আব্দুর রাজ্জাক এর জীবনী

আব্দুর রাজ্জাক ১৫ জুন, ১৯৮২ জন্মগ্রহন করেন। তিনি বাংলাদেশের খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট দলের পক্ষে ২০০১-২০০২ মৌসুমে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন। অভিষেক বর্ষেই রাজ্জাক বামহাতি স্পিনার হিসেবে সকলের নজর কাড়েন এবং নিজ দলকে জাতীয় ক্রিকেট শিরোপা পেতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেন। সেখান থেকে বাংলাদেশ-এ দলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়ে ঢাকায় অণুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ে-এ দলের বিপক্ষে ১৭ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট লাভ করেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃপক্ষ রাজ্জাককে ২০০৪ সালের জুলাই মাসে অণুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে হংকংয়ের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটায়। তিনি দলে নিজেকে তার যথোপযুক্ততা নিয়মিতভাবে প্রকাশ ঘটান; কিন্তু ১ম একাদশে স্থায়ীভাবে আসন গড়তে পারেননি। ২০০৬ সালের মে মাসে আব্দুর রাজ্জাক ২০০৫-২০০৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অণুষ্ঠিত ২য় টেস্টে নিজ অভিষেক ঘটান।

অতীতে ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিং করার সময় রাজ্জাক থ্রো বা চাকতি নিক্ষেপের অভিযোগে বেশ কয়েকবার অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এরই রেশ ধরে ২০০৪ সালে অণুষ্ঠিত এশিয়া কাপের খেলায় আইসিসি’র ম্যাচ রেফারি রোশন মহানামা কর্তৃক তিনি পুণরায় অভিযুক্ত হন এবং তাকে বোলিং ভঙ্গীমা পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। পরবর্তীকালে রাজ্জাক বোলিংয়ে ধরন পরিবর্তন করে বৈধভাবে বোলিং করে আস্থা অর্জন করেন। ফলে, আবারো তিনি নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক দলে ফিরে আসলেও তাড়াতাড়ি তার নিজস্ব ছন্দ খুঁজে পাননি। কিন্তু ধীরে ধীরে পুণরায় তিনি ধারাবাহিকভাবে ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করে জাতীয় দলের একজন নিয়মিত সদস্য খেলোয়াড় হয়ে নিজেকে গড়ে তোলেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশী বোলার হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০ উইকেট নেন।

ওয়ানডে ক্রিকেটে সফলতার পর আব্দুর রাজ্জাক নিজ দেশে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া’র বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক ঘটান। বাংলাদেশের পক্ষে তার ১ম টেস্ট অভিষেকে ১৫ রান করেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র ইনিংসে বোলিংয়ের সুযোগ পেলেও কোন উইকেট নিতে সক্ষম হননি রাজ্জাক। স্বভাবতঃই দল পরাজিত হয়। পরের টেস্ট খেলার সুযোগ আসে দীর্ঘ এক বছর পর শ্রীলঙ্কা’র বিপক্ষে। চামারা সিলভাকে কট আউটের মাধ্যমে তার ১ম উইকেট প্রাপ্তির সুযোগ ঘটে। এছাড়াও তিনি গ্রেইম স্মিথের দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্টের উভয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন; তন্মধ্যে একবার অপরাজিত থাকেন।

আব্দুর রাজ্জাক ২০০৮ সালে অণুষ্ঠিত আইপিএল বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে খেলেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দল তাকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয় এবং একটিমাত্র খেলায় অংশগ্রহণ করায়। ঐ দলের পক্ষে বাকী কোন খেলায় অংশগ্রহণ না করলেও রাজ্জাক বিশ্বাস করেন যে, টুর্ণামেন্টের অভিজ্ঞতাই গুরুত্বপূর্ণ বিচার্য বিষয় এবং তার জন্য পথ ও পাথেয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন যে, টেস্ট ম্যাচে বোলিংয়ের বিষয়ে ভারতীয় তথা বিশ্বসেরা স্পিনার অনিল কুম্বলে তাকে বিরাটভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং অনিলের বোলিং অণুসরণ করতে বলেছেন।

রাজ্জাকের অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্যে ১ম ওডিআইয়ে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫২ রানে পরাজিত করে। খেলায় রাজ্জাক ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। বল হাতে রাজ্জাকের ৩৯ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট লাভ করা ছিল বিপক্ষীয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়দের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের বিরোধের জেরের ফসল। রাজ্জাক এই সিরিজে বাংলাদেশকে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে সহায়তা করেন। ১৫ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যান অব দ্য সিরিজ নির্বাচিত হন।

মানুষরূপী এক নরপিশাচের গল্প: এক ফোন-কলে ভণ্ডুল ১০১ খুন!

দুপুরের পর খুব একটা ঝামেলা থাকে না। চেয়ারে বসেই চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিচ্ছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। একসময় ঘুমিয়েই পড়লেন। বার বার তার মাথাটি পেছন দিকে হেলে যাচ্ছে। তখনই ঘুম ভেঙে যাচ্ছে তার। আবার ঘুমুচ্ছেন, আবার ভাঙছে। ঘুমিয়ে যাওয়া আর ঘুম ভাঙার মধ্যেই চলছে তার বিশ্রাম। পুরোপুরি ঘুম ভেঙে যায় ল্যান্ড-ফোনের কর্কশ রিং-টোনে। সোজা হয়ে বসে রিসিভার তুললেন।

‘হ্যালো! হ্যাঁ এটা ফরিদগঞ্জ থানা, ডিউটি অফিসার বলছি। কে বলছেন প্লিজ। ’ ওপাশ থেকে কিছু একটা শুনেই পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘শুনতে পাচ্ছি না। কোন খাল? বালিথুবায় বিআর খাল? আচ্ছা।

আপনি কে বলছেন? হ্যালো, হ্যালো!’ ওপাশে আর কোনো কথা নেই। ফোন রেখে দিলেন কর্মকর্তাটি। ওয়্যারলেস করলেন। টহল পুলিশকে খালপাড়ে লাশ পড়ে থাকার খবর জানিয়ে দিলেন। টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে খালপাড়ের কাছে প্রচুর মানুষ। তারা নাক চেপে আছে। কচুরিপানার আড়ালে ২০ থেকে ২২ বছরের এক নারীর লাশ পড়ে আছে। মুখে কাপড় গোঁজা। শরীরে সিগারেটের ছেঁকা। লাশ দেখে পুলিশ বুঝতে পারে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। লাশের পরিচয় মেলেনি। কিছু দিন পর আবারও একই ধরনের ফোন-কল। এবার বিলের পাশে! পুলিশ লাশটি উদ্ধার করতে গিয়ে থমকে যায়। কদিন আগে বিলের পাশ থেকে উদ্ধার করা নারীর লাশের দেহে যে ধরনের নির্যাতনের চিহ্ন ছিল, এই মহিলার শরীরেও একই চিহ্ন!

এর কিছু দিন পর আবারও নারীর লাশের খবর! পুলিশকে এবার ভাবিয়ে তোলে। তদন্ত করতে পুলিশ মাঠে নামলেও কোনো কূলকিনারাই করতে পারছে না। এই তদন্তের মধ্যেই পরপর আরও তিন লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ নিজেই আতঙ্কিত। কারণ ছয়জনকেই ধর্ষণের পর একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ নিশ্চিত এটি কোনো সিরিয়াল কিলারের কাজ।

২০০৭ সালে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এমন ছয় নারীর লাশ উদ্ধারের পর অজ্ঞাতনামা থেকে যাচ্ছিল। শ্রেণি-পেশায় মিল ছিল না কোনো লাশের। তবে একটি জায়গায় মিল ছিল, সব লাশই নারীর। ধর্ষণের পর কে বা কারা তাদের খুন করে ফেলে রাখছে। খালে, বিলে, নদীতে মিলছে লাশ। কিন্তু ঘটনার কূলকিনারা করতে না পারায় পুলিশ দিশাহারা।

একে একে নারীর লাশ পড়ছে। না পারছে পুলিশ খুনিকে আটকাতে, না পারছে হতভাগী এসব নারীর পরিচয় বের করতে। এতে ফরিদগঞ্জের ঘরে ঘরে আতঙ্ক। বিশেষ করে নারীরা ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছিলেন না। সন্ধ্যার পর কোনো নারীকেই তখন ঘরের বাইরে দেখা যেত না। সন্ধ্যার পর খাল-বিলের ধারেকাছে কেউ যেতেন না। পুলিশের টহলও বাড়ানো হয়। কিন্তু ২০০৯ সালের মধ্যে সেখানে পাওয়া যায় আরও পাঁচ নারীর লাশ। ভৌতিক পরিস্থিতি সর্বত্র। সর্বশেষ যে নারীর লাশ পাওয়া যায়, শুধু তার পরিচয় মেলে। ওই নারীর নাম পারভীন। বাসা টঙ্গীতে।

২০০৯ সালে ফরিদগঞ্জ থানায় চাকরি করতেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই বছর ২১ জুলাই চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কড়ইতলী গ্রামে একটি খালপাড় থেকে পারভীন নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। তার শরীর ও যৌনাঙ্গে ছিল সিগারেটের ছেঁকা। মুখের ভিতরে শাড়ির অংশ গোঁজা ছিল। ’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম দিকে হত্যাকাণ্ডটি ছিল সূত্রবিহীন। পুলিশ কোনোভাবেই বুঝতে পারছিল না কারা, কী উদ্দেশ্যে ওই নারীকে খুন করেছে। কিন্তু পুলিশের সূত্র মিলে যায় একটি মোবাইল ফোন-কল থেকে। ওই ঘটনার পরদিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইলে ফোন আসে। এক ব্যক্তি নিজেকে রিকশাচালক পরিচয় দিয়ে জানান, যে নারীর লাশ পাওয়া গেছে তাকে আগের দিন বাসস্ট্যান্ড থেকে বহন করে এনেছিলেন।

গ্রামের দুই যুবকের নাম জানিয়ে বলেন, এরা ওই মহিলার সঙ্গে ছিল। পুলিশ ওই দুই যুবককে আটক করে। কিন্তু তাদের কাছে কোনো তথ্য পায় না পুলিশ। মাসখানেক পর তারা জামিনে মুক্ত। ’ হঠাৎ পুলিশের এই কর্মকর্তার মনে পড়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আসা সেই ফোন-কলটির কথা। কিন্তু ফোনটি ছিল বন্ধ। পুলিশ হতাশ। ফোনটি খোলা থাকলেই খোঁজ নেওয়ার জন্য একজন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এক মাস পর ফোনটি খোলা পাওয়া যায়। পুলিশ জানতে পারে ফোনটি ব্যবহার হচ্ছে টঙ্গীতে।

ওই ফোন নম্বরে কল করে পুলিশ জানতে পারে, ফোনটি গাজীপুর বাজারের আখ এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কেনা হয়েছে। পুলিশ আখ ব্যবসায়ী তাজুকে আটক করলে তিনি জানান, ২ আগস্ট রসু খাঁ ও মিজান নামের দুই ব্যক্তি তাদের মসজিদ থেকে ফ্যান চুরি করতে গেলে তিনি ও নৈশপ্রহরী মিলে দুজনকে হাতেনাতে আটক করেন। তখন তিনি রসু খাঁর কাছ থেকে সিমটি কেড়ে নিয়েছিলেন। পরে তিনি সেটি ১০০ টাকায় বিক্রি করে দেন। পুলিশ দিনক্ষণ হিসাব করে নিশ্চিত হয়, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রথম ফোনটি করেছিলেন রসু নিজে। তাজুর দেওয়া সূত্র অনুযায়ী টঙ্গীর মিরাশপাড়া থেকে ৭ অক্টোবর রাতে পুলিশ রসুকে গ্রেফতার করে। প্রথম দিকে রসু কোনো কিছু স্বীকার করেননি। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করলে রসু খাঁ পুলিশকে গালমন্দ করতে থাকেন। পুলিশ জেরা অব্যাহত রাখলে একপর্যায়ে তিনি পারভীন নামের নারীকে খুনের কথা স্বীকার করেন। পুলিশের তখন সন্দেহ হয়। পারভীন খুনের সঙ্গে তো আগের খুনগুলোর হুবহু মিল রয়েছে। তবে কি এই লোক জড়িত? পুলিশের এমন ভাবনায় সুফল পাওয়া যায়। জেরার মুখে রসু একে একে চাঁদপুরে ১১টি খুনের কথা স্বীকার করেন। এরপর আদালতে নেওয়া হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

এর পরের গল্প মানুষরূপী এক অমানুষের : রসু পুলিশি জেরায় বলেছেন, বিয়ের আগে তিনি একটি মেয়েকে ভালোবাসতেন। কিন্তু তার ভাইয়েরা মেরে তার হাত ভেঙে দেন। এর পরই তিনি খুনের পরিকল্পনা করেন। একে একে খুন করতে থাকেন। তিনি পুলিশকে জানান, ‘আমি আমার অপমানের প্রতিশোধ নিতে খুন করি। ১০১ খুনের পর আর খুন করতাম না। আমি সন্ন্যাসী হতাম। মাজারে মাজারে ঘুরতাম। ’

পুলিশ তার কাছ থেকে জানতে পারে, নানা কৌশলে মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তাদের নিয়ে অভিসারে যাওয়ার কথা বলে একের পর এক হত্যা করতেন রসু খাঁ। শুধু খুনেই এই নরপিশাচের প্রতিহিংসার সমাপ্তি ঘটেনি, খুনের আগে ওই নারীদের ধর্ষণও করেন তিনি। রসু খাঁ প্রতিটি ঘটনাই ঘটিয়েছেন খাল, বিল বা নদীর ধারে। প্রথমে তিনি ধর্ষণ করতেন। এরপর সারা শরীরে সিগারেটের ছেঁকা দিতেন। মুখে কাপড় গুঁজে গলা টিপে ধরেন। এরপর পানিতে মাথা ঠেসে ধরে রাখেন। যতক্ষণ নারীটির দেহ থেকে প্রাণ বেরিয়ে না যায় ততক্ষণ রসু পানির নিচেই মাথা ঠেসে ধরে রাখতেন। এসব বর্ণনা তিনি নিজেই দিয়েছেন পুলিশের কাছে।

চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় নরপিশাচ রসু জবানবন্দি দেন। এতে ফরিদগঞ্জে সংঘটিত সব খুনের বর্ণনা দেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২০ জুলাই ফরিদগঞ্জের হাসা গ্রামের একটি খালপাড়ে রসু ও তার ভাগ্নে জহিরুল মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে খুন করেন পারভীন নামের এক নারীকে। এর আগে ২০০৭ সালে ফরিদগঞ্জের ভাটিয়ালপুরে শাহিদা নামে আরেক নারীকে ধর্ষণের পর খুন করেন রসু। একই বছর ফরিদগঞ্জের প্রত্যাশী এলাকায় বন্ধু মানিকের প্রেমিকা আঙ্গুর বেগম বন্ধুর সঙ্গে প্রতারণা করায় ফরিদগঞ্জে এনে তাকে খুন করেন রসু।

২০০৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীতে ভাড়া থাকার সময় পাশের ভাড়াটিয়ার ছোট ভাই শাহিনের সঙ্গে এক মেয়ে প্রতারণা করায় তাকেও ফরিদগঞ্জের হাসা গ্রামে নিয়ে ধর্ষণের পর পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেন রসু। ২০০৭ সালে ওই গ্রামের হোসনে আরা নামে একজন এবং একই বছর বালিথুবায় বিআর খালে পলাশ নামে আরেক নারীকে নির্যাতনের পর হত্যা করেন রসু। ২০০৮ সালের ১৮ ডিসেম্বরে ফরিদগঞ্জের নানুপুর খালপাড়ে নিয়ে ধর্ষণ শেষে খুন করেন ফরিদপুুরের শাহিদাকে। ওই বছর ২৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ বালিয়া গ্রামে এনে খুন করেন কুমিল্লার কোহিনূরকে। ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ উপজেলার দুর্গাদি গ্রামে এনে খুন করা হয় রংপুরের মেয়ে মেহেদীকে। রসুর হাতে খুন হওয়া নারীদের লাশগুলো উদ্ধারের পর পুলিশ অজ্ঞাত বলে চিহ্নিত করলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে মামলা হয়। এর মধ্যে ফরিদগঞ্জ থানায় ৬টি, চাঁদপুর সদর থানায় ৪টি ও হাইমচর থানায় ১টি।

দুই বোনকে বিয়ে : পুলিশ জানায়, রসু বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি সব মেয়েকে একই কায়দায় যৌন নির্যাতন করতেন। তিনি স্ত্রীর আপন ছোট বোনকে বিয়ে করেন। তার প্রথম স্ত্রী মণির এক চোখ অন্ধ ছিল। এরপর তিনি স্ত্রীর ছোট বোন রীনা বেগমকে বিয়ে করেন। কিন্তু প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার আর ছাড়াছাড়ি হয়নি। তবে রীনা পুলিশকে জানান, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় রসু রাস্তা থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। এ নিয়ে গ্রামে শালিসিও হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দুনিয়ার কুখ্যাত সব সিরিয়াল কিলারের হত্যার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে বিশেষ ধরনের বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। চাঁদপুরের সিরিয়াল কিলার রসু খাঁও এর ব্যতিক্রম নন। তিনি খুন করেছেন নারীদের। সেই নারীরা সবাই হতদরিদ্র পরিবারের। এদের একজন ছাড়া সবাইকে তিনি খুনের আগে ধর্ষণ করেছেন। সবাইকে খুন করেছেন রাতের বেলায়। সবাইকে খালের কিনারে নিয়ে খুন করেছেন এবং সবার লাশও ফেলে রেখেছিলেন খালের পাশেই। কোনো খুনের ঘটনার সঙ্গে রসু খাঁ তাকে শনাক্ত করার মতো কোনো চিহ্ন রেখে যাননি।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, তবে চাঁদপুর থানা পুলিশের কাছে একটি মাত্র ফোন-কলই রসু খাঁর ১০১ নারীকে খুন করার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ধরা না পড়লে হয়তো তিনি এভাবেই একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটিয়েই যেতেন। রসুর বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা গ্রামে। নরপিশাচ রসু জেলখানায় বন্দী। বীভৎস সেসব খুনের ঘটনায় তিনি এখন বিচারের মুখোমুখি। চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অরুণাভ চক্রবর্তী একটি হত্যা মামলায় এই সিরিয়াল কিলারের ফাঁসির রায় দিয়েছেন।

ছোট্ট এই দোয়াটি ৭০ বার পড়লেই রিযিকের সব দরজা খুলে যাবে, ইনশাআল্লাহ

পবিত্র কুরআন শরীফ মানব জাতির জীবন পরিচালনার গাইড। মহান আল্লাহ তাআলা মানুষ এবং জিন জাতিকে পৃথিবীতে তার ইবাদাত-বন্দেগি করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এ জীবন পরিচালনার জন্য তিনি গাইডস্বরূপ কুরআনুল কারিম নাজিল করেছেন।

কুরআনের মানুষের সব সমাধান রয়েছে। কুরআনের বিধান পালনের সঙ্গে সঙ্গে কুরআনি আমল করাও মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ইবাদাত কবুলের পূর্বশর্তই হলো হালাল জীবিকা উপার্জন করা। তাই হালাল রিযিক লাভের কুরআনি আমল তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ: আল্লাহু লাতিফুম্ বি-ই’বাদিহি ইয়ারযুকু মাইঁয়্যাশায়ু, ওয়া হুয়াল কাওইয়্যুল আজিজ।

অর্থ: আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা রিযিক দান করেন। তিনি প্রবল, পরাক্রমশালী। (সুরা শুরা : আয়াত ১৯)

আমল: প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে, একনিষ্ঠতার সঙ্গে ৭০ বার এ আয়াত পড়া। যে বা যারা নিয়মিত এ আমল করবে; আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তির রিযিকের দরজা খুলে দেবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তার বিধি-বিধান পালনের সঙ্গে সঙ্গে কুরআনের উল্লেখিত আয়াতে আমলটি নিয়মিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

একজন ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা কীভাবে হয়? রইল মারাত্মক লজ্জাকর তথ্য

সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় আল্ট্রাভায়োলেট আলোর সাহায্যে মেয়েটির শরীর পরীক্ষা করে দেখা হয় তার শরীরের কোনও অংশে বীর্যের কোন চিহ্ন রহেছে কি না।

কীভাবে হয় একজন ধর্ষিতার ডাক্তারি পরিক্ষা? সম্প্রতি ডাক্তার কে এস নারায়ন রেড্ডি,ডাক্তার ও পি মূর্তি তাদের ‘দা এসেন্সিয়ালস অফ ফরেনসিক মেডিসিন এন্ড টক্সিকোলজি’বইতে জানিয়েছেন সেই প্রশ্নের উত্তর। সেই বই থেকে ধর্ষণোত্তর ডাক্তারি পরীক্ষার যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে তা শিউরে ওঠার মতো সেই বই থেকে তুলে দেওয়া হল ১০ টি তথ্য –

১. ডাক্তারি পরীক্ষার সময়ে একটি একটি করে রোগিনীকে তার সমস্ত পোশাক খুলে নিতে হয় একজন ডাক্তারের উপস্থিতিতে। একটি কাগজের টুকরোর উপরে দাঁড়িয়ে এই কাজ করতে হয়, যাতে পোশাক খোলার সময়ে মেয়েটির শরীর থেকে নীচে খসে পড়া যে কোনও কিছু বা সমস্ত কিছু ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা যায়। শরীরে লেগে থাকা রক্ত, বীর্য, কাদা, কিংবা ঘাম— যা কিছু অপরাধের প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে, সংগ্রহ করা হয় মেয়েটির শরীর থেকে।

২. সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় আল্ট্রভায়োলেট আলোর সাহায্যে মেয়েটির শরীর পরীক্ষা করে দেখা হয় তার শরীরের কোনও অংশে বীর্যের কোনও চিহ্ন রয়েছে কি না।

৩. শরীরে তৈরি হওয়া কোনও কাটা, ছড়া বা ছাল উঠে যাওয়ার মতো ক্ষতস্থান— যেগুলি ধস্তাধস্তির ফলে তৈরি হতে পারে, সেগুলিকে খুঁটিয়ে দেখে পরীক্ষা করা হয়।

৪. শরীরের আঘাতপ্রাপ্ত অংশগুলি, বিশেষত যৌন অঙ্গের ক্লোজ আপ ছবি নেওয়া হয়।

৫. মেয়েটির শরীরের কোনও অংশে কতটা চাপ পড়েছে তার উপর নির্ভর করে কী ধরনের ক্ষত তৈরি হবে সেই অংশে। যদি মেয়েটির পিঠে বা কোমরে ছড়ে যাওয়ার দাগ থাকে, তাহলে বুঝতে হবে, মেয়েটিকে কোনও পাথুরে বা শক্ত জমির উপর ফেলে নির্যাতন চালানো হয়েছে। স্তনবৃন্তে কামড় বা অন্য কোনও আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যেতে পারে।

৬.তবে সাধারণ লাঞ্ছিতার ১/৩অংশের শরীরের এই ধরনের কোনও ধস্তাধস্তির চিহ্ন দৃশ্যমান হয় না, কারণ ধর্ষণের সময়ে মেয়েরা ভয়ের চোটে সাধারণত আক্রামণকারী খুব একটা বাধা দেয় না। বিশেষত মেয়েটির মাথায় যদি আগাত করা হয়, তাহলে তার বাধা দেওয়ার ক্ষমতা এবং সাহস কমে যায় অনেকটাই। সেসব ক্ষেত্রে তার শরীরের অন্যান্য অংশে তেমন গুরুতর আঘাতের চিহ্ন আর থাকে না।

৭.মেয়েটির যৌন কেশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয়, সেখানে কোনও পুরুষের যৌন কেশ কিংবা ধুলোবালি ইত্যাদি লেগে রয়েছে কিনা। ধর্ষিতা জীবিত হোক বা মৃত, তার অন্তত ১৫-২০ টি যৌন কেশ সংগ্রহ করা হয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য।

৮. মেয়েটির মাথার চুলও সংগ্রহ করা হয় পরীক্ষার জন্য।

৯.ধর্ষিতার যৌন কেশ কিংবা যৌনির আশেপাশে বীর্যের কোনও লক্ষণ পাওয়া যায় কিনা তা খুটিয়ে দেখা হয়। তুলোর সাহায্যে মেয়েটির যৌনিরস সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য। খুটিয়ে দেখা হয় মেয়েটির সতীচ্ছদের অবস্থাও।

১০. যদি অপরাধ ঘটে থাকে ৪৮ ঘন্টা কিংবা তারও বেশি সময় আগে,তাহলে একটি কাচের রড, তুলো কিংবা স্প্যাটুলার সাহায্যে যৌনির ভিতর থেকে সংগ্রহ করা হয় যৌনিরস। দেখা হয়, তাতে বীর্য কিংবা রক্তের কোনও নমুনা মিলছে কি না।