হযরত মোহাম্মদ (সা:) সম্পর্কে অমুসলিম মনীষীদের কে কি বলেছেন?

◆অমুসলিম মনীষীদের দৃষ্টিতে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ):

১★টমাস কার্লাইলঃ আমি মোহাম্মদকে পছন্দ করি, ভন্ডামি থেকে তাঁর সম্পূর্ণ মুক্তির জন্য।

২★এডওয়ার্ড গিবনঃ মোহাম্মদের ধর্মমত স্বার্থকতার সন্দেহ থেকে মুক্ত আর কুরআন আল্লাহর অদ্বিতীয়ত্বের গৌরবময় সাক্ষ্য। মানবজাতির বিশ্বাসের উপর বিধি-সংগত আধিপত্য বিস্তার করা শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা অনুপ্রাণিত কোন নবীর পক্ষেই সম্ভব।

৩★এইচ জি ওয়েলসঃ মোহাম্মদ কোনো মানুষের ক্ষতি না করেই সেই আকর্ষণীয় বিশ্বাসগুলো মানবজাতিকে হৃদসংগম করেছিলেন। ইসলাম সৃষ্টি করেছিলো এমন এক সমাজ, যা আগের যেকোনো সমাজের তুলনায় নিষ্ঠুরতা ও সামাজিক অত্যাচার থেকে মুক্ত।

৪★মহাত্মা গান্ধীজীঃ অনুচরদের জীবনী থেকে আমি খোদার নবীর জীবনী অধ্যয়নে উপনীত হলাম। আমার বিশ্বাস জন্মালো যে, ঐ সময় যে জিনিসের মাধ্যমে ইসলামের আসন অর্জিত হয়েছিলো, তা তরবারি নয়। তা ছিলো নবীর সরলতা, সম্পূর্ণ অহম বিলাপ, চুক্তির প্রতি সম্মান, বন্ধু ও অনুসারীদের প্রতি গভীর অনুবাস এবং তাঁর নির্ভীকতা।

৫★গুরু নানকঃ মানুষ যে অবরিত অস্থির ও দোজখে যাবে, তার একমাত্র কারন হলো, মোহাম্মদ নবীর প্রতি ভালো কোনো শ্রদ্ধা নেই।

৬★প্রফেসর মন্টগোমারী ওয়াটঃ তিনি সৃষ্টি করেছিলেন সামাজিক নিরাপত্তার এমন এক নতুন পদ্ধতি ও সংগঠন, যার উভয়টিই ছিলো পূর্বেকার ব্যবস্থার উপর বিরাট উন্নতির সাধন।

৭★পন্ডিত জহেরু লাল নেহেরুঃ হযরত মোহাম্মদের প্রচারিত ধর্ম, তাঁর সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা এবং বৈপ্লবিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সাম্য ও ন্যায়নীতি পার্শ্ববর্তী রাজ্যের লোকদের অনুপ্রাণিত করে, তাদের কাছে এ নতুন ব্যবস্থা ছিলো মুক্তির দিশারী।

৮★নেপোলিয়ন বোনাপার্টঃ আমি প্রশংসা করি সৃষ্টিকর্তার এবং আমার শ্রদ্ধা রয়েছে পবিত্র নবী ও পাক কুরআনের প্রতি। কয়েক বছরের মধ্যেই মুসলমানরা অর্ধেক পৃথিবী জয় করেছিলো। মিথ্যা দেবতা বা শয়তানের কাছ থেকে তারা ছিনিয়ে নিয়েছিলো আরো অনেক আত্মাকে। তাই মোহাম্মদ এক মহান ব্যক্তিত্ব।

৯★জর্জ বার্নাডশঃ আমি সবসময়ই মোহাম্মদের ধর্ম সম্পর্কে, তাঁর আশ্চার্য জীবনী শক্তির কারনে উচ্চ শ্রদ্ধা পোষন করে এসেছি।

১০★আর বি সি ব্যাডলঃ মনে হয়, একথা জোর নিয়ে প্রকাশ করা আল্লাহরই ইচ্ছা ছিলো যে, মোহাম্মদ তাঁর শেষ নবী এবং ইসলাম তাঁর দেয়া শেষ ধর্ম।

১১★মেজর আর্থার ক্লাইন লিওনার্সঃ তিনি ছিলেন যেকোনো যুগ বা কালের গভীরতম খাঁটি ও স্থিরকারীদের অন্যতম। তিনি শুধু মহত্‍ নন, মানব ইতিহাসে এ যাবত্‍ যারা আবির্ভূত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে মহত্‍, সবচেয়ে নিখাঁদ। তিনি মহত্‍ শুধু নবী হিসেবেই নন, দেশপ্রেমিক এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও।

১২★জন মিল্টনঃ মোহাম্মদ আবির্ভূত হলেন ষষ্ঠ শতাব্দীতে এবং পৌরলিকতাকে নিশ্চিহ্ন করলেন এশিয়া, আফ্রিকা, মিশরসহ পৃথিবীর অনেকাংশ থেকে, যার সর্বাংশেই আজ পর্যন্ত এক পবিত্র আল্লাহর উপাসনা প্রতিষ্ঠিত।

১৩★ফিলিপ কে হিট্রিঃ মোহাম্মদ তাঁর স্বল্প পরিসর জীবনে নগণ্য জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে এমন এক জাতি ও ধর্মের পত্তন করলেন, যার ভৌগোলিক প্রভাব খ্রিস্টান ও ইহুদিদের অতিক্রম করে গেলো। আজো মানবজাতির এক বিরাট অংশ সেই ধর্মের অনুসারী।

১৪★প্রফেসর ল্যামারটিনঃ দার্শনিক, সুবক্তা, স্বর্গীয় দূত, আইনবেত্তা, যোদ্ধা, আদর্শ বিজেতা, মানবিক রীতি-নীতির প্রবক্তা, বিশটি আঞ্চলিক প্রশাসন ও একটি আধ্যাত্মিক সামাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, এই ছিলেন মোহাম্মদ। মানুষের মহত্ত্বের পরিমাপ করা সম্ভব এমন সব মানদন্ডের বিচারেই আমরা যথার্থ এই প্রশ্ন করতে পারি, মোহাম্মদের চাইতে মহত্‍ কোনো ব্যক্তি আছে কি?

১৫★ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারঃ অনেক জাতির পৌত্তলিকতা ধ্বংস করার জন্য মহান প্রভুর স্বর্গীয় আয়োজনের অনুগ্রহে উত্থিত হয়েছিলো মোহাম্মদের ধর্ম।

১৬★মেজর জেনারেল ফার্লঙঃ আমাদের অবশ্যই একথা স্বীকার করতে হবে যে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম শাসক ও ইতিহাস স্রষ্টাদের তালিকায় এই নবীর স্থান উর্ধ্বে।

১৭★বার্ট্রাড রাসেলঃ শুধুমাত্র পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে আমাদের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ বলেই আমরা ৬৯৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে অন্ধকার যুগ বলে আখ্যায়িত করি। অথচ এই সময়েই ভারতীয় উপমহাদেশ হতে স্পেন পর্যন্ত বিশাল ভূভাগে গৌরবোজ্জ্বল ইসলামী সভ্যতার বিকাশ ঘটে।

১৮★গ্যেটেঃ এটাই যদি ইসলাম হয়, তাহলে আমরা সকলেই কি ইসলামের অন্তর্ভূক্ত নই?

১৯★জন অস্টিনঃ এক বছরের কিছু বেশি সময় হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) মদীনায় শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন, যা সমগ্র পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছিলো মহা আলোড়ন।

২০★টর আঁদ্রোঃ আমরা যদি হযরত মোহাম্মদের প্রতি সুবিচার করি, তাহলে একথা আমাদের জোর দিয়ে বলতে হবে যে, আমরা খ্রিস্টানরা সজ্ঞানভাবে বা অবচেতনভাবে স্বীকার করি, বাইবেলের স্বর্গীয় বাণীতে আমরা যে অদ্বিতীয় ও সুউচ্চ চরিত্রের দর্শন পাই, মোহাম্মদ সেই চরিত্র।

২১★এনি বেসান্তঃ আরবের নবী মোহাম্মদের জীবন-চরিত্র যিনি অধ্যয়ন করবেন, আর যাই করুন তিনি অবশ্যই সেই নবীকে ভালোবেসে ফেলবেন। মহান স্রষ্টার এ বার্তাবাহী জানতেন কিভাবে জীবনযাপন করতে হয় এবং কিভাবে তা মানুষকে শিক্ষা দিতে হয়। আমি যা বলছি, অনেকেই হয়তো তা জানেন। তবুও যখনই তাঁকে নিয়ে আলোচনা করি, তখনই আরবের সেই শক্তিমান শিক্ষকের প্রতি নতুন করে আবার শ্রদ্ধাবোধ ও অনুরক্তির সৃষ্টি হয়।

২২★এস সি বুকেটঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর সামাজিক ও রাজনৈতিক আদর্শ ছিলো বিলীয়মান বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য থেকে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন, ব্যাপক, প্রাণ-প্রদীপত্ব ও উদ্যমশীল। তিনি খুবই সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন, কিন্তু তাই বলে তিনি কখনো সন্যাসী ছিলেন না।

২৩★আর ভি সি দয়ালঃ মোহাম্মদ (সাঃ) ধর্মের ইতিহাসে অদ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আছেন। কারন তিনি কোনো সন্যাসী বা দেবতা ছিলেন না, বরং অমায়িক চরিত্রের কারনে সকলের উপর তাঁর ছিলো বিস্ময়কর প্রভাব।

২৪★এন এন ব্রেঃ হজ্জ্ব অনুষ্ঠানের দ্বারা মোহাম্মদ যা করেছেন, তা নিছক এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনেক উর্ধ্বে। হজ্জ্বের মতো মহা সম্মেলন বিশ্বের সকল প্রান্তের মুসলমানদের ধ্যান-ধারণা ও আদান-প্রদানের যে স্থায়ী ব্যবস্থা করেছে, তার কাছে আজকের ইউরোপের সুসংবদ্ধ ও সুশৃংখল প্রচার ব্যবস্থা প্রায় মূল্যহীন।

২৫★লা ঝোঁকে ডি বোর্লেভিলাঃ মোহাম্মদ যে ধর্মীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, তা তাঁর সাথীদের মন-মেজাজ ও দেশের প্রচলিত রীতি-নীতির ক্ষেত্রে শুধু উপযুক্ত ছিলো না, বরং তা ছিলো এসবেরও অনেক উর্ধ্বে। মাত্র ৪০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ তাঁর ধর্মে আশ্রয় গ্রহণ করলো। সুতরাং এটা এমন একটা মতাদর্শ, যার কথা শুনতে হয় এবং যা স্বাভাবিকভাবেই হৃদয়ে প্রবেশ করে থাকে।

২৬★বিশপ বয়ড কার্পেন্টারঃ ভয় ও অজ্ঞানতার কুয়াশার মধ্য দিয়ে অনেকেই মোহাম্মদকে অবলোকন করেছেন এবং তাঁদের কাছে তিনি এমন ভয়ংকর যে, যার সম্পর্কে যেকোনো মন্দ কথাই উচ্চারণ করা যায়। কিন্তু এখন সেই সন্দেহের মেঘ দূরীভূত হয়েছে, ইসলামের মহান প্রবর্তককে এখন আমরা পরিষ্কার আলোকে অবলোকন করতে পারছি।

২৭★জন ডেভেনপোর্টঃ ইসলামের প্রথম অনুসারীরা ছিলেন মোহাম্মদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নিকট আত্মীয়। নবীর সত্যতার এটা একটা শক্তিশালী প্রমাণ। কারন, তাঁরা ব্যক্তি মোহাম্মদ ও নবী মোহাম্মদকে ঘনিষ্ঠভাবে জানতেন। নবুয়তেরও ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে, তাঁদের দৃষ্টি এড়াতো না।

২৮★এইচ এ আর গিবনঃ আজ এটা এক বিশ্বজনীন সত্য যে, মোহাম্মদ নারীদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেন।

২৯★মরিস গডফ্রেঃ মোহাম্মদ একজন রাসূল ছিলেন, এটা যেকোনো নিরপেক্ষ মানুষের কাছেও সুস্পষ্ট। তত্‍কালীন সময়ে তাঁকে ঘিরে মুসলমানদের যে সভা-সমাজ গড়ে উঠেছিলো, মুসলমানরা তাঁর আইন পালন করে সন্তুষ্ট ছিলো।

৩০★আর্থার গিলম্যানঃ মক্কা বিজয়কালে মক্কাবাসীদের অতীত দুর্ব্যবহার তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজিত করা উচিত ছিলো, কিন্তু তিনি তাঁর সেনাবাহিনীকে সকল রক্তপাত থেকে বিরত রাখেন। মাত্র ১০জন ব্যক্তিকে তাঁদের অতীতের জঘন্য অপরাধের জন্য দন্ড প্রদান করা হয়, এর মধ্যে ৪জন মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়। অন্যান্য বিজেতাদের তুলনায় এটা এক মহত্‍ দৃষ্টান্ত। ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেম আধিকার কালে খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা ৭০০০০ মুসলিম নারী, শিশু ও অসহায়দের নির্মমভাবে হত্যা করে।

৩১★স্যার উইলিয়াম ম্যুরঃ হিজরীর ১৩ বছর আগে মক্কা প্রাণহীন অবস্থায় অবনত হয়ে পড়েছিলো। এই ১৩টি বছর মোহাম্মদ (সাঃ) সেখানে এনেছেন আমূল পরিবর্তন।

৩২★এম এন রায়ঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর ধর্মের দারুন বিস্তার মানবজাতির ইতিহাসে স্থাপন করেছে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর এক অধ্যায়। নিজের প্রতিষ্ঠার জন্য সব ধর্ম প্রচারকই অদ্ভূত কোনো কান্ড কিংবা অলৌকিক কোনো ঘটনার সাহায্য গ্রহণ করে থাকেন। সেই দিক দিয়ে মোহাম্মদ (সাঃ) তাঁর পূর্বের ও পরের যেকোনো মনীষী অপেক্ষায় শ্রেষ্ঠ বলে পরিগণিত হবার যোগ্য। জগতে যত অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে, ইসলামের প্রসার তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।

৩৩★মিসেস এনি বেসান্তঃ কত অসম্পূর্ণ সেই সব লোক, যারা নবী মোহাম্মদ (সাঃ)-কে আক্রমণ করে। অনেকেই তাঁর জীবন ইতিহাস জানে না। কত সহজ, কত বীরত্বব্যঞ্জক, পরিশেষে কত মহত্‍, ঐতিহাসিক মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।

৩৪★স্যার পি সি রাম স্বামী আয়ারঃ ইসলামে নিম্নতম মর্যাদার লোকটিও উচ্চতম মর্যাদার লোকটির সমান। ছিন্ন বস্ত্র পরিহিত ভিখারি লোকটি নামাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে আর সুলতান তাকে অনুসরণ করছেন। মোহাম্মদ (সাঃ)-এর ধর্ম ব্যতীত আর কোনো ধর্মই ব্যবহারিক জীবনে এতটুকু উজ্জ্বল হয়ে উঠেনি। জাতির বাতীক, হীনতাবোধের বাতীক, সাদা-বাদামী-কালোর বাতীক থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমি তত্ত্বের আশ্রয় নিতে চাই না। খেদমত চাই ইসলামেই, শুধু এমন কোনো বাতীক নেই।

৩৫★প্রফেসর সাধু টি এল বাম্বনীঃ দুনিয়ার অন্যতম মহত্ত্ব বীর হিসেবে মোহাম্মদ (সাঃ)-কে আমি অভিবাদন জানাই। মোহাম্মদ (সাঃ) এক বিশ্ব শক্তি, মানবজাতির উন্নয়নে এক মহানুভব শক্তি। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেছিলো কর্ডোভার বৃহত্‍ বিশ্ববিদ্যালয়, যা সুদূর ইউরোপের বিভিন্ন অংশের শিক্ষার্থীকে আকর্ষণ করত, সেই সব শিক্ষার্থীদেরই একজন যথাসময়ে রোমের পোপ হয়েছিলেন।

৩৬★এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটনিকার সুবিজ্ঞ লেখকঃ পৃথিবীর সকল ধর্ম নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য লাভ করেছেন হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)।

৩৭★ড্রেপারঃ হযরত ছিলেন সেই মানুষ, যিনি মানবসমাজের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছেন।

৩৮★গিবনঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মাধ্যমে ইসলামের অভ্যুত্থান পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি করেছিলো এক বিরাট বিপ্লব, মনুষ্য সমাজে যার প্রভাব হয়েছিলো স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী।

৩৯★জোসেফ হেলঃ অতি অল্প সময়ের মধ্যে যিনি আরবের অমানুষগুলোকে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, শৌর্যে-বীর্যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করেছিলেন, তিনি মোহাম্মদ (সাঃ)।

৪০★জন ড্যাভেন পোর্টঃ এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, সমস্ত আইন প্রণয়নকারী ও বিজয়ীদের মধ্যে একজনও এমন নেই যে, যার জীবনী মোহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন চরিত্র থেকে অধিক বিস্তৃত ও সত্য। খেজুর আর পানি ছিলো তাঁর চিরাচরিত খাদ্য এবং দুধ ও মধু ছিলো তাঁর বিলাস বস্তু। সফরে বের হতেন যখন, তখন সামান্য খাদ্যের গ্রাস তিনি মুখে তুলতেন পরিচারকের সঙ্গে ভাগ করে।

৪১★লর্ড হেডলীঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর ধর্মে আছে ঘোঁড়ামী থেকে স্বস্তি ও মুক্তি এবং এতে নেই কোনো অসহিষ্ণুতা। আমার মতে, তা হচ্ছে কৃতজ্ঞতা, বিশ্বাস ও প্রেমের ধর্ম, শান্তির ধর্ম।

৪২★টলস্টয়ঃ আমি মোহাম্মদ (সাঃ) থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর আবির্ভাবের পূর্বে পৃথিবী ভ্রান্তির আধাঁরে নিমজ্জিত ছিলো। তিনি সেই আধাঁরে আলো হয়ে জ্বলে উঠেছিলেন। আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য যে, মোহাম্মদ (সাঃ)-এর তাবলীগ ও হেদায়াত যথার্থ ছিলো। রাশিয়ার এই প্রখ্যাত ঔপন্যাসিকের মৃত্যুর পর পকেটে পাওয়া গিয়েছিলো প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মহান বাণীসমূহের অনুবাদ ‘সেইংস অব মোহাম্মদ’। এই বইখানির সংকলক স্যার আবদুল্লাহ্ সোহরাওয়ার্দী।

৪৩★ডি এস মারাগালিয়থঃ বিকৃত ও ঘৃণ্য লেখক মারাগালিয়থ আত্মতৃপ্তি লাভ করেছে এই বলে যে, মোহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনী লেখকদের সুদীর্ঘ ফিরিস্তি শেষ হওয়া অসম্ভব। ঐসব লেখকদের নামের পাশে নিজের নাম সংযোজিত করা একটি বিরাট সম্মানজনক কাজ।

৪৪★ক্যাডফ্রে হেগেলঃ যীশুকে যখন শুলে চড়ানো হলো, তখন তাঁর অনুসারীরা পালিয়ে গেলো। তাঁদের ধর্ম নেশা ছুটে যায়, নিজেদের মাননীয় নেতাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে পলায়ন করলো। পক্ষান্তরে মোহাম্মদ (সাঃ)-এর অনুগামীরা তাদের উত্‍পীড়িত রাসূল (সাঃ)-এর চতুর্দিকে সমবেত হয়ে তাঁর হেফাজতের জন্য নিজেদের সর্বস্ব বিপদের মুখে নিক্ষেপ করে তাঁকে দুশমনের উপর জয়ী করেছিলো।

৪৫★হোমারটিনঃ দার্শনিক, বাগ্মী, ধর্ম প্রবর্তক, আইন প্রণেতা, সেনানায়ক, মতবাদ বিজয়ী, যুক্তিসঙ্গত ধর্ম মতের সংস্থাপক, মূর্তিবিহীন ধর্মমতের প্রবর্তক, ২০টি পার্থিব সাম্রাজ্য এবং ১টি ধর্ম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, এই ছিলেন মোহাম্মদ (সাঃ)। মানুষের মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব যাচাই করার জন্য যতগুলো মাপকাঠি রয়েছে, সেগুলো দিয়েও যাচাই করলে তাঁর চাইতে শ্রেষ্ঠ মানুষ আর আছে কি?

৪৬★মেজর এ জি লিয়নার্ডঃ পৃথিবীতে বাস করে যদি কোনো মানুষ আল্লাহকে দেখে থাকেন, বুঝে থাকেন, যদি কোনো মানুষ ভালো ও মহান উদ্দেশ্য নিয়ে স্রষ্টা ও সৃষ্টির সেবায় জীবন উত্‍সর্গ করে থাকেন, তাহলে এটা নিশ্চিত যে, আরবের নবী মোহাম্মদ (সাঃ)-ই সেই ব্যক্তি। তিনি গঠন করেছেন একটি মহান ব্যক্তিত্ব ও একটি সুবিশাল সাম্রাজ্য। তিনি ছিলেন সত্যের জনক। তিনি স্বয়ং ছিলেন সত্য, তাঁর নিজের কাছে, অনুসরণকারীদের কাছে, পরিচিতদের কাছে, কাফের-বেদুঈনসহ সকল মানুষের কাছে, সর্বোপরি মহান আল্লাহ্ তা’আলার কাছে।

৪৭★আলফ্রেড মার্টিনঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মতাদর্শ আরবের তত্‍কালীন সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন সাধনে যেভাবে সফলতা লাভ করেছিলো, দুনিয়ার আর কোনো ধর্মীয় ইতিহাসে তার তুলনা চলে না।

৪৮★স্মিথ বাসওয়ার্থঃ কুরআনের মধ্যে আবদ্ধ আধ্যাত্মিকতাপূর্ণ একটি সুচিন্তিত মস্তিষ্ক আল্লাহর প্রেমের নেশায় মগ্ন, কিন্তু তার সঙ্গে মানবিক দৌর্বল্যেরও যোগ আছে। এ দৌর্বল্য থেকে মুক্ত হবার দাবি তিনি কখনো করেননি এবং এটি হচ্ছে মোহাম্মদ (সাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব।

৪৯★মাইকেল এইচ হার্টঃ আমি মনে করি জাগতিক এবং ধর্মের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণের প্রভাবই মোহাম্মদ (সাঃ)-কে মানব ইতিহাসে এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থাপন করেছে।

৫০★ডিনিসন রোজঃ তিনি কখনো মিথ্যা বলেননি বা প্রতারণা করেন নি। তিনি ছিলেন সহজ-সরল ও সত্যবাদী।

৫১★আবদুল মুত্তালিবঃ তাঁকে থাকতে দাও, এই ছেলেই বড় হয়ে এ জাতির নেতা হবে।

৫২★জন ডেভেন পোর্টঃ কোনো ধর্মনেতা বা বিজয়ীর জীবনীই বিস্তৃতি ও ঐতিহাসিকতার দিক দিয়ে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনীর সঙ্গে তুলিত হতে পারে না।

৫৩★মুয়িরঃ

সুদীর্ঘ কুড়ি বছর কাল

দিনের পর দিন

যারা করেছে তাঁকে অত্যাচারে

জর্জরিত

অম্লান বদনে তাঁদেরকে

ক্ষমা করার দৃশ্য দেখে

বিরুদ্ধভাবাপন্ন মুয়ির

বিস্ময়ের সঙ্গে বলেছে,

“এমন মহানুভব ক্ষমা

বিশ্ব কোনো দিন আর দেখে নি।”

৫৪★প্রফেসর ভেস্কট রত্নমঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর চরিত্র ছিলো সম্পূর্ণ কলঙ্কহীন এবং কতক ক্ষেত্রে যীশু খৃস্টের চেয়েও উন্নত। মোহাম্মদ (সাঃ) কখনো নিজেকে ভগবানের সমান মনে করেন নি। তাঁর অনুসারীরা কখনো একবারের জন্যও বলে না যে, তিনি শুধু একজন মানুষের বেশি আরো কিছু ছিলেন। তাঁরা কখনো তাঁর উপর ঐশী সম্মান আরোপ করে না। শত্রুর প্রতি তিনি ছিলেন সদয়। আল্লাহর নবী মোহাম্মদ (সাঃ) অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে দুনিয়ায় অধিকতর মঙ্গল করে গেছেন।

৫৫★জন মিল্টনঃ অন্যান্য সকল বিশ্বাসের জরাজীর্ণ অবস্থার ও সৃষ্টিকে স্রষ্টার আসনে স্থাপন করার অভিজ্ঞতা লাভে ইসলাম যদিও যথেষ্ট প্রাচীন, তবুও তার অনুসারীরা কখনো তাদের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার লক্ষ্যকে মানুষের ইন্দ্রিয় ও কল্পনার স্তরে নামিয়ে আনে নি এবং কোনো দৃষ্টিগোচর মূর্তি দ্বারা উপাস্যের জ্ঞানালোকিত ভাবরূপকে কখনো কলঙ্কিত করেনি। তারা ঘোঁড়ামী ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত। আমি বিশ্বাস করি, এক আল্লাহ্ ও আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), এই হলো ইসলামীত্বের সহজ ও অপরিবর্তনীয় ঘোষণা।

৫৬★প্রফেসর এল ডি ভি জিনিয়েনীঃ কুরআন হতে পারেনা একজন উম্মী লোকের রচনা, যিনি তাঁর সমস্ত জীবন কাটিয়েছেন বিদ্যা ও ধর্মীয় লোকদের থেকে অনেক দূরে অসংস্কৃত এক সমাজের মধ্যে, সর্বশক্তিমান এক আল্লাহর সাহায্য না পাওয়া পর্যন্ত যিনি অলৌকিক ঘটনা সম্পাদনে অসামর্থ ছিলেন।

৫৭★গুস্তাভ ওয়েলঃ মোহাম্মদ (সাঃ) তাঁর জাতির সম্মুখে স্থাপন করলেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর চরিত্র ছিলো পবিত্র ও কলঙ্কহীন। তাঁর বাসগৃহ, পোশাক, খাদ্য, সবই ছিলো বিরল সাধারণত্বে বৈশিষ্ট্যময়। সকলের জন্য সব সময়ে তিনি ছিলেন সহজগম্য। অসুস্থদের দেখতে যেতেন তিনি। সকলের জন্য সহানুভূতিতে পূর্ণ থাকত তাঁর মন। তাঁর মন বদান্যতায় ও উদারতায় ছিলো সীমাহীন। সীমাহীন ছিলো মানব সম্প্রদায়ের কল্যাণের জন্য তাঁর উত্‍কন্ঠিত মনোযোগ। সকল অঞ্চল থেকে তাঁর জন্য অসংখ্য উপহার অবিরাম সমর্পিত হওয়া সত্ত্বেও নিজের কাছে রাখতেন খুবই সামান্য এবং সেটাকেও তিনি বিবেচনা করতেন রাষ্ট্রের সম্পত্তি হিসেবে।

৫৮★ষ্টানসীঃ তিনি মোহাম্মদ (সাঃ), কল্পনার অদ্ভূত শক্তিতে হৃদয়ের উচ্চতার অনুভূতির মাধুয্য ও বিশ্বস্ততায় ছিলেন বিশিষ্ট। শিশুদের প্রতি খুবই অনুরাগী ছিলেন তিনি। রাস্তায় দাঁড় করিয়ে তাদের ছোট্ট মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। জীবনে কখনো তিনি কাউকে আঘাত করেন নি। তিনি কোনো দিন কাউকে অভিশাপ দেন নি। তিনি বলতেন, “অভিশাপ দেয়ার জন্য আমি প্রেরিত হই নি, প্রেরিত হয়েছি মানবজাতির কল্যাণরূপে।” অসুস্থদের তিনি দেখতে যেতেন। কোনো শবযানের সম্মুখীন হলে তিনি অনুগমন করতেন। তাঁর খাদেমেরও খানার দাওয়াত গ্রহণ করতেন। তিনি সেলাই করতেন তাঁর নিজের পোশাক। ছাগলের দুগ্ধ দোহন করতেন। নিজের সেবা নিজেই করতেন। সহজভাবে বর্ণনা করতেন হাদীস। অন্য কারো হাত থেকে কখনো নিজের হাত আগে সরাতেন না। অন্য লোকটির ঘুরে দাঁড়ানোর আগে নিজে কখনো ঘুরে দাঁড়াতেন না। ধর্ম ও সাধুতার প্রচারক হিসেবে মোহাম্মদ (সাঃ) যে রকম শ্রেষ্ঠ ছিলেন, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও অনুরূপ শ্রেষ্ঠ ছিলেন।

নামায পড়া শিখতে চাই?

আপনি যদি টোটালি নামাজ পড়া না জানেন তাহলে আপনাকে লিখে দিয়ে নামাজ পড়া শিখানো যাবে না।কারণ নামাজ হচ্ছে একটি ব্যবহারিক শিক্ষা, একজন আপনাকে নিয়ম Continue reading “নামায পড়া শিখতে চাই?”

ডান পায়ের বড় আঙ্গুল কেটে গেছে তাই ব্যান্ডেজ করা , এখন ওজু কিভাবে করবো ?

ব্যান্ডেজ করা জায়গা টি বাদে অজুর অন্যসব প্রয়োজনীয় জায়গা ধৌত করতে হবে । এবং অজুর যাবতীয় কাজ সমাধান করে ব্যান্ডেজ করা জায়গা টি মাসেহ করতে হবে । Continue reading “ডান পায়ের বড় আঙ্গুল কেটে গেছে তাই ব্যান্ডেজ করা , এখন ওজু কিভাবে করবো ?”

বাচ্চা জন্ম দেয়ার কত দিন পর সহবাসের হুকুম?

প্রশ্নঃ যে মহিলার সন্তান প্রসব হয়েছে, তার সাথে কতদিন পর্যন্ত সহবাস নিষেধ? কেহ যদি নিষিদ্ধ সময়ে স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ফেলে, তাহলে তার ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কি?

উত্তরঃ যে মহিলার সন্তান প্রসব হয়েছে তার নেফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা হচ্ছে ৪০ দিন। অতএব, যদি কোন মহিলার এই চল্লিশদিন পর্যন্ত কমবেশি রক্তস্রাব অব্যাহত থাকে, তাহলে তার স্বামী এই চল্লিশদিন পর্যন্ত সহবাস করতে পারবে না। চল্লিশদিন অতিবাহিত হলেই সহবাস করতে পারবে। অবশ্য নেফাসের সর্বনিম্ন কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট নেই। এই জন্য চল্লিশদিনের পূর্বে রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে গোসল করার পর স্ত্রীর সাথে সহবাস করা জায়েজ আছে। যদি কেহ নিষিদ্ধ সময়ে স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয়, তাহলে এজন্য তাকে তওবা ইস্তেগফার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ জাতীয় কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। এক দীনার অথবা অর্ধ দীনার আল্লাহ্‌র রাস্তায় ছদকা করে দেয়া মুস্তাহাব। (ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীঃ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭-৩৯)

মেরাজ সম্পর্কে অবিশ্বাসীদের প্রশ্নের জবাব যেভাবে দিয়েছেন বিশ্বনবি (সাঃ)

আল্লাহ তাআলা রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ২৬ রজব দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৭ রজব তাঁর পবিত্র দিদারে উবর্ধাকাশে নিয়ে যান। একই রাতে মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস। সেখান থেকে সপ্তম আসমানের ওপরে। সেখান থেকে আল্লাহর ইচ্ছা মাফিক আরো অনেক ওপরে নিয়ে একান্ত দিদার করেন।

অথচ তৎকালীন সময়ে শুধু মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস যেতেই সময় লাগত এক মাসেরও অধিক। অবিশ্বাস কাফের সম্প্রদার বিশ্বনবির এ ঘোষণা শুনে হাসি-ঠাট্টা ও বিদ্রোপ শুরু করলো।

একদল হজরত আবু বকরের কাছে জানতে চাইল, কেউ যদি মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস গিয়ে সেখান থেকে সপ্তম আকাশে যেতে চায়; তবে কি তা এক রাতে সম্ভব। হজরত আবু বকর জানতে চাইলেন, কে বলেছে এ কথা? তারা বলল, ‘তোমার নবি-ই তো এ কথা বলছে।

হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের কাছে প্রিয়নবির কথা শোনামাত্র-ই বললেন, আমি বিশ্বাস করি এবং তা সম্ভব। আর এ কারণেই হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘ছিদ্দিক’ উপাধি লাভ করেছিলেন।

হজরত আবু বকরের কাছে পাত্তা না পেয়ে কাফের সম্প্রদায় এবার প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বায়তুল মুকাদ্দাসের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা শুরু করল।

তারা বলল, আপনিতো বায়তুল মুকাদ্দাস গিয়েছেন- প্রিয়নবি বললেন, ‘হ্যাঁ’। তখন তারা বলল, বলুনতো বায়তুল মুকাদ্দাসের কয়টা সিড়ি? কয়টা জানালা, কয়টা দরজা ইত্যাদি প্রশ্নবানে প্রিয়নবিকে জর্জরিত করতে লাগল।

যদিও কেউ কোথাও গেলে সেখানের কয়টা দরজা, কয়টা জানালা, কয়টা সিড়ি এসব গণনা করতে যায় না। তথাপিও প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাফের অবিশ্বাসীদের প্রশ্নে পেরেশান হয়ে গেল। তিনি ভাবলেন, আজ যদি তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে না পারি, তাহলে ওরা আমাকে মিথ্যুক সাব্যস্ত করবে।

হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তখন আমার এত বেশি পেরেশানি হলো যে, ঐ রকম পেরেশানি আমার আর কখনো হয়নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন-

فَجَلَّى اللهُ لِى بَيْتَ الْمَقْدسِ فَطَفِقْتُ اُخْبِرهُمْ عَنْ ايَاتِه وَ اَنَا اَنْظُرُ- مسلم

অর্থাৎ অতঃপর আল্লাহ পাক বায়তুল মুকাদ্দাসকে আমার চোখের সামনে তুলে ধরলেন, আর তারা যা জিজ্ঞাসা করছিল, আমি দেখে দেখে গণনা করে করে তার উত্তর দিয়ে যাচ্ছিল। সুবহানাল্লাহ!

এ রকম জাজ্বল্যমান প্রমাণ দেয়ার পরও অবিশ্বাসী সম্প্রদায় প্রিয়নবির প্রতি ঈমান আনেনি। আল্লাহ তাআলা তাদের ঈমানের মতো নেয়ামতের তাওফিক তাদেরকে দেননি।

সুতরাং বুঝাগেল মেরাজ যেমন তাওহিদ, রেসালাতের সত্যায়নের এক বিশাল দলিল। আবার তা মুসলিম উম্মাহর জন্য সেরা পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়ও বটে। তাছাড়া ঈমানের মতো অসামান্য নেয়ামতও মুমিন বান্দার জন্য সেরাদান।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবির প্রতিটি জিনিসের প্রতি ঈমান রাখার এবং আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সাত শ্রেণির মানুষকে কবরে প্রশ্ন করা হবে না

মহান আল্লাহর অনুগ্রহে কিছু মানুষ এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন যে, তাকে কবরে সওয়াল জওয়াবের সম্মুখীন হতে হবে না। এ বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদের মধ্যে প্রথমে আসবে শহিদদের নাম। রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শহিদদেরকে কবরে প্রশ্ন করা হবে না। কেননা মাথায় তরবারির আঘাত কবরের বিপদ হতে কম নয়। যদি তার অন্তরে আল্লাহর ভয় না থেকে মুনাফেকি থাকতো তাহলে সে তরবারির ভয়ে পালিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু সে এমনটি করেনি। কাজেই প্রমাণিত হলো, সে তার ঈমানের ক্ষেত্রে সত্যিই মুখলিস বা নিষ্ঠাবান ছিল।

কবরের সওয়াল হতে মুক্তিপ্রাপ্ত দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন সীমান্তরক্ষী সৈনিক; যাকে প্রতিনিয়ত শত্রুদলের সঙ্গে সংগ্রাম ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যেতে হয়। এ ব্যক্তির আলোচনা কুরআনে কারিমেও এসেছে, হাদিসে রাসুলের মাঝেও এসেছে।

তৃতীয় ব্যক্তি হলেন যিনি মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, কেননা সহিহ হাদিসের ভাষ্যমতে তিনিও শহিদদের মিছিলের একজন।

চতুর্থ ব্যক্তি হলেন আপাদমস্তক আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর সত্যনিষ্ঠ আস্থা ও বিশ্বাসের অধিকারী সত্যবাদী সিদ্দিক। যাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কোথাও মিথ্যার লেশমাত্র নেই। নবীদের পরই তাঁদের স্থান। ইমাম তিরমিযি ও ইমাম কুরতুবি [রহ.] এভাবে সুস্পষ্ট বর্ণনা করেছেন। উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে অকাট্যভাবে প্রতিভাত হয়, আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী রাসুলও কবরে সওয়াল জওয়াবের সম্মুখীন হবেন না। কেননা তাঁদের স্থান তো সিদ্দিক থেকে কত সহস্র ঊর্ধ্বে।

পঞ্চমজন হলেন অপ্রাপ্ত বয়সে কোনো শিশু মারা গেলে তাকে সওয়ালের সম্মুখীন হতে হবে না। প্রখ্যাত আকাইদবিদ আল্লামা নাসাফি [রহ.] দৃঢ়তার সঙ্গে বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন। ইমাম নববি [রহ.]ও অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইবনে সালাহ [রহ.] বলেন, শিশু মারা গেলে তাকে কালিমায়ে শাহাদাতের তালকিন করার দরকার নেই।

আর পাগল ও বোকা লোকদের কবরে সওয়াল জওয়াব করা হবে কিনা এ বিষয়ে ইমাম ফাকেহানি [রহ.] মৌনতা অবলম্বন করেছেন। তদ্রুপ যে ব্যক্তি দুই নবীর পৃথিবীতে আগমনের মধ্যবর্তী যুগে মারা গেছেন, তাকেও কবরে সওয়াল করা হবে কিনা? এ বিষয়েও কোনো মত প্রকাশ করেননি। রওযা নামক কিতাবে এ বর্ণনা এসেছে, যে ব্যক্তি শরিয়তের দৃষ্টিতে মুকাল্লাফ [যার ওপর শরিয়তের হুকুম-আহকাম বর্তিত হয়] বা তার সমগোত্রীয়, একমাত্র তাকে সওয়াল করা হবে। এছাড়া অন্য কাউকে নয়।

ষষ্ঠ ব্যক্তি হলেন ওই ব্যক্তি যে জুমার দিনে বা রাতে মারা যাবে তাকেও কবরে সওয়াল করা হবে না। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার ফজিলত সম্পর্কিত একটি হাদিসে তা উল্লেখ করেছেন। উক্ত হাদিসটিকে ইমাম তিরমিযি ও ইমাম বাইহাকি [রহ.] হাসান স্তরের হাদিস রূপে অভিহিত করেছেন এবং বিভিন্ন সনদে তার স্বপ্ন শহিদ রেওয়ায়েতও পেশ করেছেন।

কবরের সওয়াল হতে পরিত্রাণপ্রাপ্ত সপ্তম ব্যক্তি হলেন যে প্রতি রাতে আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির প্রত্যাশায় সুরা তাবারাকাল্লাযি তিলাওয়াত করবে। এ সম্পর্কিত আরো কিছু হাদিস রয়েছে; যা সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযি, নাসায়ি এবং ইবনে মাযাহ প্রভৃতি গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে। কোনো বর্ণনায় এ সুরার সঙ্গে সুরা সাজদাকেও সংযুক্ত করা হয়েছে।

মূল: আল্লামা ইদরিস কান্ধলভি [রহ.]

অনুবাদ: মাওলানা মিরাজ রহমান।

নামাযের ভিতর মোবাইল বন্ধ করার বিধানঃ প্রশ্ন ও উত্তর…

প্রশ্নঃ নামাযী ব্যাক্তি যদি নামাজ শুরু করার আগে মোবাইল ভাইব্রেট বা সাইলেন্ট না করে নামাজে দারিয়ে যায়, এমতাবস্থায় যদি নামাযের মধ্যে রিংটোন বাজতে থাকে তাহলে তার কী করণীয়? নামাজ ছেড়ে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করা? না নামাজের মধ্যে আমলে ক্বলীলের সাথে মোবাইলফোন বন্ধ করা? না রিংটোন বাজতে দেওয়া?

উত্তরঃ জরুরী তো এটাই যে, নামাজ শুরু করার আগে মোবাইলফোন বন্ধ করা। এটাকে নিজের অভ্যাস বানিয়ে নেওয়া, তবে যদি কেউ অশতর্কতাবশত বন্ধ না করে নামাযে দাঁড়িয়ে যায় আর এ অবস্থায় রিংটোন বাজতে থাকে তাহলে লাগাতার বাজার কারনে নামাজ তো নষ্ট হবে না ঠিক; কিন্তু লাগাতার বাজার কারনে অন্যদের জন্য বড় কষ্ট হব, সাথে-সাথে নিজের নামাজের খুশু-খুজু নষ্ট হবে। সে ক্ষেত্রে আমলে ক্বলীলের সাথে একহাত দিয়ে মোবাইল পকেটে রেখে বন্ধ করা উচিত। মোবাইলফোন বন্ধ করার জন্য নামাজ ছাড়া ঠিক নয়। (আল বাহ্রুর রাইক, খন্ড-২ পৃঃ ১১)

রমজানে কোন ব্যক্তির রোজা কখনই কবুল হবেনা, নিজে জানুন অন্যকে জানান !

অনেকেই নামাজ আদায় করে না। কিন্তু রমজান মাস আসলে ঠিকই রোজা পালন করে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো যারা নামাজ না পড়ে শুধু রোজা পালন করে, তাদের রোজা কবুল হবে কিন। চলুন বুখারী শরীফ এবং মুসলীম শরীফের আলোকে জেনে নিই। বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:( ْﻦَﻣ ﻓَﻘَﺪْ ﺍﻟْﻌَﺼْﺮِ ﺻَﻼﺓَ ﺗَﺮَﻙَ ﺣَﺒِﻂَ ُﻪُﻠَﻤَﻋ ) “যে ব্যক্তি আসরের নামাজ ত্যাগ করে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়।” [ বুখারী –৫২০ ] “তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়” এর অর্থ হল: তা বাতিল হয়ে যায় এবং তা তার কোনো কাজে আসবে না। এ হাদিস প্রমাণ করে যে, বেনামাজির কোনো আমল আল্লাহ কবুল করেন না এবং বেনামাজি তার আমল দ্বারা কোন ভাবে উপকৃত হবে না। তার কোনো আমল আল্লাহর কাছে উত্তোলন করা হবে না। ইবনুল কায়্যিম তাঁর ‘আস-স্বালাত’ নামক গ্রন্থের ৬৫ পৃষ্ঠায় এ হাদিসের মর্মার্থ আলোচনা করতে গিয়ে বলেন– বেনামাজি ব্যক্তি দুই ধরণের- (১) পুরোপুরিভাবে ত্যাগ করা। কোন নামাজই না-পড়া। এ ব্যক্তির সমস্ত আমল বিফলে যাবে। (২) বিশেষ কোন দিন বিশেষ কোন নামাজ ত্যাগ করা। এক্ষেত্রে তার বিশেষ দিনের আমল বিফলে যাবে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে সালাত ত্যাগ করলে তার সার্বিক আমল বিফলে যাবে। আর বিশেষ নামাজ ত্যাগ করলে বিশেষ আমল বিফলে যাবে।” । “ফাতাওয়াস সিয়াম” (পৃ-৮৭) গ্রন্থে এসেছে শাইখ ইবনে উছাইমীনকে বেনামাযীর রোজা রাখার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো তিনি উত্তরে বলেন: “বেনামাযীর রোজা শুদ্ধ নয় এবং তা কবুলযোগ্য নয়। কারণ নামায ত্যাগকারী কাফের, মুরতাদ।”এর সপক্ষে দলিল হচ্ছে- আল্লাহ্ তাআলার বাণী: [ ْﻥِﺈَﻓ ﺗَﺎﺑُﻮﺍ ﺓﻼَّﺼﻟﺍ ﻭَﺃَﻗَﺎﻣُﻮﺍ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﻭَﺁﺗَﻮُﺍ ﻢُﻜُﻧﺍَﻮْﺧِﺈَﻓ
ﺍﻟﺪِّﻳﻦِ ﻓِﻲ][: 11 ﺍﻟﺘﻮﺑﺔ ] “আর যদি তারা তওবা করে, সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয় তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই।” [ সূরা তওবা: ১১] নবী ﷺ এর বাণী: ( َﻦْﻴَﺑ ﺍﻟﺸِّﺮْﻙِ ﻭَﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ ﺍﻟﺼَّﻼﺓِ ﺗَﺮْﻙُ ِﺮْﻔُﻜْﻟﺍَﻭ)ﻣﺴﻠﻢ
ﺭﻭﺍﻩ 82 )

“কোন ব্যক্তির মাঝে এবং শির্ক ও কুফরের মাঝে সংযোগ হচ্ছে সালাত বর্জন।” [ সহিহ মুসলিম ৮২] এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণী –( ُﺪْﻬَﻌْﻟﺍ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺑَﻴْﻨَﻨَﺎ ﻓَﻤَﻦْ ﺍﻟﺼَّﻼﺓُ ْﻢُﻬَﻨْﻴَﺑَﻭ ﻛَﻔَﺮَ ﻓَﻘَﺪْ ﺗَﺮَﻛَﻬَﺎ
)(ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ﺭﻭﺍﻩ( 2621 )ﺻﺤﺤﻪ . ﺻﺤﻴﺢﻓﻲ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ )
“আমাদের ও তাদের মধ্যে চুক্তি হলো নামাযের। সুতরাং যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।” [জামে তিরমিযী (২৬২১), আলবানী ‘সহীহ আত-তিরমিযী’ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলে চিহ্নিত করেছেন] এই মতের পক্ষে সাহাবায়ে কেরামের ‘ইজমা’ সংঘটিত না হলেও সর্বস্তরের সাহাবীগণ এই অভিমত পোষণ করতেন। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী আব্দুল্লাহ ইবনে শাক্বিক রাহিমাহুমুল্লাহ বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণ নামায ছাড়া অন্য কোন আমল ত্যাগ করাকে কুফরি মনে করতেন না।” পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি রোজা রাখে; কিন্তু নামায না পড়ে তবে তার রোজা প্রত্যাখ্যাত, গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা কেয়ামতের দিন আল্লাহ্র কাছে কোন উপকারে আসবে না। আমরা এমন ব্যক্তিকে বলবো: আগে নামায ধরুন, তারপর রোজা রাখুন। আপনি যদি নামায না পড়েন, কিন্তু রোজা রাখেন তবে আপনার রোজা প্রত্যাখ্যাত হবে; কারণ কাফেরের কোন ইবাদত কবুল হয় না।

ইসলাম ধর্মে শুকরের মাংস নিষিদ্ধ জানেন কি ?? জেনে নিন কারণ !!

ইসলামে ধর্মে শুকরের মাংস – ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের অনেকের কাছেই প্রিয় শুকরের মাংস। কিন্তু মুসলমানরা এ মাংস খান না। অনেকেই এটা নিয়ে তিরস্কার করেন মুসলিমদের। কিন্তু শুকরের মাংস কেন হারাম করা হয়েছে সেটা জানলে সবাই বলবে এটা নিষিদ্ধ হওয়াই উচিত। আসুন জেনে নেই কেন শুকরের মাংস নিষিদ্ধ হলো ইসলামে।

কুরআনে নিষিদ্ধতা
শুকরের মাংস খাওয়া নিষেধ অন্তত চারটি স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে ২:১৭৩, ৫:৩, ৬:১৪৫, এবং ১৬:১১৫।

সুরা বাকারায় বর্ণিত হয়েছে, ‘নিষিদ্ধ করা হলো তোমাদের জন্য (খাদ্য হিসেবে) মৃত জন্তুর মাংস, প্রবাহিত রক্ত, শুকরের মাংস এবং সেসব জীব-জন্তু যা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে উৎসর্গ করা হয়।’

শুকর মাংস মারাত্মক রোগের কারণঃ
অন্যান্য অমুসলিম ও নাস্তিকরা হয়তো উপযুক্ত কারণ ও বিজ্ঞানের যুক্তি প্রমাণে মেনে নিতে পারে- শুকরের মাংস ভক্ষণ কমপক্ষে সত্তরটি রোগের উদ্ভব ঘটাতে পারে। প্রথমত, আক্রান্ত হতে পারে বিভিন্ন প্রকার ক্রিমির দ্বারা। যেমন বৃত্তাকার ক্রিমি, ক্ষুদ্র কাঁটাযুক্ত ক্রিমি এবং বক্র ক্রিমি। এর মধ্যে সবচাইতে ভয়ঙ্কর ও মারাত্মক হলো ‘টাইনিয়া সোলিয়াম’। সাধারণভাবে যেটাকে ফিতা ক্রিমি’ বলা হয়। এটা পেটের মধ্যে বেড়ে ওঠে এবং অনেক লম্বা হয়। এর ডিম রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে এবং দেহের প্রায় সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গে ঢুকে পড়তে পারে, যদি এটা মস্তিস্কে ঢোকে, তাহলে কারণ ঘটাতে পারে স্মৃতি ভ্রষ্ট হয়ে যাবার। হৃদ-যন্ত্রের মধ্যে ঢুকলে বন্ধ করে দিতে পারে হৃদযন্ত্রক্রিয়া। চোখে ঢুকলে অন্ধত্বের কারণ হয়, কলিজায় ঢুকলে সেখানে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে অর্থাৎ এটা শরীরের যে কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

এরপরও আছে আরো ভয়ঙ্কর ‘ত্রীচুরা টিচুরাসীস্থ।’ এ সম্পর্কে একটা সাধারণ ধারণা হলো ভালো করে রান্না করলে এর ডিম্ব মারা যায়। এর ওপরে আমেরিকায় গবেষণা চালানো হয়েছে। ফলাফল, ভালো করে রান্না করার পরও প্রতি ২৪ জনের ২২ জন এই ‘ত্রীচুরাসীস্থ’ দ্বারা আক্রান্ত। প্রমাণ হলো সাধারণ রান্নায় এ ডিম্ব ধ্বংস হয় না।

এতে চর্বি উৎপাদনের উপাদান প্রচুরঃ
শুকরের মাংসে পেশী তৈরির উপাদান অত্যন্ত নগণ্য পরিমাণ। পক্ষান্তরে চর্বি উৎপাদনের উপাদান প্রচুর। এ জাতীয় চর্বি বেশিরভাগ রক্ত নালীতে জমা হয়, যা কারণ ঘটায় হাইপার টেনশান এবং হার্ট এটাকের। অবাক হওয়ার কিছু নেই যে ৫০ ভাগ আমেরিকান হাইপার টেনশানের রুগী।

শুকর নোংরা ও পঙ্কিলতম প্রাণীঃ
এ প্রাণীটি বসবাস করতে সাচ্ছন্দ বোধ করে নিজেদের বিষ্ঠা, মানুষের মল ও ময়লাপূর্ণ জায়গায়। আল্লাহ তাআলা সমাজবদ্ধ সৃষ্টিকূলের ধাঙর, মেথর বা ময়লা পরিষ্কারক হিসাবেই বোধকরি এ প্রাণিটি সৃষ্টি করেছেন। আজ থেকে পঞ্চাশ কি ষাট বছর আগেও যখন সেনিটারি পায়খানা আবিষ্কৃত হয়নি তখন যে কোনো শহরের পায়খানার ধরণ ছিল, পেছন থেকে মেথর এসে তা ট্যাঙ্কি ভরে নিয়ে যেত এবং শহরের উপকণ্ঠে কোথাও ফেলতো। যা ছিল শুকরদের পরম আনন্দ নিবাস এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলোই সব বিষ্ঠার রুপান্তর ঘটতো।

অনেকেই হয়তো এখন বিতর্কে নেমে পড়বেন উন্নত বিশ্বে এখন শুকরের পরিচ্ছন্ন খামার করা হয়েছে যেখানে ওগুলো লালিত পালিত হয়। তাদের এই অনেক উন্নত, স্বাস্থ্যকর খামারেও ওগুলো নোংরা। অত্যন্ত আনন্দের সাথেই ওরা ওদের নিজেদের ও সঙ্গিদের বিষ্ঠা নিয়ে ওদের চোখ নাক দিয়ে নাড়া চড়া করে আর উৎসবের খাদ্য হিসেবেই খায়।

নির্লজ্জ পশুঃ
ভু-পৃষ্ঠের ওপরে শুকর অশ্লীলতায় নির্লজ্জতম প্রাণী। একমাত্র পশু যেটা তার স্ত্রী-সঙ্গীর সাথে সংগম করার জন্য অন্যান্য পুরুষ-সঙ্গীদের ডেকে নেয়। আমেরিকার ও ইউরোপের অধিকাংস মানুষের প্রিয় খাদ্য শুকরের মাংস। খাদ্যভ্যাস আচরণে প্রকাশ পায়, বিজ্ঞানের এ সূত্রের জীবন্ত নমুনা ওরাই। ওদের প্রিয় সংস্কৃতি ডান্স পার্টিগুলোতে নেচে নেচে উত্তেজনায় উন্মত্ত হয় তখন একে অপরের সাথে বউ বদল করে। অনেকেই আবার জীবন্ত নীল ছবির স্বাদ দিতে জন্য স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে বন্ধু-বান্ধব ডেকে নেয়। এসব প্রমাণ করে শুকরের মাংস মানুষকে নির্লজ্জতার দিকে ধাবিত করে।

জানেন কি, মহানবী (সা.) এর জানাজার ইমাম কে ছিলেন?

ইবনে মাজাহ শরিফে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, মঙ্গলবার সাহাবায়ে কেরাম রাসুলে কারিম সা.-এর গোসল ও কাফনের কাজ শেষ করেন। নবীজির দেহ মোবারক রওজার পাশে রাখেন। সাহাবারা দল দলে নবীজির কাছে আসতে থাকেন। কারও ইমামতিতে নয়; সবাই একা একা নামাজ ও দুরুদ শেষে বেরিয়ে যান।

(ইবনে মাজাহ) অন্য কিতাবে আছে, রাসুল সা.-এর ইন্তেকাল এর আগে সাহাবিরা নবীজির দরবারে আসলেন। সাহাবাদের দেখে নবীজির চোখে বেদনার জল। নবীজি বললেন, আমি তোমাদের আল্লাহর কাছে সোপর্দ করছি, আল্লাহ তোমাদের সঙ্গী হবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসুল সা.!

আপনার যাওয়ার সময় খুব নিকটে চলে এসেছে, আপনার ইন্তেকালের পর আপনাকে কে গোসল দিবে? রাসুল সা. বললেন, আমার আহলে বাইত মানে আমার পরিবারের সদস্যরা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আবার জানতে চাইলেন, কে আপনাকে কাফন পরাবে? রাসুল সা. বললেন, আমার আহলে বাইত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আবার জানতে চাইলেন কে আপনাকে কবরে নামাবে? রাসুল সা. বললেন, আমার আহলে বাইত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আবার জানতে চাইলেন কে আপনার জানাজা কে পড়াবে? তখন রাসুল সা.-এর চোখ বেয়ে বেদনার জল নেমে এলো। তিনি বললেন, তোমাদের নাবীর জানাজা এমন হবে না, যেমন তোমাদের হয়। যখন আমার গোসল হয়ে যাবে তখন তোমরা সবাই ঘর থেকে বের হয়ে যাবে। সবার আগে জিবরাইল আমার জানাজা পড়বে।

তারপর মিকাঈল ও ই¯্রাফিল ধারাবাহিকভাবে আরশের অন্যান্য ফেরেশতারা আসবে ও আমার জানাজা পড়বে। তারপরে তোমাদের পুরুষরা, নারীরা এবং শিশুরা আমার জন্য দোয়া ও সালাম পড়বে। অতঃপর তোমরা আমাকে আল্লাহর সোপর্দ করে দিবে। (আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া-৫/২২২, দালায়েলুন নবুয়্যাহ লিলবায়হাককি)

নবীজি সা.-এর জানাজা বিষয়ে আরো দীর্ঘ হাদিস পাওয়া যায় তিরিমিজি শরিফে। সাহাবি হজরত সালেম বিন ওবায়েদ রা. বলেন, আমি প্রথমে হজরত আবু বকর সিদ্দিক রা. কে রাসুলে কারিম সা.-এর ইন্তেকালের সংবাদ দিই ।

তখন আবু বকর সিদ্দিক রা. আমাকে বললেন, তুমি আমার সঙ্গে ভেতরে আসো । সাহাবি হজরত সালেম বিন ওবায়েদ রা. বলেন, হজরত আবু বকর রা. যখন রাসুলের নিকট যেতে চাইলেন, তখন চারপাশে মানুষের প্রচন্ড- ভিড় ।

হজরত আবু বকর রা. লোকদের বললেন, তোমরা আমাকে সামান্য রাস্তা দাও ! লোকেরা ভেতরে যাওয়ার পথ করে দিল ! তিনি ভেতরে গেলেন, মাথা নুইয়ে কাছে গিয়ে নবীজি সা. কে দেখলেন । নবীজির পবিত্র কপালে হজরত আবু বকর রা. চুমু খেলেন । তারপর কোরআনের আয়াত পড়লেন, যার অর্থ হলো, নিশ্চয় তুমিও ইন্তেকাল করবে এবং তারাও ইন্তেকাল করবে । হজরত আবু বকর রা. বেরিয়ে এলে; লোকেরা জানতে চাইলেন, ওগো নবীজির বন্ধু !

নবীজি কি ইন্তেকাল করেছেন ? হজরত আবু বকর রা. বললেন, হ্যা । তখন লোকেরা নবীজির ইন্তেকালের খবর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করলো । তারপর সাহাবায়ে কেরাম হজরত আবু বকর রা. কে জিজ্ঞেস করলেন, ওগো নবীজির বন্ধু ! নবীজির কি জানাজার নামাজ পড়া হবে ? তিনি বললেন, হ্যা । জিজ্ঞাসা করা হল, কিভাবে ? হজরত আবু বকর রা. বললেন, এভাবে যে, এক এক জামাত নবীজির ঘরে প্রবেশ করবে এবং জানাজা পড়ে বেরিয়ে আসবে ।

তারপর অন্য জামাত প্রবেশ করবে । সাহাবারা হজরত আবু বকর রা. কে জিজ্ঞাসা করলেন, নবীজিকে কি দাফন করা হবে ? তিনি বললেন, জি । জিজ্ঞাসা করা হল, কোথায় ? তিনি বললেন, যেখানে আল্লাহ তায়ালা নবীজির রূহ কবজ করেছেন সেখানেই । কেননা, আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয় নবীজিকে এমন স্থানে মৃত্যু দান করেছেন যে স্থানটি উত্তম ও পবিত্র । সাহাবারা দৃঢ়ভাবে মেনে নিলেন হজরত আবু বকর রা.-এর কথা ।

হজরত আবু বকর রা. নিজেই নবীজির আহলে বায়াত তথা রাসুলের পরিবার ও বংশের মানুষদের ডেকে গোসল নির্দেশ দেন । (সূত্র : শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৯, ৩৯৭, শরফুল মুস্তফা, বর্ণনা নং-৮৫০, আল আনওয়ার ফি শামায়িলিন নাবিয়্যিল মুখতার, বর্ণনা নং-১২০৯) ইমাম শাফি রহ. এবং কাজি ইয়াজ রা. বলেন, নবীজি সা.-এর জানাজা পড়া হয়েছে । কিতাবুল উম্মু/ সিরাতে মস্তুফা/৩য় খ-: ২৩৫ পুনশ্চ : নবীজির জানাজা হয়েছে ।

সাহাবারা একা একা পড়েছেন । কেউ ইমামতি করেননি । তবে তাবাকাতে ইবনে সাদের বরাতে বলা হয়, হজরত আবু বকর ও ওমর রা. এক সঙ্গে নবীজি সা.-এর ঘরে উপস্থিত হন । নবীজির দেহ মোবরক সামনে রেখে নামাজ-সালাম ও দুরুদ পেশ করেন । দীর্ঘ দোয়ার সময় পেছনে সারিবদ্ধ সাহাবিরা আমিন আমিন বলেছেন । (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ৫ম খ-: ২৬৫)