৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে ছোট্ট একটি আমলে!!

চলার পথে আমরা অনেকেই জেনে না জেনে গুনাহ করে থাকি। কিন্তু আমরা চাইলেই আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে ক্ষমা পার্থনা করে মাফ পেতে পারি।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিউল উম্মি ওয়ালা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা’ জুমার দিন এই দরুদ শরিফখানা পাঠ করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়।

< হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাজের পর ৮০ বার এ দরুদ পড়বে, তার ৮০ বছরের

গোনাহ্ মাফ হবে এবং ৮০ বছর এবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে। প্রশ্ন হয় যে, আল্লাহতায়ালা এ ছোট আমলের জন্য এত বেশি সওয়াব কেন দান করেন?

এর উত্তর হলো, কোনো আমলে সওয়াব কম দেওয়া বা বেশি দেওয়া এটা আল্লাহতায়ালার নিজস্ব ব্যাপার, এখানে কারও আপত্তি করার কিছু নেই।

মৃত্যুর যন্ত্রণা সবার আছে , কেউ বুঝতে পারে আবার কেউ পারেনা , কেন

মৃত্যুর যন্ত্রণা সবার আছে , কেউ বুঝতে পারে আবার কেউ পারেনা , কেন
মৃত্যুর যন্ত্রণা সবার আছে , কেউ বুঝতে পারে আবার কেউ পারেনা , কেন

শবে মেরাজের রজনীতে রাসুল (সাঃ) কে যে সকল ভয়াবহ শাস্তির নিদর্শন দেখানো হয়েছিল

শবে মেরাজের রজনীতে রাসুল (সাঃ) কে যে সকল শাস্তির নিদর্শন দেখানো হয়েছিল
শবে মেরাজের রজনীতে রাসুল (সাঃ) কে যে সকল শাস্তির নিদর্শন দেখানো হয়েছিল
শবে মেরাজের রজনীতে রাসুল (সাঃ) কে যে সকল শাস্তির নিদর্শন দেখানো হয়েছিল

বিভিন্ন দেশে প্রচলিত যৌন সম্পর্ক বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের উদ্ভট আইন

যে দেশে মেয়ের বাসর রাতে- মানুষই পৃথিবীর একমাত্র বিরলতম প্রাণী, যারা কিনা বংশবৃদ্ধির কথা না ভেবে, কেবলমাত্র আনন্দের জন্য লিপ্ত হতে পারে।কিন্তু নানা কারণে রাষ্ট্র ও সমাজ চায় মানুষের শারীরিক স্বাভাবিক আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে। সেই উদ্দেশ্যেই গড়ে ওঠে শারীরিক সম্পর্ক সম্পর্কিত নানা ধরনের আইন। সেইসব আইনের অনেকগুলিই অনেকবেশি উদ্ভট। এখানে রইল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রচলিত তেমনই ৫টি শারীরিক সম্পর্ক সম্পর্কিত আইন।

১. কম্বোডিয়ার কালি-তে একজন নারী কেবলমাত্র তার স্বামীর সঙ্গেই শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারেন এবং স্বামী-স্ত্রীর প্রথম মেয়ের বাসর রাতের সময়ে তাদের শয্যাকক্ষে উপস্থিত থাকেন মেয়েটির মা। তিনি গোটা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। এটাই সেই দেশের আইন।

২. ইংল্যান্ডের লিভারপুলে আঞ্চলিক মাছের দোকানে নারী মাছ বিক্রেতারা ইচ্ছে হলে সম্পূর্ণ টপলেস হয়ে মাছ বিক্রি করতে পারেন। ব্যাপারটি সেখানে বেআইনি বলে মনে করা হয় না।

৩. উরুগুয়েতে কোনও বিবাহিত মহিলা যদি কোনও পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, এবং সেই নারীর স্বামী যদি সেই নারীকে তার প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক আবস্থারত হাতে-নাতে ধরে ফেলতে পারেন তাহলে সেই নারী ও তার প্রেমিককে হত্যা করার আইনী অধিকার সেই স্বামীর রয়েছে।

৪. গু‌য়াম নামের দেশে শারীরিকভাবে কুমারী মেয়েদের বিয়ে করা আইনত নিষিদ্ধ। ফলে এই দেশে কোনও কোনও পুরুষের পেশাই হল কুমারী মেয়েদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে তাদের কৌমার্য হরণ করা।

বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবনী

ইসলামের মহান বানী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য দুনিয়াতে যুগে যুগে যেসকল ওলি আল্লাহর আবির্ভাব ঘটেছে তন্মধ্যে বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) অন্যতম। সেকারণে তাঁকে গাউসুল আজম হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।

জন্ম ও পরিচয়:
বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ২য় রমযান ৪৭০ হিজরী বা ১৯ মার্চ, ১০৭৮ বাগদাদের জিলান শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম আল-সাইয়িদ মহিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির আল-জিলানী আল-হাসানী ওয়াল-হুসানী। তাঁর পিতার নাম আবু সালেহ মুছা জঙ্গী। মাতার নাম সাইয়েদা উম্মুল খায়ের ফাতেমা। তিনি ছিলেন হজরত ইমাম হাসান (রা.) এর বংশধর। বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) এর জন্ম ইরাকের অন্তর্গত জিলান নামক স্থানে হয় বলে তাকে জিলানী বলা হয়। তার উপাধি ছিল আবু মোহাম্মদ মুহিউদ্দীন।

ছোটবেলা:
হযরত আব্দুল কাদির জিলানী(র:) এর বয়স যখন মাত্র ৫ বৎসর তখনই তিনি পিতৃহীন হন। তার লালন-পালন ও পড়াশোনার দায়িত্ব এসে পড়ে মায়ের উপর।মা চরকায় সুতা কেটে জিবীকা নির্বাহ করতে শুরু করেন।মাতা পুত্রকে কখনও কখনও অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়।যেদিন ঘরে কিছু খাবার না থাকতো তখন মা বলতেন,”আজ আমরা আল্লাহপাকের মেহমান।”খুব অল্প বয়সেই হযরত আব্দুল কাদির জিলানী(র:) মকতবে যাওয়া শুরু করেন।বাল্যবয়সেই বিভিন্ন আলৌকিক ঘটনাও ঘটতে শুরু করে।একবার সমবয়সী বালকদের সাথে খেলায় যোগ দেয়ার ইচ্ছা করলে গায়েবী আওয়াজ এলো,”হে বরকতময় সত্তা ,আমারকাছে এসো!”কথা শোনা গেলেও কন্ঠটি কার বা কোথ্থেকে এলো কিছুই তিনি বুঝতে পারলেন না।তাছারা কোন লোকও তিনি সেখানে দেখতে পেলেন না।তাই ভয়ে দৌড়ে তিনি ময়ের কাছে চলে এলেন। এরকম আরো বহুবার হয়েছে।একবার নিদ্রাকাতর অবস্হায় সুখময় নিদ্রা যাচ্ছিলেন।
এমন সময় ঘুমের ঘরে তিনি স্বপ্নে দেখিলেন-একজন উজ্জল জ্যোতিবিশিষ্ট স্বর্গীয় ফিরেশতা তাহার শিয়রের নিকট এসে অত্যন্ত কোমল স্বরে বলিতেছেন- ”হে আল্লাহর মনোনিত আব্দুল কাদির!উঠ,আর নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে থেক না।সুখ শয্যার কোলে ঢলে পড়বার জন্য এই পৃথিবিতে তোমার আগমন ঘটেনি।তোমার কর্তব্য ও দায়িত্ব সুদুরপ্রসারী! মোহগ্রস্হ,নিদ্রাচ্ছন্ন জনগনকে নিদ্রার মোহ থেকে মুক্ত করিবার জন্যই তোমার আগমন ঘটেছে।

শিক্ষা জীবন ও ধর্ম প্রচার:
হযরত আব্দুল কাদির জিলানী(র:) এর বাল্য শিক্ষার হাতে খড়ি হয়েছিল জ্ঞানবান পিতা ও গুনবতী মাতার মাধ্যমে।তিনি স্বীয় পিতা -মাতার মাধ্যমেই প্রথমিক স্তরের শিক্ষনীয় বিষয়গুলি গৃহে বসেই সমাপ্ত করেছিলেন।সর্বপ্রথমেই তিনি পবিত্রকোরান পাঠ করা শিক্ষা করেন ও সম্পুর্ন কোরান হেফজ করেন।গৃহশিক্ষার বাইরেও তিনি জিলান নগরের স্হানীয় মক্তবেও বিদ্যা শিক্ষা করেছিলেন।একবার তিনি মক্তবে উপস্হিত হলে সেখানে বসার জন্য কোন স্হান পাচ্ছিলেন না।এমন সময় অদৃশ্য হতে আওয়াজ হলো,”হে শিক্ষার্থীগন!এই বালকের জন্য তোমরা একটু স্হান করে দাও,যাহাতে তিনি বসতে পারেন।” কেহই আওয়াজের দিকে তেমন লক্ষ্য দিল না।পরিশেষে আবার গম্ভীর কন্ঠে দৈববানী ঘোষিত হলো, ”হে শিক্ষার্থীগন!তোমরা কি দেখিতএ পাইতেছ না যে,আল্লাহর প্রিয় অলী দ্বারে দাড়িয়ে আছে ? উঠ,তাহাকে সসিবার স্হান করে দাও। অযথা বিলম্ব করে সময় অপচয় কর না।”এই অদৃশ্য বানী ছাত্র শিক্ষক সকলের কর্নেই ভীষনভাবে আঘাত করল।সকলেই হতচকিত ও বিস্ময়াপন্ন হয়ে গেল এবং বড় পীর আব্দুল কাদির র: কে বসবার স্হান করে দিল। তার প্রখর ধীশক্তি,প্রত্যুতপন্নমতিত্ব ও আল্লাহ প্রদত্ত প্রজ্ঞার ফলে বাল্যকালেই তিনি অসাধারন পান্ডিত্য অর্জন করতে সক্ষম হন। কোন এক জিলহজ্ব মাসের ৯ম দিবসে শহর ছেরে গ্রামের দিকে গেলেন।সেখানে এক গাভীর গায়ে হাত দিতেই গাভীটি তার দিকে তাকালো এবং বলতে লাগলো,”হে হযরত আব্দুল কাদির !

আল্লাহ পাক তোমাকে কৃষিকাজের জন্য সৃষ্টি করেন নি বা জীবিকা অর্জনের হুকুমও তোমাকে দেননি”গাভীর মুখে কথা শুনতে পেয়ে ভীত সন্ত্রস্হ অবস্হায় বাড়ী ফিরে এলেন এবং মনের উদ্বেগে ঘরের ছাদে উঠে নানা কথা ভাবছিলেন।এমনসময় তিনি দেখতে পেলেন মক্কা শরীফ পর্যন্ত সমস্ত এলাকা তার সামনে উন্মুক্ত । চোখের সামনে তিনি আল্লাহর ঘর দেখতে পেলেন।তিনি আরো দেখতে পেলেন আরাফাতে হাজ্বী সাহেবরা অবস্হান করছেন।অতএব গায়বী ইঙ্গিতের মর্ম বোঝতে চেষ্টা করে তিনি মাকে দ্বীনী উচ্চশিক্ষার জন্য বাগদাদ গমনের ইচ্ছার কথা জানালেন।মা হৃষ্টচিত্তে অনুমতি দিয়ে তার পাথেয় প্রস্তুতিতে লেগে গেলেন।রওনার দিন জামার ভেতরে ৪০টি স্বর্নমুদ্রা সেলাই করে দিয়ে তার মা বললেন,”আল্লাহর নাম নিয়ে রওয়ানা হও।সততা ও বিশ্বস্ততাকে নিজের আদর্শরুপে শক্ত হাতে ধারন করবে।”

ঘটনাক্রমে রাস্তায় ডাকাত পড়লো।এক ডাকাত শিশু আব্দুল কাদিরকে তার কাছে কিছু আছে কিনা জিজ্ঞেস করলো।তিনি অকপটে স্বীকার করলো জামার ভিতর সেলাইকরা ৪০টি স্বর্নমুদ্রার কথা।বালকের সততায় ও সরলতায় ডাকাত মুগ্ধ হয়ে জিজ্ঞেস করলো,এবিপদের মুহুর্তে লোকেরা প্রকাশ্য সম্পদও গোপন ফেলে আর তুমি এ গোপন সম্পদের কথা কেন আমাকে দিলে ? বালক আ্ব্দুল কাদির জবাব দিল,”আমার আম্মা আমাকে সর্বদা সত্য কথা বলার উপদেশ দিয়েছেন।”

আল্লাহওয়ালাদের কথায় এমন প্রভাব থাকে যা পাষান হৃদয়ও একমুহুর্তে গলিত হতে পারে।ডাকাত সর্দার কাদতে শুরু করলো এবং বলল,”এবালকটি তার মায়ের নির্দেশ এত বিপদের মধ্যেও যেভাবে মানল ,আমি কি আমার সৃষ্টিকর্তা প্রভর হুকুম কি এভাবে মানছি ?আমিতো অর্থ-সম্পদের লোভে মহান মহান মালিকের অবাধ্য হয়ে শত শত মানুষের সর্বনাশ করছি”।কাফেলার লুন্ঠিত সম্পদ ফিরিয়ে দিয়ে ডাকাত তার গোটা দলশ তওবা করে ডাকাতি ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলো ।বলা হয় এই ব্যক্তিটিই নাকি পরবর্তীতে আল্লাহর এক ওলীতে পরিনত হয়েছিলেন।আল্লাহুআলম।

উচ্চশিক্সার জন্য তিনি ৪৮৮ হিজরীতে যখন প্রথম তিনি বাগদাদ গমন করেন তখন তার বয়স হয়েছিল আঠার বৎসর।বাগদাত এসে তিনি শায়েখ আবু সাইদ ইবনে মোবারক মাখযুমী হাম্বলী,আবুল ওয়াফা আলী ইবনে আকীল এবং আবু মোহাম্ম ইবনে হোসাইন ইবনে মুহাম্মদ র: এর নিকট ইলমে ফিখ,শায়েখ আবু গালিবমুহাম্মদ ইবনে হাসান বাকিল্লানী,শায়েখ আবু সাইদ ইবনে আব্দুল করীম ও শায়েখ আবুল গানায়েম মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহম্মদ র: প্রমুখের নিকট এলমে হাদীস এবং শায়েখ আবু যাকারিয়া তাবরেয়ী র: নিকট সাহিত্যের উচ্চতর পাঠ লাভ করেন।শায়খ জীলানীর বাহ্যিক ও আধ্যাত্নিক জ্ঞান চর্চার গূরু শায়খ আবু সাঈদ মাখযুমীর মনে তরুন এ শিষ্যের যোগ্যতা ও প্রতিভা সম্পর্কে এতই সুধারনা ও আস্হাশীলতার সৃষ্টি করল যে, নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা তত্তাবধান ও পরিচালনার দায়িত্ব বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)এর নিকট অর্পন করে তিনি নিজে অবসর গ্রহন করেন।

তখন তিনি এ মাদ্রাসার উন্নতি ও উৎকর্ষের কাজে আত্ননিয়োগ করেন।হাদীস ,তাফসির,ফিকহ ও অন্যান্য জ্ঞান বিজ্ঞানের শিক্ষাদান নিজেই শুরু করেন। পাশাপাশি ওয়াজ নসিহত ও তাবলিগের কর্মসুচীও চালু করেন ।অল্পদিনের মধ্যেই এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম চারিদিকে ছরিয়ে পড়লো এবং দেশ বিদেশের বিদ্যার্থীরা এতএ ছুটে আসতে লাগলো।এ পর্যায়ে মাদরাসার নামকরনও শায়খের সাথেই সম্পৃক্ত হয়ে ‘মাদরাসায়ে কাদেরিয়া” হয়ে গেল।

বই
তিনি কাব্য, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল ইত্যাদি বিষয়ের পণ্ডিত ছিলেন। তার রচিত বহু গ্রন্থ রয়েছে। এসব গ্রন্থের মধ্যে ফতহুল গায়ের গুনিয়াতুত তালেবীন, ফতহুর রবযানী, কালীদায়ে গাওসিয়া উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যু
হিজরী ৬৬২ সালের ১১ রবিউসসানী বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) পরলোক গমন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। বড়পীর সাহেবের এই ওফাতের দিন সারা বিশ্বের মুসলমানরা প্রতি বছর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকেন এবং তার মৃত্যুবার্ষিকী ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহাম হিসেবে পরিচিত।
তথ্যসুত্র: উইকিপিডিয়া

মানসিক শান্তির জন্য মহানবী (সা.) এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন
দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে আমাদের বিভিন্ন মানুষের সাথে চলাফেরা করতে হয়। কখনো কখনো টাকা পয়সারও আদান প্রদান করে থাকি। অনেক সময় কিছু একটা নিয়ে ভুল বোঝা বুঝির মাধ্যমে প্রিয় মানুষের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিজেও মানসিক ভাবে শান্তিতে বাস করা কঠিন হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে মহানবী সা. ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

হজরত ইবনে উমর [রা.] বলেন; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল সন্ধ্যায় নিয়মিত এ দোয়াটি পড়তেন। কখনো তা ছাড়তেন না। [আবু দাউদ-৫০৭৬ ইবনে মাজাহ-৩৮৭১]

ফজিলত : হজরত ইবনে উমর [রা.] বলেন; রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল সন্ধ্যায় নিয়মিত এ দোয়াটি পড়তেন। কখনো তা ছাড়তেন না। [আবু দাউদ-৫০৭৬ ইবনে মাজাহ-৩৮৭১]

আরবি দোআ : একবার

اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَ الْعَافِيَةَ فِى الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِى دِينِى وَدُنْيَاىَ وَأَهْلِى وَمَالِى اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِى وَآمِنْ رَوْعَاتِى اللَّهُمَّ احْفَظْنِى مِنْ بَيْنِ يَدَىَّ وَمِنْ خَلْفِى وَعَنْ يَمِينِى وَعَنْ شِمَالِى وَمِنْ فَوْقِى وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِى.

বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতি ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাতি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতি ফি দিনি ওয়া দুনিয়াই ওয়া আহলি ওয়া মালি। আল্লাহুম্মাজতুর আওরাতি ওয়া আমিন রাওয়াতি। আল্লাহুম্মাহ ফিজনি মিনবাইনি ইয়াদাই ওয়া মিন খলফি ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়ান শিমালি ওয়া মিন ফাওকি। আউজু বিআজমাতিকা মিন বুখালি।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং দুনিয়া ও আখেরাতে প্রশান্তি চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই এবং আমার দীন, আমার দুনিয়া, আমার পরিবার পরিজন এবং আমার ধন-সম্পদের ব্যাপারে প্রশান্তি চাই। হে আল্লাহ! আমার সব গোপন দোষগুলোকে তুমি ঢেকে রাখ, এবং আমার সব ভয়ের স্থানে তুমি আমাকে নিরাপত্তা দান কর। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সামনে পেছনে ডানে বামে ও উপরে সর্বদিক দিয়ে রক্ষা কর। হে আল্লাহ! তোমার বড়ত্ব ও মহত্ত্বের উসিলায় আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই, আমি যেনো আমার নিচের দিক দিয়ে মাটিতে দেবে না যাই।

হিজবুত তাওহীদের নামাজ নিয়ে ভন্ডামি দেখুন

হিজবুত তাওহীদের নামাজ নিয়ে ভন্ডামি দেখুন
হিজবুত তওহিদ এর সংগঠক, দাজ্জাল বইয়ের লেখক ও
‘এছলাম-মোছলেম’ মার্কা শব্দের প্রবর্তক ইমাম মাহদীর দাবীদার
বজ্জাত খান থুক্কু বায়জীদ খান পন্নী সহি নামাজ শিক্ষা দিচ্ছেন।
কিছুদিন আগে যে নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবী করেছিল।
সে আরো বেলেছে যে, প্রচলিত মাদ্রাসা ও দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নাকি
পৃথিবীতে শান্তি আনতে পারবে না। মাদ্রাসা শিক্ষকরা নাকি ধর্মব্যবসায়ী ও জংগীবাদ সৃষ্টিকারী।

যে রাতগুলোতে আপনার দোয়া বিফলে যাবে না

আল্লাহ তাআলার দরবারে যে কোনো সময় দোয়া করা যায়। তবে কিছু দিন, কিছু মুহূর্ত এবং কিছু সময় আছে সুনির্ধারিত; যখন আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করে থাকেন। ইতিপূর্বে সে সময় ও ক্ষণগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়াও কিছু রাত এমন রয়েছে যে রাতে দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করে থাকেন। সে রাতগুলোর মধ্যে একটি হলো রজব মাসের প্রথম রাত। এ রজব মাস জুড়েই আল্লাহর নবি বেশি বেশি বরকত এবং রমজান পর্যন্ত হায়াত বৃদ্ধির দোয়া করতেন।

হাদিসে পাকে এসেছে, রজব মাসের প্রথম রাত, বান্দার দোয়া কবুলের রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করতে প্রিয়নবি নসিহত করেছেন। হাদিসে ঘোষিত সুনির্ধারিত রাতগুলো সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘(দুনিয়াতে) পাঁচটি রাত এমন আছে; যে রাতগুলোতে বান্দার দোয়া আল্লাহ তাআলা ফিরিয়ে দেন না। অর্থাৎ বান্দার দোয়া কবুল করেন। রাতগুলো হলো-

(সপ্তাহিক) জুমআর রাত;
রজব মাসের প্রথম রাত;
শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত,
ঈদুল ফিতরের রাত এবং
ঈদুল আজহার রাত।’ (মুসান্নেফে আবদুর রাজ্জাক)

তবে সতর্কতা হলো, এ দিনগুলোতে বিশেষ কোনো নামাজ বা রোজার মতো কোনো আমল বা ইবাদতের নির্দেশ দেয়া হয়নি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতি জুমআর রাত অর্থাৎ প্রত্যেক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে, অর্ধ শাবানের রাতে এবং ২ ঈদের রাতে আল্লাহর দরবারে ধরণা দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

স্ট্রোকের যে লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না

স্ট্রোক খুবই ভয়ানক। সারা পৃথিবীতেই এর কারণে প্রতিবছর কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। স্ট্রোকের কারণে অনেকেরই হয় প্যারালাইসিস, কেউবা আবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যান। প্রাত্যহিক জীবনে প্রায়ই আমরা এমন কিছু লক্ষণের মুখোমুখি হই, যেগুলো আসলে দীর্ঘমেয়াদে স্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ।আসুন রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে স্ট্রোকের পূর্বলক্ষণগুলো কী, জেনে নেই। মতামত দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি নর্থ স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক ও পৃথিবী বিখ্যাত স্ট্রোক স্পেশালিস্ট র‌্যালফ স্যাকো।

১. দেখার সমস্যা যেমন একটা জিনিসকে দুইটা দেখা, চোখে কম দেখা-এই লক্ষণগুলো অনেকে এড়িয়ে যান ক্লান্তি কিংবা বয়সের দোহাই দিয়ে। ডাক্তাররা বলেন, এগুলো স্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
২. ঘুম থেকে হাত অবশ অবশ লাগে। প্রাথমিকভাবে আমরা ভাবি উল্টোভাবে শুয়ে থাকার কারণে এরকম ঘটে থাকে। এটা অনেকাংশে সত্যি। তবে এই হঠাৎ হাত অবশ হয়ে যাওয়া স্ট্রোক হওয়ার ইঙ্গিতও দিতে পারে।
৩. কথা জড়িয়ে গেলে আমরা বলি যে, অনেকগুলো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেয়েছি এজন্য এরকম হচ্ছে। ওষুধের পার্শপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এরকম হতে পারে। যদি তা নয়, তাহলে কথা জড়িয়ে যাওয়া স্ট্রোকের একটি পূর্বলক্ষণ। এর পাশাপাশি মুখটা যদি হালকা বেঁকে যায় তাহলে অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
৪. হঠাৎ করে শরীর কাপতে শুরু করলে, ঠিকভাবে হাঁটতে অসুবিধা হলে অথবা আকস্মাৎ চোখে অন্ধকার দেখা- এগুলো স্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত মদ্যপান করলেও এই সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।
৫. অনেকেই ভুগে থাকেন মাথাব্যথায়। মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে এক কথা। নতুবা হঠাৎ করে হওয়া মাথাব্যথাকে স্ট্রোক হওয়ার পূর্বলক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

যে নারীর একাধিক বিয়ে হয়েছে, জান্নাতে তার স্বামী কে হবে??

একজন জানতে চেয়েছেন, আমরা দেখতে পাই যে, বিভিন্ন সাহাবায়ে একরাম (রা.) এর মৃত্যুর পর অন্যান্য সাহাবীগণ তাদের স্ত্রীদের বিয়ে করেছেন এবং খোদ আমাদের প্রিয়

নবী (সা.) ও আবু তালহা (রা.) এর বিবি আম্মাজান উম্মে সালমা (রা.) কে বিয়ে করেছিলেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কাল হাশরের ময়দানে আম্মাজান উম্মে সালমা কার হুর হিসেবে জান্নাতে যাবেন? আর যদি উত্তর নবিজী হয়ে থাকে তবে হযরত আবু তালহা কাকে পাবেন? এই প্রশ্ন অন্যান্য সকলের ক্ষেত্রেও। যে স্বামী মারা গেলে যদি স্ত্রীর অন্য কারোও সাথে বিয়ে হয় তাহলে বেহেশতে উক্ত স্ত্রী কার হবে? আর যদি ২য় স্বামীর হয় তাহলে প্রথম স্বামী কাকে পাবেন বেহেশতে স্ত্রী হিসেবে?

উত্তর

যে মহিলার একাধিক বিয়ে হয়েছে, জান্নাতে তার স্বামী কে হবে? এ বিষয়ে মতভেদ আছে। দু’টি বক্তব্য পাওয়া যায়। যথা,

১. দুনিয়ার সর্বশেষ স্বামী হবে আখেরাতের স্বামী।

২. স্ত্রী স্বাধীনতা দেয়া হবে। দুই বা একাধিক স্বামীর মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছে গ্রহণ করতে পারে।

আর জান্নাতে যাদের স্ত্রী বা স্বামী থাকবে না, তাদের স্বামীহীন কারো সাথে বিয়ে করার অধিকার দেয়া হবে। অথবা জান্নাতি হুরের মধ্য থেকে কারো সাথে বিয়ে করার এখতিয়ার থাকবে।

ভালো বাবা-মায়ের সন্তান নষ্ট-খারাপ হয় কেন? জেনে নিন ইসলামিক উওর

ভালো বাবা-মায়ের সন্তান নষ্ট-খারাপ হয় কেন? জেনে নিন ইসলামিক উওর
ভালো বাবা-মায়ের সন্তান নষ্ট-খারাপ হয় কেন? জেনে নিন ইসলামিক উওর
ভালো বাবা-মায়ের সন্তান নষ্ট-খারাপ হয় কেন? জেনে নিন ইসলামিক উওর