড় চুল ও দাড়ি থাকে। কারণ শিখধর্মে পাঁচটি ‘ক’ মেনে চলা বাধ্যতামূলক- কেশ, কাংঘা, কারা, কাচ্চা, কৃপাণ। কেশ অর্থাত্‍ চুল কাটা যাবে না। তাই, শিখদের ক্ষেত্রে চুল রাখতে দেওয়া হয়। আর তারা চুল ছোট রাখুন বা বড়, চুল রাখাটা তাদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। যতদিন চাকরি করবে, ততদিন চুল রাখতেই হবে শিখ সৈনিকদের।

মুসলিমদের ক্ষেত্রে নয় কেন?

অনেকেই হয়ত ভাবেন যে ইসলাম ধর্মে দাড়ি রাখাটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তা নয়, ইসলামে এটা একজন পুরুষের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে যে তারা দাড়ি রাখবে কিনা। দাড়ি কাটার জন্য তাদের কোনও ধর্মীয় বিধান নেই। তাই তাদের ক্ষেত্রে দাড়ি রাখার বিষয়টি অনুমোদন করা হয় না।

তবে, ভারতের বাইরে অনেক দেশেই সেনাবাহিনীতে দাড়ি রাখতে দেওয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যারা দাড়ি রাখে আর যারা ক্লিন সেভ তাদের জন্য আলাদা আলাদা রেজিমেন্ট আছে।

কারিনার এই হ্যান্ড ব্যাগের দাম জানলে আপনার চোখও কপালে ওঠবে

একটা চারচাকা গাড়ির চেয়ে কারিনা কাপুরের ব্যাগের দাম বেশি! কথাটা শুনেই চোখ কপালে উঠেছে তো? কিন্তু এত অল্পেতে এরকম উত্তেজনা হলে চলবে কেন? আগে পুরো ঘটনাটা শুনে নিন, তারপর তো প্রতিক্রিয়া দেবেন। আসলে কারিনা কাপুরের আইকনিক বারকিন ব্যাগের দাম আট লক্ষ।

অথচ দেশের বাজারে দুই লক্ষ টাকায় দিব্যি গাড়ি পাওয়া যায়। যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে তিনি নিজের স্টাইল এবং ফ্যাশনের জন্য সবসময় এগিয়ে থাকতেই পছন্দ করেন। কারণ তিনি যে সে নয় একেবারে কাপুর খানদানের কন্যা। তায় আবার নবাব ঘরণীও। এহেন কারিনা কাপুরের ব্যাগের দাম যে আকাশছোঁয়া হবে এটাই স্বাভাবিক।

তবে সম্প্রতি বিমানবন্দরে সাইফ পত্নীর হাতে থাকা একটি কালো রঙের ব্যাগ এই আলোচনায় আবার ধোঁয়া দিয়েছে। এদিন বন্দর থেকে বেরোনোর সময় পাপারাৎজির হাতে ক্যামেরাবন্দি হন তিনি। পরনে গোলাপি কামিজ। আর হাতে ফ্রান্সের বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ‘হার্মিস’-এর তৈরি করিনার এই আইকনিক বারকিন ব্যাগ। যার দাম প্রায় আট লক্ষ রুপি।

এই ব্যাগটি নিয়ে কারিনা শুধু বিমানবন্দরেই যান তা নয়। টুকিটাকি কাজেও এই ব্র‌্যান্ডের ব্যাগ নিয়েই বেরিয়ে পড়েন রণধীর কন্যা। ভারতে টাটা সংস্থার ব্যক্তিগত গাড়ি কিনতে পাওয়া যায় দুই লক্ষ টাকায়। সেই তুলনায় কারিনার ব্যাগের দাম অনেক বেশি। হার্মিসের তৈরি বিলাসবহুল সব ব্যাগের প্রতি কারিনার ভাললাগা একটু বেশিই। তাই বেড়াতে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন সব নিয়মিত কাজে, তার হাতে থাকে এই নামী ব্র্যান্ডের ব্যাগ।

তাকে এই ব্যাগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘এই কোম্পানির ব্যাগ ছাড়া অন্য কোনও ব্যাগ আমি খুব কমই ব্যবহার করি। তবে আমি কিন্তু একটা ব্যাগ একবার ব্যবহার করেই সরিয়ে রাখি না। অনেক সময় এমনও হয়, একবারে ৫-৬টা ব্যাগ কিনে ফেলার পর প্রায় ২ বছর পর্যন্ত আমি আর কোনও ব্যাগই কিনি না। তাই আমি অকারণ টাকার অপচয় করি এটা ভেবে ফেলার কোনও কারণ আমি দেখছি না।’

তবে শুধু তিনিই নন, বি-টাউনে সোনম কাপুর বা দীপিকা পাড়ুকোনের মতো অভিনেত্রীরাও কিন্তু এই ব্যাগের বিরাট বড় ফ্যান।

কে সেই ভয়ঙ্কর সম্রাট যার আট স্ত্র্রীর করুন পরিণতি হয়েছিল

‘‘কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট। রক্তজমাট শিকল পুজোর পাষাণবেদী…..” কাজী নজরুলের মত এরকম হাজার লেখক যুগে যুগে অত্যচারী শাসকের বিরুদ্ধে রচনা করেছে বহু কবিতা, গান,উপন্যাস।কেউ লেখনির মাধ্যমে,আবার কেউ দলবদ্ধ হয়ে অত্যচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছে।

তবুও যুগে যুগে অত্যচারী শাসকের দেখা মিলেছে।তেমনি একজন অত্যাচারী শাসক চর্তুথ আইভান ভেসিলিভিখ।তিনি ‘আইভান দ্য টেরিবল’ বা ভয়ঙ্কর আইভান! নামে পরিচিত। তিনি রাশিয়ান গ্র্যান্ড প্রিন্স তৃতীয় আইভান ভেসিলিভিখ এর নাতি।১৫৩০ সালের ২৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করে চর্তুথ আইভান ভেসিলিভিখ।

১৫৪৭ থেকে ১৫৮৪ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত রাশিয়ার জার তথা সম্রাট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি। তার শাসনামলেই কাজান, আস্ত্রাখান ও সিবির খানাত জয়ে সক্ষম হয় রাশিয়া। ফলে সেটি প্রায় ৪০,৫০,০০০ বর্গ কিলোমিটারের বিশাল এক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। মধ্যযুগীয় কেবল একটি প্রদেশ থেকে রাশিয়াকে বিশাল সাম্রাজ্যে রুপান্তরের কারিগর ছিলেন আইভান।

এত অর্জনের থাকলেও ব্যাক্তি জীবনে মোটই সুখী ছিলেননা তিনি।তিনি ভয়ঙ্কর রাগী ছিলেন। ‘রাগ’ নামক পশুটা মাঝে মাঝে এতটাই লাগামছাড়া হয়ে যেত যে, তখন সেটাকে সামাল দেয়াই হয়ে উঠতো কষ্টকর। এইরকম ভয়ঙ্কর সম্রাটের জীবনে একে একে আসল আটটি স্ত্রী।প্রথম স্ত্রীর স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও বাকিদের র্নিমম পরিনতি হয়েছিল।

১ম স্ত্রী: ১৫৪৭ সালে মাত্র ষোল বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন আইভান। অল্প কয়েকদিনের মাঝেই সম্রাট একাকীত্ব অনুভব করতে শুরু করলেন। রাজ্য আছে, চাকর-বাকর আছে, আছে বিশাল এক সেনাবাহিনী; তবু মনের কথা একান্তে বলবার জন্য মনের মানুষই যে নেই! এজন্য সিংহাসন প্রাপ্তির দু’সপ্তাহের মাঝেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন রাজা।

রাজার বিয়ে বলে কথা। সারা রাশিয়া থেকে প্রায় ১,৫০০ অভিজাত পরিবারের বাবারা সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন তাদের মেয়েদের, উদ্দেশ্য আদরের মেয়েটিকে সম্রাজ্ঞী বানাবেন। ক্রেমলিনে জড়ো হওয়া এতসব পাত্রীর মাঝে সেদিন আনাস্তাশিয়া রোমানোভ্‌না নামের এক তরুণীও ছিলো। শত শত তরুণীকে বাদ দিয়ে আইভানের ভালো লেগে যায় তাকেই। ব্যাস, এবার তাহলে বিয়ে হয়ে যাক!

১৫৪৭ সালে শুরু হয় আইভান-রোমানোভ্‌নার সুখের সংসার। তাদের ভালোবাসার ফসল হিসেবে সংসারে এসেছিলো ছয়টি সন্তান। কিন্তু সুখের এ সংসার খুব বেশিদিন টিকে রইলো না। ১৫৬০ সালের দিকে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়লেন সম্রাজ্ঞী। রাজ্যের সেরা চিকিৎসকদের চিকিৎসাতেও কোনো লাভই হচ্ছিলো না, দিন দিন স্বাস্থ্যের কেবল অবনতিই ঘটছিলো। অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে সেই বছরই পরপারে পাড়ি জমান তিনি।

এ ঘটনার পর ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে পড়েন সম্রাট আইভান। তিনি ভাবতে শুরু করেন তাকে হত্যা করতে গিয়েই হয়তো তার স্ত্রীকে বিষ মেশানো কিছু খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাশিয়ান বয়ারদের উপর আগে থেকেই ক্ষোভ ছিলো আইভানের। এ দুর্ঘটনা যেন সেই আগুনে ঘি ঢেলে দিলো। এরপর বিনা বিচারে অগণিত মানুষকে নির্মম নির্যাতন সইতে হয়েছে, মারাও গিয়েছে অনেকে।

ঐতিহাসিকগণ বলে থাকেন, রোমানোভ্‌নার মাঝে এক বিশেষ কোমলতা ছিলো যা আইভানের উন্মত্ততাকে বশীভূত করতে পারতো সহজেই। তার মৃত্যুই যেন শেকলে বাঁধা হিংস্র হায়েনাকে আরো উন্মত্ত করে ছেড়ে দেয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা থেকে ধারণা করা হয় যে, সম্রাজ্ঞীকে খুন করতে সম্ভবত পারদই ব্যবহার করা হয়েছিলো বিষ হিসেবে। তবে সেটাও পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ তৎকালে ওষুধ হিসেবেও এর প্রচলন ছিলো।

২য় স্ত্রী: রোমানোভ্‌নার মৃত্যুর এক বছর পরেই মারিয়া তেম্রিয়ুকোভ্‌না কে সম্রাজ্ঞী করে ঘরে তোলেন আইভান। কিন্তু নতুন সম্রাজ্ঞীকে মন থেকে কেউই মেনে নিতে পারছিলো না, সবাই তাকে ভয় পেতো। এমনকি অনেকে বলতো তাকে নাকি দেখতে ডাইনীদের মতো লাগে! অনেকেই ভাবতো নতুন সম্রাজ্ঞী হয়তো তাদের সম্রাটকে দিয়ে নিজের কার্যসিদ্ধি করিয়ে নিচ্ছেন।

আইভানের প্রথম সংসারে ছয় সন্তানের জন্ম হলেও এদের চারজনই শৈশবে মারা যায়, বেঁচে থাকে শুধু দুজন- আইভান ও ফিওদর। এ দুজনকে সহ্যই করতে পারতেন না মারিয়া। মারিয়ার গর্ভে আইভানের এক পুত্র সন্তানের জন্ম হয়, নাম ছিলো তার ভাসিলি। কিন্তু দুর্ভাগা ভাসিলি জন্মের মাসখানেক পরই মারা যায়।

এভাবে আট বছর মারিয়ার সাথে সংসার টিকে ছিলো আইভানের। অবশেষে ১৫৬৯ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান আইভানের এ জীবনসঙ্গিনীও। গুজব আছে যে, দ্বিতীয় স্ত্রীকে নাকি সম্রাট নিজেই বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছিলেন। তবে রাজা কখনো এর সত্যতা নিশ্চিত করেন নি। বরঞ্চ মারিয়াকে খুনের অভিযোগ এনে আবারো অনেক লোককে নির্যাতন আর হত্যার মাধ্যমে মনের জ্বালা মেটান তিনি।

৩য় স্ত্রী: তৃতীয় এ বিয়ের সময় আবারো প্রথম বিয়ের মতো পাত্রীর সন্ধান করেন তিনি।অবশেষে সকল পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে রাশিয়ার নতুন সম্রাজ্ঞী হবার যোগ্যতা অর্জন করেন মার্ফা সোবাকিনা। ১৫৭১ সালের ২৬ জুন আইভানের সাথে সোবাকিনার বাগদান সম্পন্ন হয়। এতকিছু করেও শেষ রক্ষা হলো না।

বিয়ের অল্প কয়েকদিনের মাথায় মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন নতুন সম্রাজ্ঞী। অবশেষে বিয়ের সাজসজ্জা রাজপ্রাসাদ থেকে ঠিকমতো মুছে যাবার আগেই মাত্র দু’সপ্তাহের মাথায় মারা যান সোবাকিনা। তখন তার বয়স হয়েছিলো মাত্র ১৯ বছর। সোবাকিনার মৃত্যুর কারণ হিসেবেও বিষপ্রয়োগকেই মূল কারণ হিসেবে দেখেন অধিকাংশ ইতিহাসবেত্তা।

৪র্থ স্ত্রী: আগের তিন স্ত্রীর মৃত্যুর পেছনের কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছিলো বিষ প্রয়োগকে। তাই এবার রানী নির্বাচনের ব্যাপারে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করলেন আইভান। অনেক ভেবে-চিন্তে তিনি ঘরে তুললেন অ্যানা কল্‌তোভ্‌স্কায়া কে।

ওদিকে সম্রাটের সাথে এ বিয়ে নিয়ে ঝামেলা বেধে যায় রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের। কারণ চতুর্থ বিয়ে তারা কখনোই স্বীকৃতি দেয় না। তাদের দৃষ্টিতে এটি ধর্মবিরোধী এক কাজ।  তাই চার্চের আশীর্বাদ ছাড়াই বিয়ে করে এক ছাদের নিচে বসবাস শুরু করেন আইভান-অ্যানা দম্পতি।

বিয়ের দু’বছর পরও অ্যানার গর্ভে কোনো সন্তান না আসায় ধৈর্যের বাধ ভেঙে যায় আইভানের। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন অ্যানাকে একটি আশ্রমে পাঠিয়ে দেবার। সেখানে মাটির নিচের এক অন্ধকার কুঠুরিতেই বন্দী করে রাখা হয় তাকে। আইভানের মৃত্যুর পরও জীবিত ছিলেন অ্যানা। আশ্রমের কর্তৃপক্ষ তখন তাকে মুক্তি দিতে চাইলেও তিনি আর সেই কুঠুরি ছেড়ে যেতে চান নি। অবশেষে ১৬২৬ সালে আশ্রমের সেই অন্ধকার ঘরেই মারা যান তিনি।

৫ম স্ত্রী. অর্থোডক্স চার্চের নিয়মানুযায়ী আর কোনো বিয়ে করারই অধিকার ছিলো না আইভানের। ওদিকে ১৫৭৩ সালের নভেম্বর মাসে মারিয়া দোল্গরুকায়ার প্রেমে পড়ে যান আইভান। তার শয়নে-স্বপনে-জাগরণে তখন কেবলই মারিয়ার ছবি ভাসতো। তাই প্রেমের ডাকে সাড়া দিতে গোপনে মারিয়ার সাথে বিয়ের কাজটা সেরে ফেলেন তিনি।

গোলমাল বেধে যায় বাসর ঘরে। সেই রাতে স্ত্রীর সতীত্ব নিয়ে আইভানের মনে সন্দেহ দেখা দেয়। ব্যাস, আর যায় কোথায়! সম্রাটের সন্দেহ বলে কথা। রাগে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যান তিনি, আদেশ দেন সম্রাজ্ঞীকে ঘোড়ার লেজের সাথে বাঁধার জন্য। এরপর ঘোড়াগুলোকে আঘাত করলে সেগুলো ছুটতে শুরু করে। মারিয়ার শেষ পরিণতি যে কী হয়েছিলো তা বোধহয় না বললেও চলে।

৬ষ্ট স্ত্রী: একবার আইভান গিয়েছিলেন প্রিন্স পিটার ভাসিলচিকভের সাথে দেখা করতে। সেখানে গিয়েই তার নজর পড়ে পিটারের সপ্তদশী কন্যা অ্যানার দিকে। অ্যানার রুপ-লাবণ্যে আইভানের পাগল হবার দশা হয়। আবারো বিয়ের রঙ উঁকি দিয়ে যায় তার মনে। পরদিন তাই ঘটকের মাধ্যমে সম্বন্ধ চলে যায় অ্যানার বাবার কাছে।

মেয়েকে আইভানের হাতে তুলে দিতে তার মন সায় দিচ্ছিলো না। ওদিকে সম্রাটের পক্ষ থেকে পাঠানো ঘটকদের “না” বলার সাহসটুকুও তার ছিলো না। তাই অ্যানা ভাসিল্‌চিকোভাহন আইভানের নতুন সম্রাজ্ঞী।কিন্তু দু’বছর পর অ্যানাকেও পাঠিয়ে দেয়া হয় এক আশ্রমে। সেখানে বন্দী অবস্থাতেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ধারণা করা হয়, এর পেছনে আইভানের নির্দেশ ছিলো।

৭ম স্ত্রী: ভাসিলিসা মেলেন্তিয়েভা ছিলেন আইভানেরই পরিচিত এক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তির স্ত্রী। লোকটির অসুস্থতার খবর শুনতে পেরে তিনি তাকে দেখতে আসেন। তখনই ভাসিলিসার দিকে নজর পড়ে যায় আইভানের, আবারো জেগে ওঠে তার প্রেমিক সত্ত্বা। স্বামীর মৃত্যুর অল্প কিছুদিন পরই তাই ভাসিলিসাকে দেখা যায় আইভানের প্রাসাদে চলে আসতে।

দুই বছর ধরে সুখেই সংসার করেন তারা। কিন্তু একটি বড় সত্যের কথা জানতেন না আইভান। ভাসিলিসা বিয়ের পর লুকিয়ে লুকিয়ে চুটিয়ে আরেকটি প্রেমও করছিলেন। একদিন শোবার ঘরে এসে স্ত্রীকে তার প্রেমিকার সাথে আবিষ্কার করেন আইভান!

যাহ্‌ বাবা! সব তো শেষ এখানেই। কীসের প্রেম, কীসের স্ত্রী! আবারো পাগলা কুকুরের মতোই ক্ষেপে উঠলেন সম্রাট আইভান। তার সাথে প্রতারণা! তার ভালোবাসা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা! এমনটা কিছুতেই বরদাশত করতে পারলেন না তিনি। সম্রাটের নির্দেশে দুজনকেই বন্দী করা হয়। এরপর একটি গর্ত করে দুজনকেই সেখানে পুঁতে ফেলা হয়। কথিত আছে, ভাসিলিসাকে জীবন্তই মাটি চাপা দেয়া হয়েছিলো।

৮ম স্ত্রী: মারিয়া ফিওদোরভনা নাগোয়া ছিলেন অাইভানের সর্বশেষ সহধর্মিনী  শুরুর দিকে সুন্দরী মারিয়াকে নিয়ে সুখেই দিন কাটছিলো বুড়ো আইভানের। কিন্তু সবসময় স্ত্রীকে মনমরা থাকতে দেখে একসময় তার মনও বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠে নতুন স্ত্রীর প্রতি।

তাই এই স্ত্রীকে শেষ করে কীভাবে আরেকজন সম্রাজ্ঞী ঘরে আনা যায়, সেই ছকও কষতে শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আফসোস, নতুন স্ত্রী ঘরে আনার আগেই আইভানের পরপারের ডাক এসে গিয়েছিলো। ১৫৮৪ সালের ২৮ মার্চ দাবা খেলতে থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। শুধু তাই নয় তার নিষ্টুরতায় র্নিমমভাবে বলি হয়েছে তার নিজের পুত্র আইভান আইভানোভিচ।

এই দরজার কাছে গেলেই মিনিটের মধ্যে মৃত্যু অবধারিত

গ্রিসের এক প্রাচীন নিদর্শন। দর্শনী তো বটেই। তবে তার বেশি কাছে গেলেই বিপদ। মৃত্যুর অন্ধকার টেনে নিয়ে যায় মানুষকে। বহু বছর ধরে তাই এই জায়গার ধারে-কাছে যায় না কেউ। এই দরজার কাছে গেলেই মিনিটের মধ্যে মৃত্যু অবধারিত। অবশেষে সেই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

‘Hades’ Gate’ নামে পরিচিত এই জায়গা। বর্তমানে এটি তুরস্কের ওয়েস্টার্ন ডেনিজিল প্রদেশে অবস্থিত। জানা যায়, এটির ধারে-কাছে যে কোনও মানুষ বা পশু গেলেই তার মৃত্যু হয়। গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এটা নেহাত গল্পকথা নয়। এটাই সত্যি।

সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্বের উপর লেখা একটি জার্নালে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই অঞ্চলে সমানে বিপুল পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে। আজও পর্যন্ত একইভাবেই বেরিয়ে আসছে বিষাক্ত গ্যাস। আর তাই সেখানে গেলেই মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। তবে সূর্য কোনদিকে উঠছে আর হাওয়া কোনদিকে বইছে, সেটার উপর নির্ভর করে কোনদিক থেকে বেরোবে কার্বন-ডাই-অক্সাইড।

রাতে এত বেশি পরিমাণ গ্যাস বেরোয় যে, এক মিনিটের মধ্যে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। প্রাচীন গল্পে শোনা যায়, এখানে অনেক মানুষ, ভেড়া, পাখির মৃত্যু হয়েছে।

জানেন, আনারস আর দুধ একত্রে খেলে আসলে কি হয়

জানেন, আনারস আর দুধ একত্রে খেলে আসলে কি হয়? আনারস একটি ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল। এছাড়া অনেক গুণে গুণান্বিত একটি ফল। তাছাড়া আনারসে রয়েছে ক্যালসিয়াম,পটাশিয়াম ও ফসফরাস। আর দুধকে আমরা সুষম খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করি। তবে আনারস আর দুধ একসঙ্গে খেলে মানুষ বিষক্রিয়া হয়ে মারা যায়-এ রকম একটি ধারণা প্রচলিত আছে।

আসলেই কি এরকম কিছু হয়? আসুন জেনে নেই আসলে কী হয় আনারস আর দুধ একসঙ্গে খেলে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘আনারস ও দুধ একসঙ্গে খেলে বিষক্রিয়া হয়ে কেউ মারা যায় এই ধারণা ভুল। এগুলো এক ধরনের ফুড ট্যাবু বা খাদ্য কুসংস্কার।’

অ্যাপোলো হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী বলেন, ‘আনারস একটি এসিডিক খাবার। আর দুধ হলো অ্যালকালাইন বা ক্ষার। দুধ যদি পাস্তুরিত না হয়, তবে কাঁচা দুধ ও আনারসের সমন্বয়ে শরীরে বিক্রিয়া হতে পারে। দুধের সঙ্গে আনারসের সঠিক সমন্বয় না হলে শারীরিক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য খাবারের বেলাতেও একই বিষয় হতে পারে।’

তামান্না চৌধুরী আরো যোগ করেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ই পাইনা অ্যাপেল কাস্টার্ড, ডেজার্ট, পাইন অ্যাপেল স্মুদি, পাইন অ্যাপেল মিল্ক সেক, পাইন অ্যাপেল সালাদ, পাইন অ্যাপেল ইয়োগার্ট ইত্যাদি খাই। এতে সমস্যা হয় না। কারণ এগুলোর মধ্যে খাদ্যের সঠিক সমন্বয় থাকে এবং নিয়মমাফিক বা সঠিক নিয়মে বানানো হয়।

আর হয়তো এক গ্লাস দুধ খেলেন, পাশাপাশি আনারস খেয়ে নিলেন তাহলে সঠিক খাদ্যের সমন্বয় হয় না। এ ক্ষেত্রে সঠিক সমন্বয় না হওয়ার ফলে পাতলা পায়খানা, বদ হজম, এসিডিটি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। তবে বিষক্রিয়া হয়ে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

তবে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আনারস আর দুধ বিরতি দিয়ে খাওয়াই ভালো। দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিরতি দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। নয়তো অনেক সময় পেটে গিয়ে হজমের সমস্যা হতে পারে। তবে যদি সঠিক নিয়মে খাবার বানানো হয় এবং সঠিক খাদ্যের সমন্বয় থাকে তাহলে কোনো সমস্যা হবে না।

প্রস্রাব চেপে রেখে যে মারাত্মক বিপদ ঢেকে আনছেন

কখনও অফিসের কাজের ব্যস্ততা আবার কখনও রাস্তায় বেরিয়ে পরিষ্কার শৌচালয়ের অভাব। নানা কারণে আপনি হয়তো অনেক সময় প্রস্রাব চেপে রাখেন। কিন্তু জানেন কি, প্রস্রাব চেপে রাখার ফল হতে পারে মারাত্মক। বেশ কয়েকটি ভয়ঙ্কর রোগে আক্রান্ত হতে পারেন আপনি।

ভারতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের সংক্রামক রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেহা গুপ্তাকে উদ্ধৃত করে একটি ভারতীয় হিন্দি দৈনিক জানিয়েছে, প্রস্রাব চেপে রাখার ফলে অন্তত পাঁচটি রোগ মানুষের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

এক নজরে দেখে নিন, প্রস্রাব চেপে রেখে যে মারাত্মক বিপদ ঢেকে আনছেন :-

কিডনি স্টোন- প্রস্রাবে ইউরিয়া এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো টক্সিক পদার্থ থাকে। বেশিক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে এই বিষাক্ত পদার্থগুলি কিডনিতে পৌঁছে কিডনি স্টোনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশিক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে ব্লাডারে জীবাণু জন্মাতে থাকে। যা থেকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন-এর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রস্রাব চেপে রাখার কারণে ব্লাডার ফুলে যেতে পারে। ফলে, প্রস্রাব করার সময়ে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতে পারেন। বেশিক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখলে কিডনির উপরে চাপ পড়ে। এর ফলে কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আব্দুর রাজ্জাক এর জীবনী

আব্দুর রাজ্জাক ১৫ জুন, ১৯৮২ জন্মগ্রহন করেন। তিনি বাংলাদেশের খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট দলের পক্ষে ২০০১-২০০২ মৌসুমে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন। অভিষেক বর্ষেই রাজ্জাক বামহাতি স্পিনার হিসেবে সকলের নজর কাড়েন এবং নিজ দলকে জাতীয় ক্রিকেট শিরোপা পেতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেন। সেখান থেকে বাংলাদেশ-এ দলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়ে ঢাকায় অণুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ে-এ দলের বিপক্ষে ১৭ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট লাভ করেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃপক্ষ রাজ্জাককে ২০০৪ সালের জুলাই মাসে অণুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে হংকংয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটায়। তিনি দলে নিজেকে তার যথোপযুক্ততা নিয়মিতভাবে প্রকাশ ঘটান; কিন্তু ১ম একাদশে স্থায়ীভাবে আসন গড়তে পারেননি। ২০০৬ সালের মে মাসে আব্দুর রাজ্জাক ২০০৫-২০০৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অণুষ্ঠিত ২য় টেস্টে নিজ অভিষেক ঘটান।

অতীতে ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিং করার সময় রাজ্জাক থ্রো বা চাকতি নিক্ষেপের অভিযোগে বেশ কয়েকবার অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এরই রেশ ধরে ২০০৪ সালে অণুষ্ঠিত এশিয়া কাপের খেলায় আইসিসি’র ম্যাচ রেফারি রোশন মহানামা কর্তৃক তিনি পুণরায় অভিযুক্ত হন এবং তাকে বোলিং ভঙ্গীমা পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। পরবর্তীকালে রাজ্জাক বোলিংয়ে ধরন পরিবর্তন করে বৈধভাবে বোলিং করে আস্থা অর্জন করেন। ফলে, আবারো তিনি নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক দলে ফিরে আসলেও তাড়াতাড়ি তার নিজস্ব ছন্দ খুঁজে পাননি। কিন্তু ধীরে ধীরে পুণরায় তিনি ধারাবাহিকভাবে ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করে জাতীয় দলের একজন নিয়মিত সদস্য খেলোয়াড় হয়ে নিজেকে গড়ে তোলেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশী বোলার হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০ উইকেট নেন।

ওয়ানডে ক্রিকেটে সফলতার পর আব্দুর রাজ্জাক নিজ দেশে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া’র বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক ঘটান। বাংলাদেশের পক্ষে তার ১ম টেস্ট অভিষেকে ১৫ রান করেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র ইনিংসে বোলিংয়ের সুযোগ পেলেও কোন উইকেট নিতে সক্ষম হননি রাজ্জাক। স্বভাবতঃই দল পরাজিত হয়। পরের টেস্ট খেলার সুযোগ আসে দীর্ঘ এক বছর পর শ্রীলঙ্কা’র বিপক্ষে। চামারা সিলভাকে কট আউটের মাধ্যমে তার ১ম উইকেট প্রাপ্তির সুযোগ ঘটে। এছাড়াও তিনি গ্রেইম স্মিথের দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্টের উভয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন; তন্মধ্যে একবার অপরাজিত থাকেন।

আব্দুর রাজ্জাক ২০০৮ সালে অণুষ্ঠিত আইপিএল বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে খেলেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দল তাকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয় এবং একটিমাত্র খেলায় অংশগ্রহণ করায়। ঐ দলের পক্ষে বাকী কোন খেলায় অংশগ্রহণ না করলেও রাজ্জাক বিশ্বাস করেন যে, টুর্ণামেন্টের অভিজ্ঞতাই গুরুত্বপূর্ণ বিচার্য বিষয় এবং তার জন্য পথ ও পাথেয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন যে, টেস্ট ম্যাচে বোলিংয়ের বিষয়ে ভারতীয় তথা বিশ্বসেরা স্পিনার অনিল কুম্বলে তাকে বিরাটভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং অনিলের বোলিং অণুসরণ করতে বলেছেন।

রাজ্জাকের অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্যে ১ম ওডিআইয়ে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫২ রানে পরাজিত করে। খেলায় রাজ্জাক ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। বল হাতে রাজ্জাকের ৩৯ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট লাভ করা ছিল বিপক্ষীয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের বিরোধের জেরের ফসল। রাজ্জাক এই সিরিজে বাংলাদেশকে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে সহায়তা করেন। ১৫ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যান অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন।